নতুন গাড়ি-বাড়িতে বদনজর থেকে সুরক্ষা

নতুন গাড়ি-বাড়িতে বদনজর থেকে সুরক্ষা

নতুন গাড়ি বা বাড়ি কেনার পর অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা, যান্ত্রিক গোলযোগ বা পারিবারিক অশান্তি বদনজরের লক্ষণ হতে পারে। সূরা ইউসুফের শিক্ষা থেকে সুরক্ষার দোয়া ও করণীয় জেনে নিন।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

ব্যাংক লোন আর দশ বছরের জমানো টাকা মিলিয়ে অবশেষে করিমুল সাহেব একটা প্রাইভেট কার কিনলেন। শোরুম থেকে বের করার দিন পাড়ার ছেলেরা গাড়ির চারপাশে ভিড় করল, ছবি তুলল, কেউ কেউ বলল "স্যার এবার তো একদম বড়লোক হয়ে গেলেন।" এক সপ্তাহের মধ্যেই গাড়িটা একবার হালকা দুর্ঘটনায় পড়ল, তারপর ইঞ্জিনে অদ্ভুত এক সমস্যা দেখা দিল যা মেকানিক ধরতেই পারলেন না, আর করিমুল সাহেবের স্ত্রী বললেন গাড়িতে উঠলেই তার শরীর কেমন গুলিয়ে ওঠে। পরিবারের মুরুব্বিরা তখন প্রশ্ন তুললেন, এত মানুষ দেখল, ছবি তুলল, নজর লেগে গেল না তো?

হ্যাঁ, নতুন গাড়ি বা নতুন বাড়িতেও বদনজর লাগে — বরং ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, নতুন কোনো নিয়ামত পাওয়ার পরের সময়টাতেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ তখনই সবচেয়ে বেশি মানুষ সেটা দেখে, প্রশংসা করে, আর কারো কারো মনে না বলা একটা ঈর্ষা তৈরি হয় যেটা সে নিজেও হয়তো বুঝতে পারে না।

সূরা ইউসুফের শিক্ষা — প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে সতর্কতা

সূরা ইউসুফে ইয়াকুব আলাইহিস সালাম তার ছেলেদের মিসরে প্রবেশ করার সময় একটা নির্দেশ দিয়েছিলেন — সবাই যেন এক দরজা দিয়ে না ঢুকে আলাদা আলাদা দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।

উচ্চারণ: "ওয়াদখুলূ মিন আবওয়া-বিম মুতাফাররিক্বাহ্।"
অর্থ: "এবং তোমরা বিভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।"
সূত্র: সূরা ইউসুফ, আয়াত ৬৭

তাফসীরকারদের মতে এর একটা কারণ ছিল, বারো ভাই একসাথে সুদর্শন চেহারা নিয়ে ঢুকলে মানুষের নজর একসাথে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এই আয়াত থেকে আলেমরা একটা সাধারণ নীতি বের করেন — নিজের নিয়ামত নিয়ে অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ, এটা কৃপণতা না, বরং সতর্কতা। নতুন গাড়ি বা বাড়ির ক্ষেত্রেও এই একই নীতি প্রযোজ্য — কেনার খবর সবাইকে জানানো, শোরুম থেকে বের হওয়ার মুহূর্ত লাইভ করা, বা বাড়ির প্রতিটা কোণ ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়ার আগে একবার ভাবা দরকার এটা কতটা জরুরি।

নতুন বাড়িতে ওঠার সময় যা করবেন

নতুন বাড়িতে ঢোকার একটা নির্দিষ্ট দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা ঘরে প্রবেশের সময় পড়া সুন্নাহ।

উচ্চারণ: "আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাল মাওলাজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লা-হি ওয়ালাজনা- ওয়া বিসমিল্লা-হি খারাজনা-, ওয়া আলাল্লা-হি রাব্বিনা- তাওয়াক্কালনা-।"
অর্থ: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রবেশ ও বের হওয়ার কল্যাণ চাই, আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম, আল্লাহর নামেই বের হলাম, আমাদের রব আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম।"
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ

