নতুন ব্যবসায় শরিকদের চুক্তির সময় জাদু থেকে সুরক্ষার আমল

নতুন ব্যবসায় শরিকদের চুক্তির সময় জাদু থেকে সুরক্ষার আমল

নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের চুক্তির সময় হিংসা বা জাদুর ঝুঁকি কীভাবে চেনা যায় এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক কোন আমলে অংশীদারিত্ব সুরক্ষিত থাকে তা বিস্তারিত জানুন।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

দুই বন্ধু মিলে নতুন একটা আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা শুরু করলেন, সমান পুঁজি বিনিয়োগ করে, লিখিত চুক্তিও হলো, সম্পর্কটাও ছিল বহু বছরের বিশ্বস্ততার ওপর দাঁড়ানো। ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরেই লাভ ভালো এলো, কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকে একজন অংশীদারের মধ্যে হঠাৎ সন্দেহপ্রবণতা দেখা দিল— তিনি মনে করতে লাগলেন অন্য অংশীদার তার সাথে প্রতারণা করছে, হিসাবে গরমিল করছে, যদিও অডিটে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সন্দেহ থেকে সম্পর্কে এমন তিক্ততা তৈরি হলো যে শেষ পর্যন্ত ব্যবসাই ভেঙে গেল। পরে জানা গেল, চুক্তি সইয়ের সময় তৃতীয় একজন ব্যক্তি— যিনি এই অংশীদারিত্বে নিজে ঢুকতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি— এই ব্যবসায় ফাটল ধরানোর জন্য জাদুর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক জগতে বিরল নয়, বিশেষত যখন নতুন ব্যবসায় বড় অঙ্কের মুনাফার সম্ভাবনা থাকে। ব্যবসাটা যত বড় হয়, যত বেশি মানুষের নজরে আসে, ততই এর চারপাশে হিংসা আর ষড়যন্ত্রের ঝুঁকিও বেড়ে যায়— এটা শুধু বিশ্বাসের কথা না, বাস্তবেও বহু পারিবারিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে এমন গল্প শোনা যায়।

চুক্তির সময়টা কেন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ

একটা নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার সময়টা অনেকগুলো কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমত, এই সময় অনেক মানুষ জানতে পারে কারা কত পুঁজি বিনিয়োগ করছে, ফলে হিংসা বা লোভের সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, যারা এই অংশীদারিত্বে নিজেরা যুক্ত হতে চেয়েছিল কিন্তু সুযোগ পায়নি, তাদের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিতে পারে। তৃতীয়ত, প্রতিযোগী ব্যবসায়ীরা নতুন অংশীদারিত্বকে নিজেদের বাজারের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে পারে। এই তিন ধরনের মানুষের যেকোনো একজন হিংসা বা শত্রুতার বশে জাদুর আশ্রয় নিলে, সেই প্রভাব সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় ঠিক চুক্তির সময়টাতেই, কারণ তখন অংশীদারদের মধ্যে আস্থার ভিত্তি এখনো পুরোপুরি মজবুত হয়ে ওঠেনি। এই কারণেই অনেক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নতুন কারো সাথে বড় বিনিয়োগে যাওয়ার আগে শুধু ব্যবসায়িক দিক নয়, তার সাথে সম্পর্কের ইতিহাস, সততা ও পারিবারিক পরিবেশ নিয়েও ভালোভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন, আর সিদ্ধান্তের আগে ইস্তেখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দিকনির্দেশনা চান।

কুরআনে সত্যের বিজয় ও জাদুর ব্যর্থতার নিশ্চয়তা

কুরআনে মূসা আলাইহিস সালাম ও ফিরআউনের জাদুকরদের ঘটনা এমন একটা শিক্ষা দেয় যা নতুন যেকোনো উদ্যোগ শুরুর সময় স্মরণ রাখার মতো। সূরা আল-আরাফে বর্ণিত হয়েছে, জাদুকররা যখন তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করেছিল এবং তা দর্শকদের চোখে সত্যিকারের সাপের মতো মনে হয়েছিল, তখন আল্লাহর নির্দেশে মূসা আলাইহিস সালামের লাঠি তাদের সমস্ত বানোয়াট জাদু গ্রাস করে ফেলেছিল।

