জাদুর বস্তু (পোঁতা জিনিস) সন্দেহ হলে বা পেলে করণীয়

জাদুর বস্তু (পোঁতা জিনিস) সন্দেহ হলে বা পেলে করণীয়

বাড়ির উঠানে বা দেয়ালের কাছে জাদুর সন্দেহজনক পোঁতা বস্তু হাতে পেলে ভয় পেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জেনে নিন লাবিদ ইবনে আসামের ঘটনার শিক্ষা এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নিরাপদ অপসারণ পদ্ধতি।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

টঙ্গীর একটা বাড়িতে বর্ষার আগে উঠানের কোণে কলাগাছ লাগানোর জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন বাড়ির কাজের লোক। কোদালের একটা কোপেই মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এলো কালো সুতায় শক্ত করে বাঁধা একটা পুঁটলি — খুলে দেখা গেল ভেতরে সাতটা মরিচা ধরা সুচ, একগোছা চুল, আর পোড়া দাগ লাগা একটুকরো লাল কাপড়। কাজের লোক কোদাল ফেলে দৌড়ে গেলেন গৃহকর্ত্রীর কাছে। গৃহকর্ত্রী পুঁটলিটা হাতে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত কাঁপতে কাঁপতে দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে সোজা ফোন করলেন পাশের বাসার এক আত্মীয়কে। এই মুহূর্তটা বাংলাদেশের অসংখ্য বাড়িতে কমবেশি একইভাবে ঘটে — মাটি খুঁড়তে গিয়ে, নতুন দেয়াল তোলার সময়, বা পুরনো গাছ কাটতে গিয়ে হঠাৎ বেরিয়ে আসে সুতা-বাঁধা চুল, ভাঙা ডিমের খোসার সাথে গোঁজা সুই, কালো কাপড়ে মোড়ানো পুঁটলি, কিংবা মাটির হাঁড়িতে ভরা অচেনা কিছু। প্রথম কয়েক সেকেন্ডের প্রতিক্রিয়া প্রায় সবসময় একই — বুক ধক করে ওঠা, হাত কাঁপা, আর মনে একরাশ প্রশ্ন। ঠিক এই মুহূর্তেই মানুষ এমন কিছু করে বসে যা পরে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

লাবিদ ইবনে আসামের ঘটনা: জাদুর ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

ইসলামি ইতিহাসে জাদু সংক্রান্ত সবচেয়ে বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এসেছে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে, যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম উভয় গ্রন্থেই সংকলিত হয়েছে। লাবিদ ইবনে আসাম নামের এক ইহুদি ব্যক্তি বনু যুরায়ক গোত্রের সাথে মিত্রতাসূত্রে যুক্ত ছিল, আর দীর্ঘদিন ধরে তার মনে পুষে রাখা বিদ্বেষ থেকে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর জাদু করে বসে। এই জাদুর প্রভাবে নবীজির মনে হতে থাকে যেন তিনি কোনো একটা কাজ করছেন, অথচ বাস্তবে তিনি তা করেননি। হাদীসে এসেছে—

"সুহিরা রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা হাত্তা কানা ইউখাইয়্যালু ইলাইহি আন্নাহু ইয়াফআলুশ শাইআ ওয়া লাম ইয়াফআলহু" — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর জাদু করা হয়েছিল, এমনকি তাঁর মনে হতো তিনি কোনো একটা কাজ করছেন, অথচ তিনি তা করেননি। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৭৬৩; সহীহ মুসলিম)

এই জাদুর সরঞ্জাম — একটা চিরুনি, নবীজির কিছু চুল, আর খেজুর গাছের নর ফুলের ছড়ার খোলস — একটা কুয়ার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যে কুয়ার নাম ছিল যারওয়ান। আল্লাহর সাহায্যে স্বপ্নের মাধ্যমে বিষয়টা প্রকাশ পাওয়ার পর সাহাবীরা সেই কুয়ায় গিয়ে জিনিসগুলো উদ্ধার করেন এবং ধ্বংস করে দেন। এই একটা ঘটনা থেকে অন্তত তিনটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় যা আজও প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, জাদুর বস্তু সাধারণত এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয় যেখানে সহজে চোখে পড়ে না — মাটির নিচে, কুয়ায়, পুরনো দেয়ালের ফাঁকে। দ্বিতীয়ত, বস্তুটা খুঁজে পাওয়ার পর সেটাকে ঘরে সাজিয়ে রাখা বা আবার লুকিয়ে রাখা নয়, বরং সেটা সরিয়ে ধ্বংস করাই ছিল পরবর্তী পদক্ষেপ। তৃতীয়ত, খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো মানুষও জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন না — এটা প্রমাণ করে জাদু একটা বাস্তবতা, কল্পনা নয়, অথচ এই বাস্তবতাও নবীজির নবুওয়াতকে এতটুকু স্পর্শ করতে পারেনি, কারণ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া জাদু কারো ধর্ম বা নিয়তিকে বদলে দিতে পারে না।