এই দোয়াটা নতুন বাড়িতে ওঠার দিন পড়া, এবং কয়েকদিন ধরে ঘরের প্রতিটা কক্ষে আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়া ভালো অভ্যাস। বাড়িতে ওঠার প্রথম রাতেই সূরা আল-বাকারা তেলাওয়াতের অভ্যাস শুরু করলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে ঘরে বরকত ধরে রাখতে সহায়ক হয়, কারণ হাদিসে এসেছে শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সূরা বাকারা তেলাওয়াত করা হয়।

নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে করণীয়

নতুন কোনো বাহনে ওঠার সময়ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটা নির্দিষ্ট অভ্যাস ছিল।

উচ্চারণ: "সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহু মুক্বরিনীন।"
অর্থ: "পবিত্র সেই সত্তা যিনি এটাকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, অথচ আমরা নিজেরা একে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না।"
সূত্র: সহীহ মুসলিম, মূলত সূরা আয-যুখরুফ আয়াত ১৩ থেকে নেওয়া

নতুন গাড়ি কেনার দিন এই দোয়া পড়া, আর গাড়ির প্রতিটা কোণে বসে একবার আয়াতুল কুরসি পড়ে নেওয়াটা অনেকেই করে থাকেন। গাড়ি চালানো শুরুর আগে প্রতিদিন "বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ" বলে শুরু করার অভ্যাসও রাখা যায়, এতে শুধু বদনজর না, দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার একটা মানসিক প্রস্তুতিও তৈরি হয়।

নতুন সম্পদের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন বদনজর জড়িত কিনা

  • কেনার পরপরই ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া, যেখানে গাড়িটা নতুন এবং ওয়ারেন্টির আওতায়
  • নতুন বাড়িতে ওঠার পর পরিবারে বারবার অসুখ-বিসুখ বা অকারণ ঝগড়া লেগে থাকা
  • গাড়িতে উঠলে বা নির্দিষ্ট কোনো কক্ষে ঢুকলেই অস্বস্তি বা মাথা ভার লাগা
  • একের পর এক ছোটখাটো দুর্ঘটনা, যেখানে চালকের কোনো ভুল বা সড়কের সমস্যা ছিল না

এখানে মনে রাখা জরুরি, নতুন গাড়িতে প্রথম দিকে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা থাকতেই পারে, আর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে। তাই প্রথমেই গ্যারেজে বা প্রকৌশলীর কাছে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করানো উচিত, বদনজরকে প্রথম সন্দেহ হিসেবে না ধরে।

ফ্ল্যাট কেনা বনাম বাড়ি বানানো — ঝুঁকিতে পার্থক্য আছে কি

শহরাঞ্চলে আজকাল বেশিরভাগ মানুষ রেডি ফ্ল্যাট কেনেন, আর গ্রামে বা শহরতলিতে ধীরে ধীরে বাড়ি বানানোর প্রবণতা এখনো আছে। বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা একটু ভিন্নভাবে আসে — নির্মাণকাজ চলাকালীন প্রতিদিন অসংখ্য মিস্ত্রি, শ্রমিক, প্রতিবেশী বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করেন, প্রত্যেকেই একরকম মন্তব্য করেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রকাশ্য প্রক্রিয়ায় সতর্কতা বজায় রাখা কঠিন হলেও, বাড়ির ভিত্তি স্থাপনের দিন এবং ছাদ ঢালাইয়ের দিন বিশেষভাবে দোয়া পড়ে নেওয়াটা অনেক পরিবারই অভ্যাস হিসেবে রাখেন। অন্যদিকে রেডি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা কেন্দ্রীভূত হয় হস্তান্তরের দিন এবং প্রথমবার আসবাবপত্র সাজানোর সময়টাতে, কারণ তখনই সবচেয়ে বেশি মানুষ একসাথে ফ্ল্যাটটা দেখতে আসেন।

