কুফরি বা অবাঞ্ছিত চিন্তা মনে আসলে করণীয়

কুফরি বা অবাঞ্ছিত চিন্তা মনে আসলে করণীয়

আল্লাহ বা রাসূলকে নিয়ে ভয়ংকর, অবাঞ্ছিত চিন্তা মনে আসছে আর নিজেকে কাফের মনে হচ্ছে? জানুন সাহাবীদের অভিজ্ঞতা, হাদিসের সুসংবাদ এবং এই ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির সঠিক পথ।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

রাত দুইটা, ঘরের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ মাথায় এমন একটা চিন্তা চলে এলো যা লিখতেও হাত কাঁপে, আল্লাহকে নিয়ে একটা ভয়ংকর, অবমাননাকর কথা। সাথে সাথে বুকের ভেতর একটা ধাক্কা লাগল, উঠে বসলেন, বুক ধড়ফড় করছে, মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে ঈমান বুঝি চলে গেছে, কাফের হয়ে গেছেন। রাতের অন্ধকারে একা একা এই আতঙ্ক নিয়ে বসে থাকা, কাউকে বলতেও পারছেন না লজ্জায়, এই অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে তারা জানেন এটা কতটা ভয়ংকর মনে হতে পারে। অথচ জেনে রাখা দরকার, এই ধরনের চিন্তা নিয়ে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের সাহাবীরাও তাঁর কাছে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন।

সাহাবীদের অভিজ্ঞতা আর রাসূলুল্লাহর জবাব

সাহাবীরা এসে বললেন, আমাদের মনে এমন কিছু চিন্তা আসে যা মুখে উচ্চারণ করাও আমরা মহাপাপ মনে করি। রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি সত্যিই এমন অনুভব করো। তারা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন একটা কথা যা আজও এই সমস্যায় ভোগা প্রতিটা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

ক্বালু, উয়া কাযা সারীহুল ঈমান — অর্থ: তারা বলল, (আমরা মনে এমন চিন্তা অনুভব করি)। তিনি বললেন, এটাই সুস্পষ্ট ঈমানের প্রমাণ। (সহীহ মুসলিম, আবু হুরাইরা রাঃ বর্ণিত)

এই হাদিসের গুরুত্ব বোঝা দরকার। যে চিন্তা আপনাকে আতঙ্কিত করে, যা নিয়ে আপনি নিজেই ঘৃণা অনুভব করেন, তা আপনার নিজের বিশ্বাস না, বরং একটা বহিরাগত আক্রমণ যা আপনি ভেতর থেকে প্রত্যাখ্যান করছেন। যদি সত্যিই আপনার ঈমান দুর্বল হতো বা আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসা কম থাকত, তাহলে এই চিন্তা আপনাকে এতটা কষ্ট দিতোই না, বরং স্বাভাবিক বা তুচ্ছ মনে হতো, কোনো প্রতিক্রিয়াই তৈরি হতো না। কষ্ট পাওয়া, আতঙ্কিত হওয়া, এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে ভেতরে ঈমান সজীব ও সক্রিয়।

কেন ঠিক আল্লাহ ও রাসূলকে নিয়েই এই আক্রমণ

শয়তানের কৌশল সবসময় একই, সবচেয়ে পবিত্র, সবচেয়ে প্রিয় বিষয়টাকেই বিষাক্ত করে তোলা। একজন মুমিনের কাছে আল্লাহ ও রাসূলের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই, তাই এই জায়গাতেই আক্রমণ করলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেওয়া যায়। এটা অনেকটা এমন, কারো সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির নামে যদি কেউ কুৎসিত কিছু বলার চেষ্টা করে, প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় প্রচণ্ড কষ্ট আর প্রত্যাখ্যান, বিশ্বাস না। এই চিন্তা তাই ঈমানের অভাবের লক্ষণ না, বরং উল্টো, ঈমান যত গভীর, শয়তানের আক্রমণও তত তীব্র হয়। এই কারণেই দেখা যায়, যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন, দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা করেন, তাদের মধ্যেই এই ধরনের চিন্তা বেশি রিপোর্ট হয়, আর যারা ধর্মের প্রতি একেবারেই উদাসীন তাদের এই নিয়ে মাথাব্যথাই থাকে না।

