মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জাদুর ব্যবহার: লক্ষণ ও ইসলামি সমাধান

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জাদুর ব্যবহার: লক্ষণ ও ইসলামি সমাধান

উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনদের বিরোধে জাদুর ব্যবহার কীভাবে চেনা যায়, এর ইসলামি অবস্থান এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাধান বিস্তারিত জানুন এই লেখায়।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে যে বিরোধ শুরু হয়েছিল, তিন বছর পরও তার সমাধান হয়নি। শরিয়াহ মোতাবেক অংশ নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও একজন ভাই দাবি করছেন তাকে ঠকানো হয়েছে, আরেকজন বোন বলছেন তার প্রাপ্য অংশ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই একদিন সবচেয়ে ছোট ভাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন— এমন এক অসুখ যার কোনো চিকিৎসাগত কারণ ডাক্তাররা খুঁজে পাচ্ছেন না। পরিবারের কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, সম্পত্তির বিরোধে ক্ষুব্ধ কোনো ভাইবোন হয়তো জাদুর আশ্রয় নিয়েছেন যাতে প্রতিপক্ষ দুর্বল বা অক্ষম হয়ে সম্পত্তি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের যৌথ পরিবারে সম্পত্তি বণ্টনের সময় অস্বাভাবিক কিছু নয়, আর এর পেছনের মনস্তত্ত্ব ও ইসলামি সমাধান দুটোই বোঝা জরুরি। একদিকে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্যের অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে বাকিদের মধ্যে একে অপরের প্রতি বেড়ে চলা সন্দেহ— এই দুইয়ের মিশেলে গোটা পরিবারের ঈদ-উৎসব, এমনকি সাধারণ পারিবারিক জমায়েতও কঠিন হয়ে উঠতে থাকে।

সম্পত্তির বিরোধ কেন জাদুর দিকে ঠেলে দেয়

সম্পত্তির বিরোধ এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে অর্থ, আবেগ ও পারিবারিক সম্পর্ক একসাথে জড়িয়ে যায়। আইনি বা পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে, কিছু মানুষ হতাশ হয়ে বা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে দ্রুত ফলাফলের আশায় জাদুর আশ্রয় নেন। উদ্দেশ্য থাকতে পারে প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া, তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা নষ্ট করা, অথবা তার পরিবারে এমন অশান্তি তৈরি করা যাতে সে নিজে থেকেই সম্পত্তির দাবি ছেড়ে দেয়। এই প্রবণতা বিশেষভাবে তীব্র হয় যখন সম্পত্তির পরিমাণ বড় হয় এবং একাধিক পক্ষ তা দাবি করে, আর বিশেষত যখন পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই পুরনো ক্ষোভ বা বৈষম্যের ইতিহাস থাকে।

ইসলামে সম্পত্তির অধিকার ও অন্যায়ের পরিণতি

ইসলামে উত্তরাধিকার সম্পত্তির বণ্টন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ নির্ধারিত একটা বিধান, যা কারো ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। কেউ যদি জাদুর মাধ্যমে অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে, তাহলে এই কাজটা একই সাথে দুটো গুরুতর অপরাধ— অন্যায়ভাবে সম্পত্তি ভোগ করা এবং জাদুর মতো নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করা। কুরআনে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার বিরুদ্ধে স্পষ্ট সতর্কবার্তা এসেছে।

ওয়া লা তা'কুলূ আমওয়ালাকুম বাইনাকুম বিলবাত্বিলি ওয়া তুদলূ বিহা ইলাল হুক্কামি লিতা'কুলূ ফারীক্বাম মিন আমওয়ালিন নাসি বিলইছমি ওয়া আনতুম তা'লামুন — অর্থ: আর তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, এবং জেনেশুনে মানুষের সম্পদের কিছু অংশ পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার জন্য তা বিচারকদের কাছে সোপর্দ করো না। (সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত ১৮৮)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট, শুধু জাদু ব্যবহার করাই না, অন্যায়ভাবে কারো প্রাপ্য সম্পত্তি আটকে রাখা বা কৌশলে বেশি অংশ নেওয়ার চেষ্টা করাও একটা গুরুতর অন্যায়। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনা থেকে বোঝা যায় জাদু কতটা গুরুতর একটা বিষয়— সহীহ বুখারীতে বর্ণিত সেই ঘটনায় লাবীদ ইবনে আসাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জাদু করেছিলেন, আর ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী এর পেছনে হিংসা ও ব্যক্তিগত শত্রুতাই প্রধান কারণ ছিল, যা দেখায় জাদুর ব্যবহারে হিংসা কতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এই ঘটনায় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জাদুগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিশোধ নেননি, বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে এর সমাধান জানিয়ে দেন। এই আদর্শ থেকে শেখার আছে— সম্পত্তির বিরোধে জাদুর সন্দেহ হলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা জাদু বা প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া ইসলামসম্মত পথ নয়, বরং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়ে ধৈর্যের সাথে সঠিক প্রতিকার খোঁজাই সুন্নাহভিত্তিক পন্থা।