ভাড়া বাসার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য

অনেকেই মনে করেন বদনজরের সতর্কতা শুধু নিজের কেনা সম্পত্তির জন্য প্রযোজ্য, ভাড়া বাসায় উঠলে বুঝি দরকার নেই। বাস্তবে বিষয়টা এমন না — একটা পরিবার যখন নতুন কোনো ভাড়া বাসায় ওঠে, তখনও প্রতিবেশী, বাড়িওয়ালা এবং আত্মীয়স্বজনের দৃষ্টি সেই নতুন সংসারের ওপর পড়ে। তাই মালিকানা যাই হোক না কেন, নতুন কোনো বাসস্থানে প্রবেশের সময় গৃহপ্রবেশের দোয়া পড়া এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত সূরা বাকারা তেলাওয়াতের অভ্যাস রাখা সমানভাবে প্রযোজ্য।

সন্তানদের ছোট থেকেই এই আদব শেখানো

নতুন গাড়ি বা বাড়ির আনন্দ পরিবারের সবচেয়ে বেশি অনুভব করে শিশুরাই — নতুন গাড়িতে প্রথম ভ্রমণ বা নতুন ঘরে নিজের রুম পাওয়া তাদের কাছে বিশাল একটা ঘটনা। এই আনন্দের মুহূর্তগুলোকে ব্যবহার করে শিশুদের ছোট থেকেই শেখানো যায় নতুন কিছু পেলে প্রথমে "আলহামদুলিল্লাহ" বলা, আর কারো ভালো কিছু দেখলে "মাশাআল্লাহ" বলার অভ্যাস। বাবা-মা নিজেরা এই আদব মেনে চললে সন্তানরাও স্বাভাবিকভাবেই তা রপ্ত করে নেয়, আলাদা করে কঠোর নিয়ম শেখানোর দরকার পড়ে না।

দ্বিতীয় হাতের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি একটা বিবেচনা

নতুন শোরুমের গাড়ির পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার প্রবণতাও ব্যাপক। পুরনো মালিকের হাত থেকে গাড়ি হস্তান্তরের সময় একটা বাড়তি বিষয় মাথায় রাখা ভালো — আগের মালিকের ব্যবহারে গাড়িতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব থেকে থাকলেও থাকতে পারে, তাই নতুন মালিকানায় আসার সাথে সাথে পুরো গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করে রুকইয়াহর পানি দিয়ে মুছে নেওয়া এবং ভেতরে বসে একবার সূরা ফালাক্ব-নাস পড়ে ফুঁ দেওয়াটা একটা বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেকেই অভ্যাস করেন।

যা এড়িয়ে চলা উচিত

এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার — গাড়িতে নীল রঙের চোখওয়ালা পুঁতি, ঘোড়ার নাল, কালো সুতা বা এই ধরনের কোনো বস্তু ঝুলিয়ে রাখা ইসলামসম্মত না। এগুলো আসলে বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে আসা তাবিজের মতো জিনিস, যেখানে বিশ্বাস করা হয় বস্তুটাই নিজে থেকে সুরক্ষা দেয়। ইসলামে সুরক্ষা আসে আল্লাহর কালাম থেকে, কোনো বস্তু বা প্রতীক থেকে না। কোরআনের আয়াত পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি ব্যবহার করা যায়, কিন্তু কোনো পুঁতি বা প্রতীক গাড়িতে বা ঘরের দরজায় ঝুলিয়ে রাখাটা এড়িয়ে চলাই ভালো — এই ধরনের বস্তুর ওপর ভরসা রাখা তাওহীদের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

বন্ধু-স্বজনদের আপ্যায়নে সহজ কিছু অভ্যাস

নতুন বাড়ি বা গাড়ি দেখতে আসা মানুষদের সবাই খারাপ উদ্দেশ্যে আসেন না, বরং অধিকাংশই সত্যিকারের আনন্দ থেকে দেখতে আসেন। তাই অতিথিদের আসা বন্ধ করার দরকার নেই, শুধু কিছু ছোট অভ্যাস যোগ করা যায় — অতিথিরা প্রশংসা করলে নিজে থেকেই "আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে হয়েছে" বলা, কেউ প্রশংসা করলে তাকে উৎসাহিত করা "মাশাআল্লাহ" বলার জন্য, আর সবাই চলে যাওয়ার পর সেদিন রাতেই ঘরের বা গাড়ির জন্য বাড়তি করে রুকইয়াহর আমল করা।

