
শিশুদের মধ্যে ওয়াসওয়াসা বা OCD-এর লক্ষণ চেনার উপায়
সন্তান বারবার একই ধর্মীয় প্রশ্ন করছে বা একই কাজ বারবার করছে? স্বাভাবিক ধর্মীয় কৌতূহল আর শিশুদের ওয়াসওয়াসা বা OCD-এর পার্থক্য চেনার উপায় জানুন।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
আপনার দশ বছরের ছেলে অজু করতে বাথরুমে ঢুকেছে পনেরো মিনিট আগে, এখনো বের হয়নি। মেয়ে নামাজ পড়তে পড়তে থেমে যাচ্ছে, জিজ্ঞেস করছে, আম্মু আমি কি ঠিকমতো নিয়ত করেছি নাকি গুনাহ হয়ে গেল। প্রথমবার শুনলে মনে হবে সন্তান দ্বীনের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠছে, ভালো লক্ষণ। কিন্তু একই প্রশ্ন যদি প্রতিদিন দশবার ফিরে আসে, একই কাজ যদি বারবার করতে হয়, তাহলে বিষয়টা নিছক দ্বীনদারি না, ওয়াসওয়াসা বা OCD-ঘরানার একটা লক্ষণ হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখে বোঝা যায়
- একই কাজ, হাত ধোয়া, অজু, তাকবির বলা, বারবার করা, একবারে সন্তুষ্ট না হওয়া।
- আমি কি গুনাহ করে ফেলেছি জাতীয় প্রশ্ন দিনে বহুবার করা, উত্তর পেলেও কিছুক্ষণ পর আবার একই প্রশ্ন করা।
- নির্দিষ্ট শব্দ, সংখ্যা বা কাজ এড়িয়ে চলা, যেমন কোনো খারাপ শব্দ মনে এলে থুতু ফেলা বা নির্দিষ্টভাবে হাত ঝাড়া।
- নামাজ বা অজুতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগা, বা দেরি হওয়ার ভয়ে ইবাদত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা।
- সামান্য ভুলেও কান্না, তীব্র অপরাধবোধ বা নিজেকে খারাপ ছেলে-মেয়ে ভাবা।
স্বাভাবিক কৌতূহল আর ওয়াসওয়াসার পার্থক্য
যে বয়সে শিশুরা প্রথম নামাজ-অজুর নিয়ম শিখছে, তখন মাঝেমধ্যে প্রশ্ন করা, ভুল হলো কিনা জিজ্ঞেস করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, এটাই শেখার স্বাভাবিক ধাপ। পার্থক্যটা তৈরি হয় পুনরাবৃত্তি আর কষ্টের মাত্রায়। স্বাভাবিক কৌতূহলে শিশু একবার উত্তর পেলে সন্তুষ্ট হয়ে এগিয়ে যায়, ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত শিশু উত্তর পেয়েও কিছুক্ষণ পর একই প্রশ্ন আবার করে, উত্তরে সাময়িক স্বস্তি পেলেও সন্দেহ পুরোপুরি যায় না।
কোন বয়সে বেশি দেখা যায়
সাধারণত সাত থেকে বারো বছর বয়সে, যখন শিশু প্রথমবারের মতো নামাজ-রোজার দায়িত্ব বুঝতে শুরু করে এবং ঠিকমতো করতে হবে এই চাপ অনুভব করে, তখন এই প্যাটার্ন বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে ইবাদতের নিখুঁততা নিয়ে কড়াকড়ি বা বকাঝকার পরিবেশ আছে, সেখানে শিশু মনে করে একটু ভুল হলেই বড় শাস্তি হবে, ফলে বারবার নিশ্চিত হতে চায়।
বাবা-মা যেসব ভুল করে ফেলেন
সন্তানকে এত প্রশ্ন করো কেন, বিরক্ত করো না বলে থামিয়ে দেওয়া, বা তুমি কি পাগল হয়ে গেছ জাতীয় মন্তব্য করা সমস্যাটা লুকিয়ে ফেলে, সমাধান করে না। আবার উল্টো দিকে, প্রতিবার আশ্বস্ত করে না গুনাহ হয়নি বলাটাও দীর্ঘমেয়াদে সন্তানকে বারবার জিজ্ঞাসা করার অভ্যাসেই আরও অভ্যস্ত করে তোলে। আত্মীয়স্বজনের সামনে সন্তানের এই আচরণ নিয়ে হাসাহাসি বা আলোচনা করাও এড়িয়ে চলা উচিত, এতে শিশুর লজ্জা আরও বাড়ে।
করণীয়
শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন এই চিন্তাগুলো তার দোষ না, আর একবার সঠিকভাবে কাজ করলেই তা কবুল হয়ে যায়, বারবার করার দরকার নেই। ধীরে ধীরে একবার করলেই যথেষ্ট এই নীতি অভ্যাসে পরিণত করতে সাহায্য করুন, তাড়াহুড়ো না করে। যদি এই লক্ষণ কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, স্কুলে বা খেলাধুলায় প্রভাব ফেলে, তাহলে দেরি না করে শিশুদের নিয়ে কাজ করেন এমন একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোবিজ্ঞানীর সাথে বসুন, ছোট বয়সে দ্রুত শনাক্ত হলে এই প্যাটার্ন সামলানো তুলনামূলক সহজ হয়।
সন্তানের এই ধরনের আচরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকলে আল-শিফায় পরিবারসহ পরামর্শ নিতে পারেন। নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪৯৯ টাকা, জরুরি প্রয়োজনে রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইট থেকে বুক করা যায়, বাংলা কিউআরে পেমেন্টের পর হুজুরের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।
একটা শিশু যখন বারবার জিজ্ঞেস করে গুনাহ হয়ে গেল কিনা, তখন তার দরকার আরেকটা উত্তর না, দরকার একজন শান্ত অভিভাবকের হাত।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স