ফাওয়াক্বাআল হাক্কু ওয়া বাত্বালা মা কানু ইয়া'মালুন — অর্থ: সুতরাং সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো। (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১১৮)

এই ঘটনা থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো, যতই চাকচিক্যময় ও বাস্তব মনে হোক না কেন, জাদুর প্রভাব সত্যের সামনে টিকে থাকতে পারে না। একটা ব্যবসা সততা, ন্যায্যতা ও আল্লাহভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলে, বাইরে থেকে আসা যেকোনো ষড়যন্ত্র বা জাদু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য— এই বিশ্বাসটা অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চুক্তির সময় লক্ষ রাখার মতো বিষয়

হঠাৎ অহেতুক সন্দেহ তৈরি হওয়া

চুক্তির পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অংশীদারদের মধ্যে একজনের মনে অন্যজনের প্রতি অস্বাভাবিক সন্দেহ, অবিশ্বাস বা বিরক্তি জন্ম নিতে শুরু করলে— যেখানে আগে কোনো সমস্যাই ছিল না— এই পরিবর্তনটা মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। স্বাভাবিক ব্যবসায়িক দ্বিমত আর অকারণ সন্দেহপ্রবণতার মধ্যে পার্থক্য বোঝাটা জরুরি— প্রথমটা যুক্তি ও প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দ্বিতীয়টা শুধু অনুভূতির ওপর।

নথিপত্র ও যোগাযোগে অস্বাভাবিক জটিলতা

চুক্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র বারবার হারিয়ে যাওয়া, ব্যাংক লেনদেনে অস্বাভাবিক বিলম্ব, বা যোগাযোগে বারবার ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়া— এই ধরনের প্যাটার্নও কখনো কখনো লক্ষণীয় হয়ে ওঠে, যদিও এর পেছনে প্রশাসনিক অদক্ষতাও থাকতে পারে।

শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন

অংশীদারদের কারো মধ্যে চুক্তির পর থেকে হঠাৎ অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অনিদ্রা, বা ব্যবসার কথা ভাবলেই মাথাব্যথা শুরু হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে, এবং এর পেছনে কোনো চিকিৎসাগত কারণ না পাওয়া গেলে, এটাও সামগ্রিক পর্যালোচনায় বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

প্রত্যাখ্যাত সম্ভাব্য অংশীদার বা প্রতিযোগীর হিংসা কীভাবে সনাক্ত করবেন

যে ব্যক্তি নিজে অংশীদার হতে চেয়েছিল কিন্তু সুযোগ পায়নি, তার আচরণে সাধারণত একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ করা যায়— শুরুতে হয়তো সৌজন্যতা বজায় রাখলেও ধীরে ধীরে ব্যবসার খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা অস্বাভাবিক আগ্রহ, বা উন্নতির খবর শুনে অস্বস্তিকর নীরবতা দেখা যায়। কখনো কখনো এই ব্যক্তি নিজে থেকেই বারবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আসতে থাকেন, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও। এই ধরনের আচরণ দেখলে তার সাথে সরাসরি সম্পর্ক খারাপ না করে, বরং নিজেদের সুরক্ষামূলক আমল আরও নিয়মিত করাই বিচক্ষণতা। কাউকে সরাসরি সন্দেহ করে অভিযুক্ত করা ইসলামে অনুমোদিত নয়, যতক্ষণ না সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, কারণ ভুল অভিযোগ নিজেই একটা বড় গুনাহ এবং তা সম্পর্ককে আরও দ্রুত নষ্ট করে দিতে পারে।