চিন্তা মাথায় আসা আর সেই চিন্তা বিশ্বাস করা এক জিনিস না

এই পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি। মস্তিষ্ক প্রতিদিন হাজারো এলোমেলো চিন্তা তৈরি করে, তার সবগুলোকে আমরা নির্বাচন করি না, বেশিরভাগ এমনিই চলে আসে আর চলে যায়। ঠিক যেমন কারো মাথায় হঠাৎ উঁচু জায়গা থেকে লাফ দেওয়ার চিন্তা আসতে পারে অথচ সে লাফ দিতে চায় না, তেমনি পবিত্রতম বিষয় নিয়েও অবাঞ্ছিত চিন্তা চলে আসতে পারে যা মনের প্রকৃত বিশ্বাসের প্রতিফলন না। বিশ্বাস তখনই ধর্তব্য হয় যখন মানুষ সচেতনভাবে সেই চিন্তা গ্রহণ করে, মুখে স্বীকার করে বা সেই অনুযায়ী কাজ করে। শুধু মাথায় ভেসে ওঠা আর তা নিয়ে কষ্ট পাওয়া কখনোই ঈমান হারানোর প্রমাণ না।

এই চিন্তা কি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা বা শাস্তি

অনেকে এই চিন্তার পেছনে নিজের কোনো গোপন পাপকে দায়ী করেন, ভাবেন হয়তো কোনো অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে আল্লাহ এই কষ্ট দিচ্ছেন। এই ধারণাটা ভুল এবং অহেতুক বাড়তি অপরাধবোধ তৈরি করে। ওয়াসওয়াসা মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে আসা একটা আক্রমণ, যা ভালো-মন্দ নির্বিশেষে যেকোনো মুমিনের উপর আসতে পারে, বরং ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা বলে যারা ইবাদতের ব্যাপারে বেশি যত্নশীল ও সংবেদনশীল, তাদের উপরেই এই আক্রমণ বেশি হয়। এটা শাস্তি না, বরং একটা পরীক্ষা, যেখানে ধৈর্য ধরে তা প্রত্যাখ্যান করাটাই আসল সফলতা।

মসজিদে বা দোয়ার সময় হঠাৎ এই চিন্তা এলে

অনেকের ক্ষেত্রে এই চিন্তা ঠিক তখনই আসে যখন তারা দোয়া করছেন, মসজিদে বসে আছেন, বা কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এটা কাকতালীয় না, বরং শয়তানের একটা সচেতন কৌশল, যে মুহূর্তে মানুষ সবচেয়ে বেশি আন্তরিক থাকে ঠিক সেই মুহূর্তকেই বিষাক্ত করে তোলা। এমন পরিস্থিতিতে দোয়া বন্ধ করে দেওয়ার বা মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দরকার নেই, বরং চিন্তাটা এলে-গেলে দোয়া বা মজলিসে মনোযোগ অক্ষুণ্ণ রাখাই সঠিক প্রতিক্রিয়া।

পরিবার ও কাছের মানুষের ভূমিকা

যদি কেউ আপনাকে এই ধরনের চিন্তার কথা বলেন, প্রথম প্রতিক্রিয়া যেন কখনো ভয় দেখানো বা ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার হুমকি না হয়। তুমি কি আল্লাহকে বিশ্বাস করো না জাতীয় প্রশ্ন তাকে আরও গভীর আতঙ্কে ফেলে দেবে। বরং শান্তভাবে শোনা এবং জানানো যে এই অভিজ্ঞতা সাহাবীদেরও হয়েছিল, এটাই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। পরিবারের সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া অনেক সময় প্রথম ধাপেই আতঙ্কের মাত্রা অনেকখানি কমিয়ে দেয়, আর তাকে একা লজ্জায় গুটিয়ে থাকা থেকে রক্ষা করে। বাড়ির বড়দের মনে রাখা উচিত, এই মুহূর্তে সন্তান বা স্বজনের সবচেয়ে বেশি দরকার একজন ধৈর্যশীল শ্রোতা, উপদেশের বন্যা বা ভয়ের উপদেশ না।