লক্ষণ যা এই ধরনের পরিস্থিতিতে খেয়াল রাখা উচিত

বিরোধের সময় ও সমস্যার সূচনার সমাপতন

সম্পত্তির বিরোধ চরমে ওঠার সময়টাতেই কোনো একজন পক্ষের শারীরিক বা মানসিক সমস্যা হঠাৎ শুরু হলে, আর এই সমাপতন একবার নয়, একাধিকবার বিভিন্ন পর্যায়ে বিরোধের তীব্রতার সাথে মিলে গেলে, এই প্যাটার্নটা মনোযোগ দাবি করে।

চিকিৎসাগতভাবে অব্যাখ্যাত অসুস্থতা

ভুক্তভোগীর অসুস্থতার ক্ষেত্রে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরীক্ষা করেও কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পেলে, আর উপসর্গগুলো প্রচলিত কোনো রোগের সাথে না মিললে, এটা একটা অতিরিক্ত বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠে, যদিও এখানেও প্রথমে চিকিৎসাগত সম্ভাবনা পুরোপুরি যাচাই করা আবশ্যক।

বিরোধপূর্ণ পক্ষের অস্বাভাবিক আচরণ

বিরোধে জড়িত কোনো ভাইবোনের হঠাৎ অস্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস বা যেভাবেই হোক সম্পত্তি নিয়েই ছাড়ব ধরনের মানসিকতা প্রকাশ পাওয়া, বিশেষ করে যদি তিনি আগে কখনো তান্ত্রিক বা কবিরাজি চর্চার সাথে সম্পৃক্ততা দেখিয়ে থাকেন, তাহলে এই বিষয়টাও পর্যবেক্ষণযোগ্য।

একাধিক বিবাহ বা সৎ ভাইবোনের জটিলতা

যেসব পরিবারে মৃত ব্যক্তির একাধিক বিবাহ ছিল, বা সৎ ভাইবোনদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে কথা হচ্ছে, সেখানে বিরোধের তীব্রতা সাধারণত আরও বেশি হয়, কারণ সন্দেহ ও পুরনো তিক্ততা এমনিতেই বেশি থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে হিংসা বা জাদুর সন্দেহও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, কারণ এক পক্ষ প্রায়ই মনে করে অন্য পক্ষ শুরু থেকেই তাদের বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। এখানে বাড়তি সতর্কতা ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, আর একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা এক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

উইল বা অসিয়ত না থাকলে বিরোধ কেন বাড়ে

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তি জীবদ্দশায় তার সম্পত্তির বিস্তারিত তালিকা বা কোনো লিখিত অসিয়ত রেখে যাননি, ফলে কোন সম্পত্তি আসলে তার নিজের নামে ছিল, কোনটা যৌথ মালিকানায় ছিল, তা নিয়েই ওয়ারিশদের মধ্যে প্রথম বিরোধ শুরু হয়। ইসলামে সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট তালিকা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রেখে যাওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে, যদিও ফরজ ওয়ারিশদের অংশ পরিবর্তনের অধিকার কারো নেই। জীবিত থাকা অবস্থায় পরিবারের প্রধান ব্যক্তিরা যদি সম্পত্তির তালিকা, দলিলপত্র ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য গুছিয়ে রাখেন এবং সন্তানদের তা জানিয়ে রাখেন, তাহলে পরবর্তীতে বিরোধের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। এই ধরনের প্রস্তুতি না থাকাটাই পরবর্তীতে অবিশ্বাস, গুজব ও শেষ পর্যন্ত জাদুর সন্দেহ পর্যন্ত গড়ানোর একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আইনি ও পারিবারিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিন

অনেক পরিবার সম্পত্তির বিরোধে আটকে যায় শুধু এই কারণে যে বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ মোতাবেক সঠিক হিসাব কেউ পরিষ্কারভাবে করে দেননি, বা আত্মীয়দের মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই বেড়ে গেছে যে কেউ কারো হিসাব বিশ্বাস করতে রাজি নন। এক্ষেত্রে একজন যোগ্য আলেম বা শরিয়াহ পরামর্শকের মাধ্যমে ফারায়েজ অনুযায়ী প্রতিটা ওয়ারিশের অংশ লিখিতভাবে হিসাব করিয়ে নেওয়া, আর প্রয়োজনে রেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসের মাধ্যমে আইনগতভাবে বণ্টন সম্পন্ন করা— এই দুটো পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই বিরোধের মূল উৎসটাকেই শেষ করে দেয়, যার ফলে হিংসা বা জাদুর সুযোগও কমে আসে।

