তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে না গিয়ে জাদু থেকে বাঁচার দৈনন্দিন আমল

তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে না গিয়ে জাদু থেকে বাঁচার দৈনন্দিন আমল

লোকসানের ভয়ে কবিরাজের কাছে ছুটে গিয়ে লাখ টাকা খোয়ানো এক ব্যবসায়ীর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জানুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো সহজ, বিনামূল্যের দৈনন্দিন সুরক্ষার আমল।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

একজন মধ্যবয়সী ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ লোকসানের মুখে পড়ে প্রথমেই ছুটে গিয়েছিলেন এলাকার পরিচিত এক "কবিরাজ বাবা"র কাছে। সেই কবিরাজ তাকে বলেছিলেন নির্দিষ্ট রাতে নির্দিষ্ট জায়গায় মুরগি জবাই করতে, নির্দিষ্ট সংখ্যক তাবিজ বানিয়ে ঘরের কোণে পুঁততে, আর মোটা অঙ্কের টাকা দিতে। প্রথম দফায় পনেরো হাজার টাকা দিয়েছিলেন, তারপর "আরও শক্তিশালী আমল দরকার" বলে দ্বিতীয় দফায় ত্রিশ হাজার, তৃতীয় দফায় আরও পঞ্চাশ হাজার। কয়েক মাস পর যখন কিছুই ঠিক হলো না, উল্টো পারিবারিক অশান্তি বেড়ে গেল আর ব্যবসাও আরও তলিয়ে গেল, তখন তিনি বুঝলেন এতদিন যা করেছেন তার পুরোটাই ইসলামবিরোধী এবং শিরকের পর্যায়ে পড়ে। এই ঘটনাটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়— বাংলাদেশের গ্রামে-শহরে অসংখ্য মানুষ জাদুর ভয়ে বা সন্দেহে এই পথেই হাঁটেন, কারণ তারা জানেন না ইসলামে জাদু থেকে বাঁচার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই কী শিখিয়ে গেছেন।

কেন মানুষ তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে ছোটেন

জাদুর সন্দেহ হলে মানুষ সাধারণত দ্রুত ও দৃশ্যমান একটা সমাধান চায়। তান্ত্রিক বা ভুয়া কবিরাজরা এই মানসিকতার সুযোগ নিয়ে নাটকীয় পদ্ধতি— যেমন মুরগি-ছাগল জবাই, তাবিজ তৈরি, নির্দিষ্ট বস্তু পোড়ানো বা পুঁতে রাখা— এর মাধ্যমে মানুষকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় যে "কিছু একটা হচ্ছে।" অথচ এসব পদ্ধতির কোনোটাই কুরআন-সুন্নাহয় নেই। বরং এসব পদ্ধতির অনেকগুলোই সরাসরি জ্বিন বা শয়তানের সাহায্য নেওয়ার প্রক্রিয়া, যা ইসলামে সুস্পষ্টভাবে শিরক হিসেবে গণ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হয় না— আর যদি তার কথা বিশ্বাসও করা হয়, তাহলে তা কুফরি পর্যায়ের গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়।

ইসলামে সুরক্ষার প্রকৃত পথ কী

ইসলাম জাদুর বাস্তবতা অস্বীকার করে না, বরং এর থেকে বাঁচার জন্য সুনির্দিষ্ট ও সহজ পথ বাতলে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেকোনো নতুন জায়গায় থামলে একটা নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন, যার মাধ্যমে সেই স্থানের যেকোনো অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেত। সহীহ মুসলিমে হযরত খাওলা বিনতে হাকীম রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

"মান নাযালা মানযিলান সুম্মা ক্বালা: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব, লাম ইয়াদুররুহু শাইউন হাত্তা ইয়ারতাহিলা মিন মানযিলিহি যালিক" — যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবস্থান করে বলে, "আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি," সেই স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৮)