এই মুহূর্তে যা করবেন

  • চিন্তাটা এলে থেমে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে বসবেন না, এটা কেন এলো, এর অর্থ কী, এসব প্রশ্নে জড়াবেন না।
  • মনে মনে বলুন আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম এবং সাথে সাথে অন্য কোনো কাজে বা চিন্তায় মনোযোগ সরিয়ে নিন।
  • মুখে স্পষ্টভাবে বলুন, আমানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি, আমি ঈমান আনলাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি, এবং বিষয়টা সেখানেই ছেড়ে দিন।
  • একই চিন্তা যদি আবার ফিরে আসে, প্রতিবার নতুন করে ভয় না পেয়ে জেনে রাখুন এটা পরিচিত একটা আক্রমণ, নতুন কোনো সংকট না।
কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ — অর্থ: বলো, তিনিই আল্লাহ, একক সত্তা। (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১)

সূরা আল-ইখলাস নিয়মিত তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন, বিশেষত এই চিন্তা এলে বা রাতে ঘুমানোর আগে। এই সূরা তাওহীদের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ পরিপূর্ণ ঘোষণা, আর নিয়মিত পাঠে অন্তরে আল্লাহর একত্বের প্রতি দৃঢ়তা তৈরি হয়, যা এই ধরনের ওয়াসওয়াসার বিপরীতে একটা প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

প্রকৃত সন্দেহ আর ওয়াসওয়াসার পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন

এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ও করণীয় দুই ক্ষেত্রে ভিন্ন। ওয়াসওয়াসায় মানুষ চিন্তাটা চায় না, এটা নিয়ে কষ্ট পায়, লজ্জিত বোধ করে, আর এটা প্রতিরোধ করতে সচেষ্ট থাকে। অন্যদিকে প্রকৃত আকীদাগত সংশয় হলে মানুষ সচেতনভাবে প্রশ্ন তোলে, যুক্তি খোঁজে, এবং সেই সংশয় নিয়ে অস্বস্তির বদলে বরং একটা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রহ অনুভব করে। যদি আপনি সত্যিই ইসলামের কোনো মৌলিক বিষয় নিয়ে যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন খুঁজছেন এবং উত্তর জানতে চাইছেন, সেটা ভিন্ন বিষয়, এক্ষেত্রে একজন জ্ঞানী আলেমের সাথে খোলামেলা আলোচনা করা উপকারী। কিন্তু যদি অবাঞ্ছিত, অস্বস্তিকর চিন্তা বারবার জোরপূর্বক মাথায় ঢুকে পড়ে আর আপনি তা প্রত্যাখ্যান করতে চান, সেটা ওয়াসওয়াসা, আর তার সমাধান যুক্তিতর্কে না, বরং উপেক্ষা ও আশ্রয় প্রার্থনায়।

অতিরিক্ত অপরাধবোধ ও লজ্জা যেভাবে সমস্যা বাড়িয়ে দেয়

এই চিন্তার পর অনেকে নিজেকে দোষারোপ করতে শুরু করেন, নিজেকে ভণ্ড বা মুনাফিক ভাবতে থাকেন, বারবার তওবা করেন একই বিষয়ে, এমনকি গোসল করে নতুন করে কালেমা পড়েন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে সমস্যাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, কারণ প্রতিটা বাড়তি প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় এই চিন্তাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক, ফলে মস্তিষ্ক একে আরও বেশি বার তৈরি করতে থাকে। একবার তওবা ও আশ্রয় প্রার্থনা যথেষ্ট, বারবার পুনরাবৃত্তির দরকার নেই। যিনি দিনে বিশবার একই বিষয়ে তওবা করেন, তার তওবা দুর্বল না, বরং তার ওয়াসওয়াসা তীব্র, এই পার্থক্যটা নিজেকে বোঝাতে পারলে অহেতুক অপরাধবোধের ভার অনেকখানি হালকা হয়।

