
বাচ্চাদের অস্বাভাবিক কান্না ও আচরণ পরিবর্তনের পেছনে কি জাদুর প্রভাব থাকতে পারে?
শিশু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েও কারণ না মেলা সন্তানের রাতের কান্না বা কারো প্রতি অকারণ ভয় কখন স্বাভাবিক আর কখন জাদুর সন্দেহ করবেন। হাসান-হুসাইনের জন্য নবীজির দোয়াসহ করণীয় জানুন।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
দুই বছরের বাচ্চাটা সন্ধ্যা নামলেই কান্না শুরু করে, কোনো কারণ ছাড়াই। মা কোলে নিলেও থামে না, খাওয়ালেও থামে না, শুধু কাঁদতেই থাকে যতক্ষণ না ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যেও প্রায়ই চমকে উঠে কাঁদতে শুরু করে, যেন কিছু একটা দেখে ভয় পেয়েছে, ছোট্ট শরীরটা ঘামে ভিজে যায়। আরেকটা পরিবারে দেখা যায়, চার বছরের শিশু হঠাৎ তার নানীকে দেখলেই ভয়ে দৌড়ে মায়ের কোলে লুকিয়ে পড়ে, জোরে জোরে কাঁদতে থাকে, অথচ আগে তাদের সম্পর্ক ছিল খুবই স্বাভাবিক এবং ঘনিষ্ঠ— নানী আসলেই বাচ্চাটা আগে খুশিতে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরত। শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছে, কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। রক্ত পরীক্ষা, কানের পরীক্ষা— সবকিছুতেই রিপোর্ট স্বাভাবিক। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাবা-মায়ের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— এর পেছনে কি অন্য কোনো কারণ আছে?
প্রথমেই যা যাচাই করা জরুরি
শিশুদের অস্বাভাবিক কান্না ও আচরণ পরিবর্তনের পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক বা মানসিক কারণ থাকে। দাঁত ওঠার ব্যথা, কানের সংক্রমণ, পেটে গ্যাসের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, বা পারিবারিক পরিবেশে উত্তেজনা-ঝগড়া— এসব কারণে শিশুরা অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। শিশুরা বড়দের তুলনায় অনেক বেশি স্পর্শকাতর, এবং বাড়িতে কোনো টেনশন থাকলে তা তারা কথায় প্রকাশ করতে না পারলেও আচরণে প্রকাশ করে ফেলে। এমনকি মায়ের মানসিক অবস্থা— যেমন প্রসব-পরবর্তী দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস— শিশুর মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে, কারণ ছোট শিশুরা মায়ের শারীরিক ভাষা ও কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন খুব দ্রুত ধরতে পারে। তাই প্রথম ধাপ হিসেবে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো, এবং প্রয়োজনে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারে যদি সম্প্রতি কোনো বড় পরিবর্তন ঘটে থাকে— নতুন ভাইবোনের জন্ম, বাসা বদল, বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধ, বা কোনো নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু— তাহলে সেই পরিবর্তনের সাথে শিশুর আচরণ পরিবর্তনের সময়টা মিলিয়ে দেখাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ শিশুরা প্রায়ই বড় পারিবারিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া এভাবেই প্রকাশ করে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জাদু ও জ্বিনের বাস্তবতা
ইসলামে জাদু ও জ্বিনের অস্তিত্ব একটা প্রতিষ্ঠিত বিষয়, এবং এরা শিশুদের প্রভাবিত করতে পারে বলেও বহু বর্ণনায় এসেছে। শিশুরা যেহেতু নিজেদের সুরক্ষার জন্য দোয়া-জিকির করতে পারে না, তাই তাদের অভিভাবকদের দায়িত্ব হয়ে যায় তাদের জন্য নিয়মিত সুরক্ষামূলক দোয়া পড়া। সূরা আন-নাসে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শিখিয়েছেন কীভাবে ফিসফিসিয়ে কুমন্ত্রণা দানকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে হয়—
"মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস, আল্লাযি ইউওয়াসবিসু ফি সুদূরিন নাস, মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস" — কুমন্ত্রণাদাতা, যে পিছিয়ে যায়, তার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জ্বিন থেকে হোক বা মানুষ থেকে হোক। (সূরা আন-নাস, আয়াত ৪-৬)
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, শয়তানি প্রভাব শুধু জ্বিনের মাধ্যমেই নয়, মানুষের মাধ্যমেও আসতে পারে— অর্থাৎ হিংসাপরায়ণ কোনো মানুষের করা জাদুও এই একই বিভাগে পড়ে। শিশুরা যেহেতু নিজেরা প্রতিরোধ করতে পারে না, তাই তাদের জন্য এই সূরা নিয়মিত পড়ে ফুঁ দেওয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিশুদের সুরক্ষায় নবীজির নিজস্ব অভ্যাস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তাঁর নাতি হযরত হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে একটা নির্দিষ্ট দোয়া দিয়ে সুরক্ষা করতেন, যা সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে—
"উ'ইযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি, মিন কুল্লি শাইতানিও ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ" — আমি তোমাদের দুজনকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় দিচ্ছি প্রতিটি শয়তান ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে, এবং প্রতিটি অনিষ্টকর নজর থেকে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৭১)
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, সন্তানের জন্য নিয়মিত সুরক্ষামূলক দোয়া পড়া নবীজির নিজেরই একটা প্রিয় অভ্যাস ছিল। যে বাবা-মা প্রতিদিন এই দোয়া সন্তানের জন্য পড়েন, তারা প্রকৃতপক্ষে একটা প্রমাণিত সুন্নাহ পালন করছেন, যা কোনো লোকজ কুসংস্কারের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী সুরক্ষা।
কোন লক্ষণগুলো আলাদাভাবে খেয়াল করা উচিত
নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি অস্বাভাবিক ভীতি
যদি শিশু হঠাৎ কোনো নির্দিষ্ট মানুষকে দেখলেই তীব্র ভয় পায় বা কান্না শুরু করে, অথচ আগে সেই মানুষের সাথে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল, এবং শিশুর সাথে কোনো খারাপ ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায় না, তাহলে এই প্যাটার্নটা মনোযোগ দাবি করে। এখানে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে যে এটা শিশু নির্যাতনের ইঙ্গিতও হতে পারে, তাই প্রথমেই এই সম্ভাবনা যাচাই করা জরুরি— শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা, বা সেই ব্যক্তির সাথে একা থাকার সময় শিশুর আচরণে অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায় কিনা। এই যাচাই প্রক্রিয়াটা যত অস্বস্তিকর ও কষ্টদায়কই মনে হোক না কেন, সন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে তা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
নির্দিষ্ট সময়ে বারবার একই আচরণ
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে (যেমন মাগরিবের সময় বা মধ্যরাতে) কান্না বা অস্থিরতা শুরু হওয়া, এবং এই প্যাটার্ন সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা একটা লক্ষণীয় বিষয়। ইসলামি ঐতিহ্যে মাগরিবের সময় শয়তানের বিচরণ বেশি থাকে বলে হাদীসে উল্লেখ আছে, তাই এই সময়ে শিশুদের ঘরে রাখা এবং দরজা-জানালা বন্ধ রাখার নির্দেশনা এসেছে। যেসব পরিবারে সন্ধ্যার এই সময়টায় দরজা-জানালা খোলা রেখে বাচ্চাদের বাইরে খেলতে দেওয়া হয়, সেখানে এই সুন্নাহ মেনে চলাটা একটা সহজ কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।
খাওয়া-ঘুমে হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন
হঠাৎ খাবারে অনীহা, বা রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার চিৎকার দিয়ে জেগে ওঠা, যা কোনো চিকিৎসাগত কারণে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না— এই ধরনের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণযোগ্য, তবে এখানেও প্রথমে শারীরিক কারণ বাতিল করাটা জরুরি।
একা একা কথা বলা বা অস্বাভাবিক হাসি-খেলা
ছোট শিশুদের একা একা খেলার সময় কল্পনার বন্ধুর সাথে কথা বলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিকাশের একটা অংশ, তাই এই আচরণ দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে যদি এই "একা কথা বলা" রাতের অন্ধকারে ভীতিকরভাবে ঘটে, শিশুর কণ্ঠস্বরে বা মুখভঙ্গিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, বা শিশু কাউকে "ওই লোকটা" বলে ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট বর্ণনা দেয় যা তার বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক রকম বিস্তারিত, তাহলে এই বিষয়টা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
একটু বড় শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্ন লক্ষণ
স্কুলগামী শিশুদের ক্ষেত্রে জাদু বা জ্বিনের প্রভাবের লক্ষণগুলো একটু ভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। হঠাৎ পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, আগে যে বিষয়ে ভালো ফলাফল করত সেখানে হঠাৎ ব্যাপক অবনতি, কুরআন শিক্ষার ক্লাসে যেতে হঠাৎ তীব্র অনীহা বা কান্নাকাটি, বা নামাজের সময় হলেই পেটব্যথা-মাথাব্যথার অভিযোগ করা— এই ধরনের পরিবর্তনগুলোও লক্ষ্য করার মতো, যদিও এখানেও প্রথমে স্কুলে বুলিং, শিক্ষকের আচরণ, বা পড়ার চাপের মতো বাস্তব কারণ যাচাই করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় শিশুটি নিজে থেকেই বলতে পারছে না কী তাকে বিরক্ত করছে, শুধু একটা অস্বস্তি অনুভব করছে— এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে শিশুর সাথে কথা বলে আস্থা অর্জন করাটাই প্রথম কাজ, তাকে জোর করে কিছু বলতে বাধ্য না করে।
করণীয়: অভিভাবকের জন্য দৈনন্দিন আমল
- শিশুকে ঘুম পাড়ানোর আগে সূরা আল-ফালাক্ব, সূরা আন-নাস ও সূরা আল-ইখলাস পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে শিশুর সারা শরীরে হাত বুলিয়ে দেওয়া— এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের সন্তানদের জন্য করার অভ্যাস ছিল বলে হাদীসে বর্ণিত।
- প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করে শিশুর মাথায় হাত রেখে দোয়া করা।
- শিশুর জামাকাপড়, বালিশ বা খেলনায় যদি অপরিচিত কারো কাছ থেকে পাওয়া কিছু থাকে, তা সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করা।
- ঘরে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ রাখা, যাতে শিশু সেই পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
- রুকইয়াহ পড়া পানি শিশুকে খাওয়ানো এবং গোসলের পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা।
- হাসান ও হুসাইনের জন্য পড়া দোয়াটি প্রতিদিন সকালে ও রাতে শিশুর কানের কাছে আস্তে পড়া, বিশেষ করে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আগে।
নজর-টোটকা কুসংস্কার থেকে সতর্কতা
অনেক পরিবারে দাদী-নানীরা "নজর থেকে বাঁচাতে" শিশুর কপালে বা গালে কালো টিপ পরানো, হাতে কালো সুতা বাঁধা, বা মরিচ-লবণ দিয়ে শিশুর মাথার চারদিকে ঘুরিয়ে আগুনে ফেলে দেওয়ার মতো বিভিন্ন লোকজ প্রথা পালন করেন। এই প্রথাগুলোর পেছনে সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসা কাজ করে ঠিকই, কিন্তু এগুলোর কোনোটাই কুরআন-সুন্নাহয় নেই এবং এদের পেছনে থাকা বিশ্বাস— যে বস্তুটাই নিজে থেকে সুরক্ষা দেবে— ইসলামি আকিদার পরিপন্থী। পরিবারের প্রবীণদের এই ভালোবাসাটাকে সম্মান জানিয়েই বিনয়ের সাথে বোঝানো যেতে পারে যে প্রকৃত সুরক্ষা আসে আল্লাহর কাছে দোয়া থেকে, কোনো সুতা বা টিপ থেকে নয়।