করণীয়: চুক্তির আগে, চলাকালে ও পরে

  • চুক্তি সইয়ের আগে উভয় পক্ষ মিলে সালাতুল হাজত আদায় করে আল্লাহর কাছে এই অংশীদারিত্বে বরকত ও সুরক্ষা চাওয়া।
  • চুক্তি সইয়ের দিন সকালে বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়া, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়তেন বলে হাদিসে বর্ণিত।
  • চুক্তি সম্পূর্ণরূপে লিখিত ও স্বচ্ছ রাখা, ইসলামি অংশীদারি বিধান অনুযায়ী মুনাফা-লোকসান ভাগাভাগির শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, যাতে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কম থাকে।
  • প্রতিষ্ঠান শুরুর দিন থেকেই নিয়মিত সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস পাঠ করে প্রতিষ্ঠানের জন্য দোয়া করা।
  • নিয়মিত ব্যবসার আয়ের একটা অংশ সদকা করার অভ্যাস গড়ে তোলা, যা বরকত বৃদ্ধির একটা প্রমাণিত ইসলামি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত।
  • বছরে অন্তত একবার উভয় অংশীদার মিলে ব্যবসার হিসাব একজন স্বতন্ত্র অডিটরকে দিয়ে যাচাই করানো, যাতে স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো পক্ষের মনেই সন্দেহ জমতে না পারে।

প্রবেশের ও যাত্রা শুরুর এই দোয়াটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পড়তেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আর এটা নতুন উদ্যোগ শুরুর সময়ও প্রযোজ্য।

বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া। (সুনান আবু দাউদ, হাদীস ৫০৯৫; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪২৬)

শরিয়াহভিত্তিক অংশীদারিত্বের কাঠামো মেনে চলা

ইসলামি ব্যবসায় অংশীদারিত্বের একটা স্বীকৃত কাঠামো হলো মুদারাবা বা মুশারাকা, যেখানে মুনাফা ও লোকসান পূর্বনির্ধারিত অনুপাতে ভাগ হয়, আর প্রতিটা পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে লিখিত থাকে। অনেক বিরোধ আসলে শুরু হয় মৌখিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা শুরু করা থেকে, যেখানে পরে কে কতটা বিনিয়োগ করেছে বা কে কতটা পরিশ্রম দিয়েছে তা নিয়ে দ্বিমত তৈরি হয়। শুরু থেকেই এই কাঠামো স্পষ্টভাবে মেনে চললে অনেক অহেতুক সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি এমনিতেই এড়ানো যায়, যা জাদুর সন্দেহকেও অনেকাংশে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়। মাসে অন্তত একবার উভয় পক্ষ একসাথে বসে হিসাব মিলিয়ে নেওয়া, প্রতিটা বড় সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা, আর কোনো পক্ষ একা সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যজনকে পরে জানানো এড়িয়ে চলা— এই অভ্যাসগুলো বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত রাখে, যা যেকোনো বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

এখানে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি— অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসায় সুরক্ষার নামে বিভিন্ন তান্ত্রিক পদ্ধতি বা তাবিজের আশ্রয় নেন, যেমন দোকানের নিচে কিছু পুঁতে রাখা বা নির্দিষ্ট প্রতীক ঝুলিয়ে রাখা। এসব সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী এবং শিরকের পর্যায়ে পড়ে। প্রকৃত সুরক্ষা আসে শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দোয়া ও সততার মাধ্যমে।