এই একটা মাত্র হাদীস থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে সুরক্ষার পদ্ধতি কতটা সহজ ও সাশ্রয়ী— কোনো অর্থ খরচ নেই, কোনো নাটকীয় আচার-অনুষ্ঠান নেই, শুধু আল্লাহর কাছে সরাসরি আশ্রয় প্রার্থনা। এই দোয়া নতুন বাসায় ওঠার সময়, নতুন অফিসে যোগ দেওয়ার সময়, ভ্রমণে বের হওয়ার সময়, এমনকি প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও পড়া যায়। যে ব্যবসায়ী পনেরো হাজার টাকা খরচ করে ভুয়া কবিরাজের কাছে গিয়েছিলেন, তিনি যদি জানতেন এই একটা দোয়াই যথেষ্ট সুরক্ষার জন্য, তাহলে হয়তো তার অর্থ ও ঈমান দুটোই বেঁচে যেত।

দৈনন্দিন জীবনে যেসব আমল সুরক্ষা দেয়

সকাল-সন্ধ্যার নির্দিষ্ট দোয়াসমূহ

প্রতিদিন ফজরের পর ও মাগরিবের পর সূরা আল-ফালাক্ব, সূরা আন-নাস এবং সূরা আল-ইখলাস তিনবার করে পাঠ করা— এই অভ্যাসটা যদি নিয়মিত রাখা যায়, তাহলে এটা একটা শক্তিশালী দৈনন্দিন সুরক্ষাবলয় তৈরি করে। এর পাশাপাশি আয়াতুল কুরসি প্রতিদিন অন্তত একবার পাঠ করা উচিত, বিশেষত ঘুমানোর আগে। আয়াতুল কুরসির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে আলেমরা প্রায়ই এর পূর্ণ পাঠ স্মরণ করিয়ে দেন—

"আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম, লা তা'খুযুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম... ওয়া হুওয়াল আলিয়ুল আজিম" — আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না... তিনি সুউচ্চ, মহান। (সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২৫৫)

হাদীসে এসেছে এটি পাঠ করে ঘুমালে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রহরী নিযুক্ত হয়ে যায় এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে ঘেঁষতে পারে না। এই একটা আয়াত মুখস্থ করে প্রতি রাতে পড়াটা এমন একটা অভ্যাস যা যেকোনো বয়সের মানুষ সহজেই রপ্ত করতে পারেন।

ঘরে কুরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ রাখা

যে ঘরে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত হয়, সেই ঘর থেকে শয়তান দূরে থাকে বলে হাদীসে এসেছে। তাই সপ্তাহে অন্তত কয়েকবার ঘরে জোরে করে বা মৃদু স্বরে কুরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ রাখা, বিশেষ করে সূরা আল-বাক্বারাহর তিলাওয়াত, একটা কার্যকর দৈনন্দিন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। যেসব পরিবারে বাচ্চারা আছে, তাদের ছোট থেকেই এই তিলাওয়াতের পরিবেশে অভ্যস্ত করে তোলা একটা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ, যা শুধু আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্যই না, তাদের চরিত্র গঠনের জন্যও উপকারী।

খাবার ও পানীয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা

খাবার আগে বিসমিল্লাহ বলা এবং খাবার ঢেকে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা, কারণ হাদীসে এসেছে ঢাকনাবিহীন খাবারে অনিষ্টকর কিছু প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। অপরিচিত কারো কাছ থেকে আসা খাবার বা উপহার সম্পর্কে সতর্ক থাকা, বিশেষ করে যদি আগে থেকেই কোনো শত্রুতা বা বিরোধের ইতিহাস থাকে। এর মানে এই নয় যে প্রতিটা উপহারকেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে— বরং এর মানে হলো, খাবার গ্রহণের আগে বিসমিল্লাহ বলে নেওয়ার অভ্যাসটাই একটা স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষাবলয় তৈরি করে দেয়, যা বিশেষ কাউকে সন্দেহ না করেও পালন করা যায়।

