
কুরআন বা নামাজ নিয়ে খারাপ চিন্তা আসা — করণীয় কী
নামাজে বা কুরআন তেলাওয়াতের সময় হঠাৎ অবমাননাকর চিন্তা এলে ইবাদত বাতিল হয়ে যায় কিনা, আর এই মুহূর্তে ঠিক কী করণীয় তা নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
কুরআন তেলাওয়াত করছেন, বা নামাজে দাঁড়িয়ে আছেন, ঠিক তখনই মাথায় এমন একটা চিন্তা চলে এলো যা মুখে আনতে, এমনকি লিখতেও হাত কাঁপে, আল্লাহর কালাম নিয়ে বা নামাজ নিয়ে অশ্লীল বা অবমাননাকর একটা চিন্তা। তেলাওয়াত থামিয়ে দেবেন, নাকি নামাজ ভেঙে ফেলবেন? এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, এই চিন্তার কারণে ইবাদতটাই বাতিল হয়ে গেল কিনা।
প্রথম কথা, নামাজ বা তেলাওয়াত বাতিল হয়নি
সরাসরি উত্তর হলো, না। তেলাওয়াত বা নামাজ কোনোভাবেই বাতিল হয়নি, নতুন করে অজু বা গোসল করারও দরকার নেই, আয়াতটা আবার পড়ারও প্রয়োজন নেই। একটা হাদিসে এসেছে, অন্তরে অনিচ্ছাকৃতভাবে যা উদয় হয় তার জন্য এই উম্মতকে জবাবদিহি করা হবে না, যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারিত হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে পরিণত হয় (আবু হুরাইরা রাঃ বর্ণিত, সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। আপনি এই চিন্তা মুখে বলেননি, বিশ্বাসও করেননি, শুধু এটা মাথায় ভেসে উঠেছে আর আপনি নিজেই এতে আঁতকে উঠেছেন।
চিন্তা আর বিশ্বাসের পার্থক্য
এখানে বোঝা জরুরি, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা মাথায় আসা আর সেই চিন্তায় বিশ্বাস করা এক জিনিস না। আপনি এই চিন্তা চান না, এটা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন, ঘৃণা করছেন, এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে চিন্তাটা আপনার নিজের বিশ্বাস না, বরং একটা বহিরাগত আক্রমণ যা আপনি প্রত্যাখ্যান করছেন। মন যেমন না চাইতেও নোংরা কোনো দৃশ্য মনে করিয়ে দিতে পারে, ঠিক তেমনি পবিত্রতম বিষয় নিয়েও অবাঞ্ছিত চিন্তা চলে আসতে পারে, বিশেষ করে যখন আপনি সেই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী থাকার চেষ্টা করছেন।
কেন ঠিক তেলাওয়াত বা নামাজের সময়ই
লক্ষ করলে দেখবেন এই চিন্তা এলোমেলো সময়ে আসে না, আসে ঠিক তখনই যখন আপনি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছেন। এটা কাকতালীয় না, যে কাজে আপনার আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি সেই কাজটাকেই বিষাক্ত করে তুলতে পারলে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়, তাই এই আক্রমণ ঠিক সেজদার মুহূর্তে বা সবচেয়ে প্রিয় আয়াতটা পড়ার সময়েই আসে। এটা বোঝা মাত্রই অনেকটা স্বস্তি আসে, কারণ তখন বোঝা যায় সমস্যাটা আপনার ঈমানে না, বরং সময় বেছে নেওয়ার একটা কৌশলে।
করণীয়
চিন্তাটা এলে থেমে যাবেন না, তর্কেও জড়াবেন না। মনে মনে আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম পড়ে তেলাওয়াত বা নামাজ চালিয়ে যান, ঠিক যেখানে ছিলেন সেখান থেকেই। চিন্তাটা কেন এলো, এর অর্থ কী, এসব বিশ্লেষণ করতে বসবেন না, যত বেশি বিশ্লেষণ করবেন ততই এটা ফিরে আসার সুযোগ পাবে। বরং সচেতনভাবে মনোযোগ আয়াতের অর্থে বা নামাজের শব্দে ফিরিয়ে আনুন, একবার-দুইবার মনোযোগ হারালেও নিজেকে দোষারোপ না করে আবার ফিরে আসুন।
বারবার হলে
যদি এই ধরনের চিন্তা প্রতি ওয়াক্তে, প্রতি তেলাওয়াতেই ফিরে আসতে থাকে এবং দিনের অনেকটা সময় এই দুশ্চিন্তায় কেটে যায়, তাহলে এটা কেবল সাময়িক ওয়াসওয়াসা না থেকে একটা স্থায়ী প্যাটার্নে পরিণত হয়ে যাচ্ছে, এমন অবস্থায় রুকইয়াহর পাশাপাশি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নও নেওয়া উচিত, কারণ আমল আর চিকিৎসা একসাথে চললে ফল অনেক বেশি স্থায়ী হয়।
এই চিন্তা নিয়ে লজ্জায় চুপ করে না থেকে কথা বলুন। আল-শিফায় নিয়মিত পরামর্শ ৪৯৯ টাকায়, রাত ৭টা থেকে ১১টার জরুরি সেশন ৯৯৯ টাকায়, ওয়েবসাইটে বুকিং করে বাংলা কিউআরে পেমেন্টের পর হুজুরের সাথে সরাসরি কথা বলা যায়।
যে চিন্তা আপনাকে কাঁপিয়ে দেয়, সেই চিন্তাই প্রমাণ করে আপনি তা বিশ্বাস করেন না, বিশ্বাস করলে এভাবে কষ্ট পেতেন না।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- শিশুদের মধ্যে ওয়াসওয়াসা বা OCD-এর লক্ষণ চেনার উপায়
- তালাক দিয়ে ফেলেছি কিনা এই সন্দেহ (ওয়াসওয়াসা) — ইসলামিক সমাধান
- রোজার নিয়ত নিয়ে বার বার সন্দেহ হওয়া — করণীয়
- গোসলের ওয়াসওয়াসা — কারণ ও সমাধান
- অস্থিরতা ও মানসিক চাপ কমানোর ইসলামিক উপায়
- ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের করণীয়
https://alshifa.bd/blog/blasphemous-thoughts-about-quran-waswasa