ভবিষ্যতের জন্য উত্তরাধিকার ও প্রস্থান পরিকল্পনা রাখুন

নতুন ব্যবসা শুরুর সময় অনেকেই ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে ভাবতে চান না, কারণ শুরুতেই এসব আলোচনা অশুভ মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, কোনো অংশীদার মারা গেলে তার অংশ কীভাবে তার ওয়ারিশদের কাছে যাবে, বা কোনো একজন ব্যবসা থেকে সরে যেতে চাইলে তার শেয়ার কীভাবে মূল্যায়ন হবে— এই বিষয়গুলো শুরুতেই লিখিতভাবে ঠিক করে রাখলে ভবিষ্যতে অনেক বড় বিরোধ এড়ানো যায়। এই স্পষ্টতা না থাকার কারণেই পরবর্তীতে অনেক ব্যবসায় ভাইবোন বা অংশীদারদের সন্তানদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হতে দেখা যায়, যা কখনো কখনো আবার জাদু বা হিংসার সন্দেহে গিয়ে ঠেকে। তাই শুরুতেই এই বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে রাখা কোনো অশুভ লক্ষণ না, বরং একটা পরিণত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন

ব্যবসায় অহেতুক সন্দেহ, বিরোধ বা ক্ষতির প্যাটার্ন দীর্ঘদিন ধরে চললে এবং সাধারণ আলোচনা বা মধ্যস্থতাতেও সমাধান না এলে, একজন অভিজ্ঞ রাক্বীর কাছে গিয়ে অংশীদারদের জন্য রুকইয়াহ করানো যেতে পারে। পাশাপাশি একজন নিরপেক্ষ ব্যবসায়িক মধ্যস্থতাকারীর সাহায্যও নেওয়া উচিত, যাতে সমস্যার ব্যবসায়িক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিকই পর্যালোচনা করা যায়। দুই অংশীদার একসাথে বসে রাক্বীর সামনে খোলামেলা কথা বললে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝিও স্পষ্ট হয়ে যায়, যা শুধু আধ্যাত্মিক প্রতিকার নয়, সম্পর্ক মেরামতেও সাহায্য করে। যদি দেখা যায় সন্দেহ এতটাই গভীর হয়ে গেছে যে দুজনের পক্ষে একসাথে বসাই কঠিন হয়ে পড়েছে, তাহলে প্রথমে আলাদাভাবে একজন পরামর্শকের সাথে কথা বলে মানসিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করে নেওয়া, তারপর যৌথ আলোচনায় বসা— এই ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়াই বাস্তবসম্মত, তাড়াহুড়ো করে সবকিছু একসাথে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা প্রায়ই আরও জটিলতা তৈরি করে।

সময় নিয়ে বাস্তব কথা

একটা নতুন ব্যবসায় বরকত ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লাগে, আর এখানে জাদুর সন্দেহ থাকুক বা না থাকুক, ধৈর্য অপরিহার্য। কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়— এটা নির্ভর করে আল্লাহর ইচ্ছা, পরিস্থিতির জটিলতা এবং উভয় পক্ষের সহযোগিতার মনোভাবের ওপর। নিরাময় ও বরকত একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই লেখায় বর্ণিত আমল কোনো নিশ্চিত সাফল্যের গ্যারান্টি নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার একটা বৈধ পথ। এখানে কোনো শিরক বা কুফরি চর্চার সুযোগ নেই— কোনো পাল্টা জাদু নয়, তাবিজ নয়, তদবির শাস্ত্রের কোনো বই থেকে নেওয়া আমল নয়, শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ ও দোয়া।

সততা, স্বচ্ছতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ব্যবসা পরিচালনা করাটাই যেকোনো অংশীদারিত্বের সবচেয়ে বড় সুরক্ষাকবচ। দুই বন্ধু বা আত্মীয় মিলে ব্যবসা শুরু করার সময় সম্পর্কটাকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, ঠিক ততটা গুরুত্ব দিয়ে যদি কাগজপত্র আর আধ্যাত্মিক সুরক্ষার দিকটাও দেখা হয়, তাহলে বাইরের কোনো ষড়যন্ত্র সহজে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে না। আল্লাহর রহমতে নতুন উদ্যোগে বরকত আসুক এবং অংশীদারিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হোক।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/new-business-partnership-contract-magic-protection


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