মসজিদমুখী জীবনযাপন

নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়, জুমার নামাজে গুরুত্ব দেওয়া এবং সম্ভব হলে তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলা— এই ইবাদতগুলো মানুষের আত্মিক শক্তি বাড়ায় এবং শয়তানি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটা প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে। যে ব্যক্তি নিয়মিত নামাজি, তার উপর জাদুর প্রভাব কার্যকর হতে সাধারণত অনেক বেশি বাধার সম্মুখীন হয় বলে অভিজ্ঞ রাক্বীরা মত দেন।

পরিবারে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা

নিজের পরিবার ও সমাজে হিংসা, পরনিন্দা ও শত্রুতা কমানোর চেষ্টা করা জরুরি, কারণ জাদুর অনেক ঘটনার পেছনে হিংসাই মূল কারণ থাকে। নিজে অন্যের প্রতি হিংসা পোষণ না করা এবং অন্যের হিংসার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সামাজিক সম্পর্কে বিনয় ও সতর্কতা বজায় রাখা একটা পরোক্ষ কিন্তু কার্যকর সুরক্ষা।

সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সংযম

বর্তমান সময়ে ফেসবুকে নতুন গাড়ি, নতুন বাড়ি, সন্তানের সাফল্য বা পারিবারিক সচ্ছলতার বিস্তারিত ছবি প্রকাশ্যে পোস্ট করাটা অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ এভাবে প্রকাশ্যে নিজের সাফল্য জাহির করাটা অপরিচিত বা অর্ধপরিচিত মানুষের মধ্যে হিংসা তৈরির একটা সহজ সুযোগ করে দেয়। এর অর্থ এই নয় যে আনন্দের মুহূর্ত গোপন করে রাখতে হবে, বরং প্রকাশের ক্ষেত্রে একটু সংযম আর বিচক্ষণতা বজায় রাখা, বিশেষ করে যাদের সাথে সম্পর্কে ইতিমধ্যে কোনো টানাপোড়েন আছে তাদের কাছে অতিরিক্ত বিস্তারিত তথ্য না পৌঁছানোই সমীচীন।

ঘুম থেকে ওঠা ও ঘুমাতে যাওয়ার দোয়া

দিনের শুরু ও শেষের এই দুটো মুহূর্তকে ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে "আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর" পড়ার অভ্যাস, আর রাতে ঘুমানোর আগে ডান কাতে শুয়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে মুআওবিযাত পাঠ করে সারা শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়ার অভ্যাস— এই দুটো মুহূর্তকে ঘিরে তৈরি করা রুটিন সারাদিনের জন্য একটা মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্থিতিশীলতা এনে দেয়। যারা প্রতিদিন কর্মব্যস্ততায় ডুবে থাকেন, তাদের জন্য এই দুই মুহূর্তই সবচেয়ে সহজে ধরে রাখার মতো সময়, কারণ এর জন্য আলাদা করে সময় বের করার প্রয়োজন হয় না— এমনিতেই ঘুম থেকে ওঠা আর ঘুমাতে যাওয়ার কাজটা প্রতিদিন করতেই হয়।

তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে যাওয়া কেন বিপজ্জনক

তান্ত্রিক বা ভুয়া কবিরাজের কাছে যাওয়ার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো এটা প্রায়শই জ্বিনের সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে কাজ করে, যা শিরকের পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া আর্থিকভাবেও এরা মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়, কারণ প্রতিটি "সমাধানের" জন্য নতুন নতুন অর্থ দাবি করা হয়, আর সমস্যা কখনোই স্থায়ীভাবে সমাধান হয় না— বরং জাদুর মতোই একটা নির্ভরতার চক্রে আটকে যেতে হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো ঈমানের ক্ষতি— একবার শিরকি পথে পা বাড়ালে তা থেকে ফিরে আসা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আরেকটা ঘটনায় দেখা গিয়েছিল, এক গৃহবধূ সন্তান না হওয়ার সমস্যায় একজন "পীরের মুরিদ" দাবিদার নারীর কাছে গিয়েছিলেন, যিনি তাকে কবরস্থান থেকে মাটি এনে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ব্যবহার করতে বলেছিলেন। এই ধরনের নির্দেশনা শুনেই সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ কবরস্থান বা মৃত মানুষের সাথে সম্পর্কিত কোনো বস্তু ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই— এটা সরাসরি কবরপূজা বা মৃতের কাছে সাহায্য চাওয়ার শিরকি বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত।