করণীয়: প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক আমল

  • সম্পত্তি বণ্টনের আলোচনা শুরুর আগে সকল পক্ষের উচিত সালাতুল হাজত আদায় করে আল্লাহর কাছে ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দোয়া করা।
  • প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস পাঠ করে নিজের ও পরিবারের জন্য সুরক্ষা চাওয়া।
  • সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ মোতাবেক নির্ধারিত অংশ মেনে নেওয়া এবং কোনো পক্ষকে ঠকানোর চেষ্টা না করা, কারণ অন্যায়ভাবে কারো হক আটকে রাখলে তা নিজের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
  • রুকইয়াহ পড়া পানি নিয়মিত পান করা এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নিয়মিত রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া।
  • পারিবারিক বিরোধ মেটাতে একজন নিরপেক্ষ ও দ্বীনদার আলেমের মাধ্যস্থতা নেওয়া, যিনি শরিয়াহ অনুযায়ী ন্যায্য সমাধানে সাহায্য করতে পারবেন।
  • পরিবারের সবাই মিলে মাসে অন্তত একবার একসাথে বসে খোলামেলা কথা বলার অভ্যাস রাখা, যাতে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি জমে বড় বিরোধে রূপ না নেয়।

হিংসা ও কুমন্ত্রণার অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য সূরা আন-নাস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে মানুষ ও জিন উভয়ের কুমন্ত্রণা থেকেই আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

কুল আউযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস — অর্থ: বলো, আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের কাছে। মানুষের অধিপতির কাছে। মানুষের ইলাহের কাছে। কুমন্ত্রণাদাতা, যে আল্লাহর স্মরণে পালিয়ে যায় তার অনিষ্ট থেকে। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। (সূরা আন-নাস, আয়াত ১-৬)

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো— নিজের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য কখনোই জাদু, তাবিজ বা তদবির শাস্ত্রের কোনো আমলের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়, এমনকি প্রতিপক্ষ অন্যায় করলেও নয়। প্রতিশোধ হিসেবে জাদুর ব্যবহার নিজের ঈমান ধ্বংস করার শামিল। আইনি ও শরিয়াহভিত্তিক পথেই ন্যায্য সমাধান খোঁজা উচিত।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন

ভুক্তভোগীর অসুস্থতা চিকিৎসাগতভাবে ব্যাখ্যাতীত থেকে গেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে, একজন অভিজ্ঞ রাক্বীর কাছে গিয়ে সরাসরি রুকইয়াহ করানো যেতে পারে। একই সাথে সম্পত্তির বিরোধ সমাধানে একজন যোগ্য আইনজীবী বা শরিয়াহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি, যাতে বিরোধের মূল কারণ— অর্থাৎ অন্যায্য বণ্টন থাকলে তা— সমাধান হয়। শুধু আধ্যাত্মিক প্রতিকারে মনোযোগ দিয়ে মূল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক না, দুটো পথই সমান্তরালে চালানো দরকার। পরিবারের মুরুব্বিদের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকেন যাকে সবপক্ষই সম্মান করে এবং নিরপেক্ষ মনে করে, তাহলে তাকে দিয়ে প্রথমে একটা পারিবারিক বৈঠক ডাকানো যেতে পারে, যেখানে আলেম বা আইনজীবীর উপস্থিতিতে সবার আপত্তি ও দাবি একসাথে শোনা হয়— এই ধরনের কাঠামোবদ্ধ আলোচনা অনেক সময় বছরের পর বছরের বিরোধ কয়েক মাসেই মিটিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।

সময় নিয়ে বাস্তব কথা

সম্পত্তির বিরোধ ও তার সাথে জড়িত কোনো আধ্যাত্মিক সমস্যা সমাধান হতে কতদিন লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। পারিবারিক বিরোধ অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে চলে, আর এর সমাধানে ধৈর্য, ন্যায্যতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা— এই তিনটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাময় ও ন্যায্য সমাধান একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই লেখায় বর্ণিত আমল কোনো চিকিৎসা বা আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়, বরং এসবের পাশাপাশি একটা অতিরিক্ত আধ্যাত্মিক সহায়তা। এখানে কোনো শিরক বা কুফরি চর্চার সুযোগ নেই— কোনো পাল্টা জাদু নয়, তাবিজ নয়, তদবির শাস্ত্রের কোনো বই থেকে নেওয়া আমল নয়, শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ ও দোয়া।

সম্পত্তির লোভ থেকে দূরে থেকে ন্যায্যতা বজায় রাখা এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলাই পরিবারে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ। যে সম্পত্তির জন্য আজ ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে, সেই সম্পত্তি কবরে কেউ সাথে নিয়ে যেতে পারবে না— এই সত্যটা মনে রাখলে অনেক সময় বিরোধের তীব্রতা নিজে থেকেই কমে আসে। আল্লাহর রহমতে পরিবারে ন্যায্যতা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হোক।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/inheritance-property-dispute-black-magic


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