জাদুর বস্তু কেন মাটির নিচে বা লুকানো জায়গায় রাখা হয়

যারা জাদু চর্চা করে তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বস্তুটা যত গোপনে ও যত দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত থাকে, প্রভাব তত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই কারণেই বাড়ির সীমানার আশেপাশে, দরজার চৌকাঠের নিচে, পুরনো গাছের গোড়ায়, বা এমনকি কবরস্থানের কাছাকাছি এই ধরনের বস্তু পোঁতা হয় বলে দেখা যায়। কখনো কখনো বস্তুটা রাখা হয় এমন জায়গায় যেখানে ভুক্তভোগী নিয়মিত হাঁটাচলা করেন — উঠানের যে অংশ দিয়ে রোজ যাতায়াত হয়, বা দোকানের সামনের অংশ। এই প্যাটার্নটা বোঝা থাকলে বাড়ি বা দোকানের এমন কোণা, যেখানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে আলগা মনে হয় বা সম্প্রতি খোঁড়ার চিহ্ন দেখা যায়, সেদিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়ে যায়।

প্রতিটা পুরনো বস্তুই জাদুর প্রমাণ নয়

মাটি খুঁড়তে গিয়ে পুরনো ভাঙা হাঁড়ি, মরিচা ধরা লোহার টুকরা, বা কারো ফেলে দেওয়া পশুর হাড় বেরিয়ে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না, বিশেষত পুরনো বাড়ি বা এমন জমিতে যেখানে আগে অন্য কেউ বসবাস করত। প্রতিটা অস্বাভাবিক জিনিস দেখেই জাদু ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার আগে বিচার করা দরকার এটা মানুষের হাতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাজানো কিনা। জাদুর বস্তুতে সাধারণত একটা নির্দিষ্ট বিন্যাস থাকে — সুতা দিয়ে গিঁট দেওয়া, নির্দিষ্ট সংখ্যক উপাদান একসাথে বাঁধা, বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাপড়ে মোড়ানো। নিছক পুরনো আবর্জনা আর ইচ্ছাকৃতভাবে বানানো পুঁটলির মধ্যে এই পার্থক্যটা বুঝে নিলে অহেতুক আতঙ্ক অনেকটাই কমে আসে। কালো জাদুর লক্ষণ কি কি তা নিয়ে প্রশ্ন করার আগে এটাও মনে রাখা দরকার যে শুধু একটা বস্তু পাওয়া মানেই পরিবারে অন্য কোনো সমস্যা তৈরি হবে এমন নয় — বরং বস্তু পাওয়ার পর ঘরে হঠাৎ নতুন কোনো উপসর্গ যোগ হচ্ছে কিনা, সেটাই আসল বিবেচ্য বিষয়।

বস্তু হাতে পাওয়ার পর যা করা ঠিক হবে না

আবার আগের জায়গায় পুঁতে রাখা

ভয়ে অনেকে বস্তুটা আবার আগের জায়গায় পুঁতে রাখেন, এই ধারণা থেকে যে "না ছুঁলে অন্তত নিজের ক্ষতি হবে না।" বাস্তবে বস্তুটা যতক্ষণ বাড়ির সীমানার মধ্যে থাকে, ততক্ষণ পরিবারের মানসিক অস্থিরতা কমে না — বরং প্রতিদিন সেই জায়গা দিয়ে চলাফেরার সময় একটা চাপা ভয় কাজ করতেই থাকে। ভয়ের কারণে সমস্যাটা এড়িয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং এটা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