প্রশ্নোত্তর — নতুন সম্পদ নিয়ে সাধারণ দ্বিধা

অনেকে প্রশ্ন করেন, গাড়ি বা বাড়ির ইন্স্যুরেন্স করানো কি ইসলামি বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক, যেহেতু আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার কথা বলছি? উত্তর হলো, বৈধ ইন্স্যুরেন্স বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী না — রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই শিখিয়েছেন "উটকে বেঁধে রেখে তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো", অর্থাৎ বাস্তবসম্মত সতর্কতা নেওয়া আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একসাথেই চলে। আরেকটা প্রশ্ন প্রায়ই আসে — বাড়ি বা গাড়ির জন্য আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট আয়াত লেখা কাগজ রাখা যায় কিনা। এক্ষেত্রে সতর্কতা হলো, যদি কাগজটা শুধু কোরআনের আয়াত ধারণ করে এবং তার প্রতি কোনো তাবিজসুলভ বিশ্বাস (যেমন কাগজটাই নিজে থেকে সুরক্ষা দেবে) না রাখা হয়, তাহলে সমস্যা নেই, তবে সবচেয়ে নিরাপদ ও সুন্নাহসম্মত পথ হলো নিয়মিত মুখে তেলাওয়াত ও দোয়া চালিয়ে যাওয়া, কারণ এতে তাবিজের মতো ভুল বোঝাবুঝির কোনো ঝুঁকি থাকে না, আর অভ্যাসটাও জীবনজুড়ে চর্চার মধ্যে থেকে যায়।

কতদিনে উন্নতি আশা করা যায়

নিয়মিত আমল শুরু করার পর কারো ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আসে, কারো ক্ষেত্রে সময় লাগে বেশি। এখানে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব না, কারণ প্রকৃত নিরাময় ও প্রশান্তি আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। যদি নতুন বাড়িতে ওঠার পর পরিবারে বারবার অসুখ-বিসুখ লেগে থাকে, বা নতুন গাড়ি কেনার পরপরই একের পর এক দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক গোলযোগ শুরু হয়, আর কোনো কারিগরি কারণ খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে রুকইয়াহর মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে অনেক পরিবার প্রথমে কয়েক সপ্তাহ নিজেরাই নিয়মিত আমল চালিয়ে দেখেন, আর যদি তাতেও উন্নতি না আসে, তখন প্রশিক্ষিত রাক্বীর সাহায্য নেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত পথ। আল-শিফায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যায়, ফি ৪৯৯ টাকা, আর রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি সিরিয়ালের জন্য ৯৯৯ টাকা। মনে রাখা জরুরি, এখানে বর্ণিত প্রতিটা আমলই কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ বা শিরকি চর্চা নয় — নিরাময় ও প্রশান্তি দুটোই আসে একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, কোনো বস্তু বা ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা থেকে না।

নতুন গাড়ির চাবি হাতে পাওয়ার আনন্দটা যেন কৃতজ্ঞতার আনন্দ হয়, প্রদর্শনীর আনন্দ না হয় — কারণ যেটা দেখানোর জন্য রাখা হয়, সেটাই সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ে। করিমুল সাহেবের মতো যারা নতুন গাড়ি বা বাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা এটাই যে সমাধানটা জটিল কিছু না — নিয়মিত কয়েকটা দোয়া, একটু সংযত আচরণ, আর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলেই এই ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসে, আর সেই সাথে ফিরে আসে নিয়ামত ভোগ করার প্রকৃত প্রশান্তি, যেটা ভয় নিয়ে বেঁচে থাকলে পাওয়া যায় না, কারণ একটা গাড়ি বা একটা বাড়ি শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দেওয়া একটা উপকরণ মাত্র, স্থায়ী কিছু না।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/new-car-house-evil-eye-protection


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