কীভাবে বুঝবেন কেউ প্রকৃত রাক্বী নাকি ভুয়া আমিল

প্রকৃত রাক্বী কখনো কোনো বস্তু দেখেই ভবিষ্যদ্বাণীর মতো "কে জাদু করেছে" তা বলে দেওয়ার দাবি করেন না, কারণ এটা গায়েবের জ্ঞান। তিনি চিকিৎসা বন্ধ করার পরামর্শ দেন না, বরং প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন। তিনি নির্দিষ্ট রঙের সুতা, তাবিজ, প্রাণী বলি, বা গোপন কোনো "শক্তিশালী আমল" এর কথা বলেন না, বরং শুধুমাত্র কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত ও দোয়ার উপর নির্ভর করেন। ফি সম্পর্কেও তিনি স্বচ্ছ থাকেন, ধাপে ধাপে বাড়তি টাকা দাবি করেন না। এই কয়েকটা সহজ মানদণ্ড দিয়েই একজন প্রকৃত দ্বীনদার রাক্বী আর একজন প্রতারক আমিলের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব।

কখন আলেম বা রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন

দৈনন্দিন এই আমলগুলো সাধারণ সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট হলেও, যদি ইতিমধ্যেই জাদুর তীব্র প্রভাব দেখা দিয়ে থাকে— যেমন গুরুতর শারীরিক-মানসিক সমস্যা, সম্পর্কে বড় ধরনের ভাঙন, বা ব্যবসায় অস্বাভাবিক ক্ষতি— তাহলে একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাক্বীর কাছে গিয়ে সরাসরি রুকইয়াহ করানো উচিত। এক্ষেত্রেও অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া জরুরি যে তিনি শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন কিনা।

সময় নিয়ে বাস্তব কথা

এই আমলগুলো কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী সমাধান নয়— এগুলো দীর্ঘমেয়াদী একটা জীবনযাত্রা, যার ফল ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। যারা নিয়মিতভাবে এসব আমল করেন, তাদের ক্ষেত্রে জাদুর ঝুঁকি অনেক কমে যায় বলে অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, তবে এটা কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি নয়, কারণ সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। যিনি আজ থেকে এই আমল শুরু করবেন, তার ফল হয়তো কয়েক সপ্তাহেই বোঝা যাবে, আবার হয়তো বছরের পর বছর পরে বোঝা যাবে যে এই অভ্যাসগুলোই তাকে বহু অদৃশ্য বিপদ থেকে রক্ষা করেছে।

নিরাময় ও সুরক্ষা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এখানে বর্ণিত প্রতিটি আমল কুরআন-সুন্নাহ থেকে নেওয়া, কোনো তদবির শাস্ত্র বা তান্ত্রিক প্রথা থেকে নয়। কোনো পাল্টা জাদু নয়, কোনো তাবিজ নয়— শুধুমাত্র বিশুদ্ধ ইসলামি আমল।

দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ধরে রাখলে, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর হিফাজতে থাকা যায়, আর তান্ত্রিক-কবিরাজের প্রতারণার জালে জড়িয়ে ঈমান ও অর্থ দুটোই হারানোর ঝুঁকি থেকে বাঁচা যায়। যে ব্যবসায়ী একদিন পনেরো হাজার টাকা দিয়ে ভুয়া কবিরাজের কাছে গিয়েছিলেন, আজ তিনিই প্রতিবেশীদের এই সহজ আমলগুলোর কথা বলে বেড়ান— নিজের ভুল থেকে শেখা এই শিক্ষাটাই এখন তার সবচেয়ে বড় সম্পদ।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/daily-protective-amol-against-black-magic


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