কৌতূহলে খুলে ভেতরে কী আছে দেখতে বসা

অনেকে আবার উল্টো পথে হাঁটেন — কৌতূহলবশত পুঁটলি খুলে প্রতিটা উপাদান আলাদা করে দেখেন, কখনো কখনো মোবাইলে ছবি তুলে আত্মীয়স্বজনকে পাঠান "কী মনে হয় দেখুন তো" বলে। এভাবে বস্তুটা নিয়ে দীর্ঘ সময় নাড়াচাড়া করা, একে ঘরের ভেতরে এনে টেবিলে রেখে পরীক্ষা করা কোনো নিরাপদ অভ্যাস নয়। যত দ্রুত সম্ভব বস্তুটাকে ধ্বংস করে ফেলাই শরীয়তসম্মত ও বাস্তবসম্মত পথ, সেটাকে নিয়ে গবেষণা করা নয়।

বিনা তেলাওয়াতে সরাসরি আগুনে ফেলে দেওয়া

কেউ কেউ আতঙ্কে বস্তুটা সোজা চুলায় বা মাঠের আগুনে ফেলে দেন, কোনো তেলাওয়াত বা দোয়া ছাড়াই। এতে বস্তুটা পুড়ে যায় ঠিকই, কিন্তু এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানসিক ভয় ও সম্ভাব্য প্রভাব তেমনভাবে দূর হয় না, যেভাবে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে সরালে হয়। তাড়াহুড়ো করে ফেলে দেওয়ার আগে অন্তত সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস তেলাওয়াত করে নেওয়াটা এই প্রক্রিয়ার একটা জরুরি অংশ।

ভুয়া আমিল বা রাক্বীর "গায়েবি" দাবি থেকে সতর্কতা

বস্তু পাওয়ার পর পরিবারের অনেকেই প্রথমেই ছোটেন এলাকার পরিচিত কোনো "হুজুর" বা আমিলের কাছে, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বস্তুটা হাতে নিয়ে বা দেখেই দাবি করেন কে এই কাজ করেছে, কোন উদ্দেশ্যে করেছে, এমনকি কবে করেছে তাও বলে দেন। এই ধরনের নিশ্চিত দাবি শুনে বিশ্বাস করে বসাটা বিপজ্জনক, কারণ কে জাদু করেছে সেটা গায়েবের জ্ঞান, যা কোনো মানুষের কাছে নেই। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্পষ্টভাবে বলেছেন গায়েবের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই। যে ব্যক্তি বস্তু দেখে ভবিষ্যদ্বাণীর মতো কিছু বলে, তার দাবি যত আত্মবিশ্বাসী শোনাক না কেন, প্রকৃতপক্ষে এটা একটা লোক দেখানো কৌশল — আর এই সুযোগেই তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে "কাটানোর" নামে তাবিজ, পাল্টা জাদু বা তদবির শাস্ত্রের আমল চাপিয়ে দেয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নিরাপদে বস্তু অপসারণের ধাপে ধাপে পদ্ধতি

বস্তুটা সরানোর আগে আল্লাহর কালামের সুরক্ষা নেওয়া জরুরি। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-ফালাক্বে জাদুকরদের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখান থেকে আশ্রয় চাইতে শেখানো হয়েছে—

"ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল উ'ক্বাদ" — এবং গিঁটে ফুঁ-দানকারী (জাদুকর)-দের অনিষ্ট থেকে (আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। (সূরা আল-ফালাক্ব, আয়াত ৪)

এই আয়াতের প্রেক্ষাপটেই আলেমরা পরামর্শ দেন, বস্তুটার উপর সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস তিনবার তেলাওয়াত করে তারপর সেটা সরানো নিরাপদ। সম্ভব হলে খালি হাতে না ধরে কাপড় বা গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো, যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে বস্তুটা নাপাক নয়, বরং এটা মানসিক স্বস্তির জন্য একটা ব্যবহারিক সতর্কতা মাত্র। এরপর বস্তুটা পোড়ানো বা প্রবহমান পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া — এই দুই পদ্ধতিই সাধারণত নিরাপদ ও প্রচলিত ধরা হয়। পোড়ানোর ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে খোলা জায়গায়, ধোঁয়া থেকে দূরে থেকে এই কাজ করা ভালো। বস্তুটা যদি জটিল মনে হয় — একাধিক অংশ থাকে, বা এমন কিছু থাকে যা ছুঁতে ভয় লাগে, রক্ত বা প্রাণীর অংশের মতো কিছু দেখা যায় — তাহলে নিজে হাত না দিয়ে অভিজ্ঞ কোনো দ্বীনদার রাক্বীর সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বস্তু সরানোর পরে ঘরের জন্য করণীয়