নামাজ, রোজা বা অন্যান্য ইবাদতে প্রভাব

অনেকে এই চিন্তার ভয়ে নামাজ পড়া কমিয়ে দেন, ভাবেন এত বড় খারাপ চিন্তা মাথায় আসার পর নামাজে দাঁড়ানোর যোগ্যতা নেই। এই চিন্তা সম্পূর্ণ ভুল, কারণ প্রত্যেক নবী-রাসূলের উম্মতের মধ্যেই মানুষ ভুল করেছে, পাপ করেছে, তারপরও আল্লাহর দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং এই মুহূর্তেই নামাজ, তওবা ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ইবাদত থেকে দূরে সরে যাওয়া শয়তানেরই লক্ষ্য, কারণ সে জানে ইবাদত থেকে দূরত্ব বাড়লে তার প্রভাব আরও গভীর হবে।

কখন পেশাদার সাহায্য প্রয়োজন

যদি এই ধরনের চিন্তা প্রতিদিন বহুবার ফিরে আসে, প্রতিটি ফিরে আসায় নতুন করে কালেমা পড়া বা গোসল করার প্রয়োজন মনে হয়, দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয়, বা এই চিন্তা নিয়ে আত্মহত্যার মতো চরম হতাশা তৈরি হয়, তাহলে এটা একা সামলানোর পর্যায়ে নেই। এই ধরনের পুনরাবৃত্ত অবাঞ্ছিত চিন্তা স্ক্রুপুলোসিটি নামে পরিচিত একটা OCD-ঘরানার সমস্যা হতে পারে, যেখানে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে অবসেসিভ চিন্তা তৈরি হয়। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বিশেষত যিনি ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বোঝেন, এমন কারো কাছে মূল্যায়ন করানো জরুরি। এক্ষেত্রে আলেম ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ উভয়ের সাথে সমান্তরালভাবে যোগাযোগ রাখা সবচেয়ে কার্যকর পথ, একজন ধর্মীয় দিক নিশ্চিত করবেন, অন্যজন মস্তিষ্কের এই প্যাটার্ন ভাঙতে চিকিৎসা দেবেন। বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন যদি এই চিন্তার সাথে ঘুমহীনতা, খাওয়ায় অনীহা, বা নিজের ক্ষতি করার ইচ্ছা যুক্ত হয়, কারণ তখন বিষয়টা কেবল ওয়াসওয়াসার সীমায় থাকে না, বরং একটা গুরুতর মানসিক সংকটে রূপ নেয় যার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের হস্তক্ষেপ জরুরি। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি এই ধরনের ধর্মকেন্দ্রিক অবসেসিভ চিন্তায় বিশেষভাবে কার্যকর প্রমাণিত, আর অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প মেয়াদে ওষুধও সহায়ক হতে পারে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।

সততার সাথে বলা প্রয়োজন

প্রশান্তি একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, এই লেখা তার বিকল্প না এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসকের পরামর্শেরও বিকল্প না। চিন্তা যদি তীব্র, ঘন ঘন বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টিকারী হয়, তাহলে অবশ্যই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। এখানে কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ বা তদবির-শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া আমলের কথা বলা হয়নি, বরং হাদিসে বর্ণিত সাহাবীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও রাসূলুল্লাহর সরাসরি নির্দেশনার কথাই বলা হয়েছে। প্রতিটা মানুষের উন্নতির গতি ভিন্ন, কারো দ্রুত উপকার হয়, কারো ধৈর্য ধরে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে সঠিক দিকে চেষ্টা চালিয়ে গেলে এই আতঙ্ক ধীরে ধীরে কমে আসে। মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি এই চিন্তায় ভুগেও নিয়মিত নামাজ পড়েন, আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং ভালো কাজ চালিয়ে যান, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন সংগ্রামী মুমিন, পরাজিত কেউ না। এই সংগ্রামটাই আল্লাহর কাছে মূল্যবান, ফলাফল যত ধীরেই আসুক না কেন।

এই ধরনের চিন্তা নিয়ে একা একা লজ্জায় ভুগবেন না। আল-শিফায় নিয়মিত পরামর্শের জন্য ৪৯৯ টাকায়, জরুরি প্রয়োজনে রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যায়, বাংলা কিউআরে পেমেন্টের পর হুজুরের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/blasphemous-thoughts-waswasa


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