এখানে স্পষ্টভাবে বলে রাখা প্রয়োজন, শিশুর সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো তান্ত্রিক পদ্ধতি, তাবিজ পরানো, বা তদবির শাস্ত্রের কোনো আমলের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহই যথাযথ পথ।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন
শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণের ক্ষেত্রে সবার আগে শিশু বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো অপরিহার্য। যদি চিকিৎসাগতভাবে কোনো কারণ না পাওয়া যায়, এবং সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাক্বীর পরামর্শে শিশুর জন্য রুকইয়াহ করানো যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে রাক্বী অবশ্যই শিশুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এবং কোমল পদ্ধতিতে কাজ করবেন এমনটা নিশ্চিত হওয়া জরুরি— জোর করে বা ভয় দেখিয়ে শিশুর উপর রুকইয়াহ চাপিয়ে দেওয়া কখনোই উচিত নয়— বরং খেলার ছলে বা গল্পের মতো করে দোয়া শোনানো, শিশুর ভয়ের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা, আর তাকে নিরাপদ বোধ করানোটাই প্রথম অগ্রাধিকার। পরিবারের একাধিক শিশুর ক্ষেত্রে যদি একই সময়ে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে পুরো পরিবারের জন্য একসাথে রুকইয়াহ করানোর কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে, কারণ কখনো কখনো পুরো পরিবারই একই উৎস থেকে আসা প্রভাবের শিকার হতে পারে।
সময় নিয়ে বাস্তব কথা
শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো সমস্যার সমাধান কতদিনে হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক দ্রুত সাড়া দিতে পারে আবার কখনো কখনো দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে নিয়মিত দোয়া-আমল চালিয়ে যাওয়া এবং সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে স্বাভাবিক ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি, কারণ অভিভাবকের উদ্বেগও শিশুর মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে এবং সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই লেখা কোনোভাবেই চিকিৎসা বা শিশু মনোবিজ্ঞান পরামর্শের বিকল্প নয়, বরং এর পাশাপাশি অতিরিক্ত আধ্যাত্মিক সুরক্ষা হিসেবে বিবেচ্য। এখানে কোনো শিরক বা কুফরি চর্চার সুযোগ নেই— কোনো পাল্টা জাদু নয়, তাবিজ নয়, তদবির শাস্ত্রের কোনো বই থেকে নেওয়া আমল নয়, শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ।
সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের নিয়মিত দোয়া আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কবুল হয় বলে হাদীসে এসেছে। তাই ধৈর্য ও ভালোবাসা নিয়ে সন্তানের পাশে থাকলে, আল্লাহর রহমতে তার সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা রাখা যায়। সন্তানের কষ্ট দেখে অস্থির হয়ে পড়া প্রতিটি বাবা-মায়ের জন্যই স্বাভাবিক, কিন্তু এই অস্থিরতাকে দোয়া ও ধৈর্যে রূপান্তরিত করাটাই প্রকৃত অভিভাবকত্বের পরিচয়।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- সিহর তাসখীর: কাউকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জাদু থেকে মুক্তির উপায়
- হঠাৎ চুল পড়া ও চর্মরোগ কি জাদুর লক্ষণ? জানুন বাস্তব পার্থক্য
- মেয়ের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, তবু কোনো সম্বন্ধ আসছে না কেন?
- তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে না গিয়ে জাদু থেকে বাঁচার দৈনন্দিন আমল
- পারিবারিক ব্যবসায় ভাইবোনদের হিংসা থেকে জাদুর ঝুঁকি ও প্রতিকার
- স্বপ্নে বারবার সাপ বা পোকামাকড় দেখার অর্থ কি জাদুর ইঙ্গিত?
https://alshifa.bd/blog/children-crying-behavior-black-magic-signs