বস্তুটা সরিয়ে ফেললেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, কারণ যেখান থেকে বস্তুটা পাওয়া গেছে, সেই জায়গা ও পুরো ঘরের পরিবেশ একবার "পরিষ্কার" করে নেওয়া জরুরি। এর জন্য সেই জায়গায় ও ঘরের প্রতিটা কোণে শোনা যায় এমনভাবে সূরা আল-বাক্বারাহ তেলাওয়াত করা যেতে পারে, কারণ হাদীসে এসেছে যে ঘরে এই সূরা তেলাওয়াত হয় সেই ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির প্রতিটা ঘরের কোণায় আজানের বাক্যগুলো আস্তে করে বলে যাওয়া, আর কয়েকদিন ধরে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা রুকইয়াহর আয়াতগুলো — সূরা আল-ফালাক্ব, সূরা আন-নাস, আয়াতুল কুরসি — তেলাওয়াত করে যাওয়া প্রয়োজন। এই সময় পরিবারে যদি কেউ ইতিমধ্যে কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তার জন্য আলাদাভাবে রুকইয়াহ করা যেতে পারে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, পাল্টা জাদু করিয়ে শোধ নেওয়ার চিন্তা মাথায় আনা যাবে না। ইসলামে এটা সম্পূর্ণ হারাম — একটা জাদুর জবাব আরেকটা জাদু দিয়ে দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই, বরং এতে নিজের ঈমানই বিপন্ন হয়ে পড়ে। কে এই কাজ করেছে তা অনুমান করে প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করাটাও এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

কখন পেশাদার সাহায্য প্রয়োজন

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই যথেষ্ট, তবে বস্তুটা পাওয়ার পর যদি পরিবারে হঠাৎ অসুস্থতা, তীব্র দুঃস্বপ্ন, বা সম্পর্কে অস্বাভাবিক টানাপোড়েন দেখা দেয় যা আগে ছিল না, তাহলে একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাক্বীর মাধ্যমে সরাসরি রুকইয়াহ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। রাক্বী বাছাইয়ের সময় অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া দরকার তিনি শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন কিনা, কোনো তাবিজ বা তদবির শাস্ত্রের আমল দেন কিনা। আল-শিফায় নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের ফি ৪৯৯ টাকা, রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকায় সিরিয়াল নেওয়া যায় — ওয়েবসাইটে বুকিং করে বাংলা কিউআরে পেমেন্ট করলে হুজুরের ইমো নম্বর দেখানো হয়, যেখানে সরাসরি নিজের পরিস্থিতি জানিয়ে পরামর্শ নেওয়া সম্ভব।

সময় নিয়ে বাস্তব কথা

বস্তুটা ধ্বংস করার পর মনের ভয় কতদিনে পুরোপুরি কাটবে, বা এর কোনো প্রভাব আদৌ ছিল কিনা তা কতদিনে বোঝা যাবে, এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কারো ক্ষেত্রে বস্তু সরানোর পরপরই মানসিক স্বস্তি ফিরে আসে, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত আমল চালিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। এখানে তাড়াহুড়ো করে কোনো দ্রুত সমাধানের আশায় ভুয়া পদ্ধতির দিকে ঝোঁকা বিপজ্জনক, কারণ তাতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই লেখায় বর্ণিত পদ্ধতি কোনো নিশ্চিত ফলাফলের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী সবচেয়ে নিরাপদ পথ দেখানোর চেষ্টা মাত্র। এখানে কোনো শিরক বা কুফরি চর্চার সুযোগ নেই — কোনো পাল্টা জাদু নয়, কোনো তাবিজ নয়, তদবির শাস্ত্রের কোনো বই থেকে নেওয়া আমল নয়, শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ।

মাটির নিচে যা লুকিয়ে রাখা হয়, তা তুলে এনে ঘরে সাজিয়ে রাখার জিনিস নয় — যত দ্রুত সেটা তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়, তত দ্রুত মনের ভেতরের ভয়টাও মাটিচাপা পড়ে যায়।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/black-magic-buried-object-what-to-do


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