
নবজাতক শিশুর বদনজর থেকে সুরক্ষার উপায়
নবজাতকের হঠাৎ কান্নাকাটি, খাওয়ায় অনীহা বা ঘুমের ব্যাঘাত কি বদনজরের লক্ষণ? রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের সুন্নাহ অনুযায়ী সুরক্ষার দোয়া, লক্ষণ চেনার উপায় ও করণীয় জেনে নিন।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
সাত দিনের একটা মেয়ে বাবু, গায়ের রং টকটকে ফর্সা, বড় বড় চোখ। আকিকার পর থেকে বাড়িতে মানুষের আনাগোনা লেগেই আছে — খালা, ফুপু, পাশের বাসার আন্টি, সবাই একনজর দেখতে আসছেন, কোলে নিচ্ছেন, গাল টিপে আদর করছেন। সেদিন বিকেলেই অন্তত পনেরো-বিশজন মানুষ এসে বলে গেছেন, "আহা, কী সুন্দর হইছে মেয়েটা, একদম পুতুলের মতো।" রাত বাড়ার সাথে সাথে বাবুটা কাঁদতে শুরু করল, কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না। বুকের দুধ খেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল, শরীরটা কেমন যেন নেতিয়ে পড়েছিল, ঘুমের মধ্যে বারবার চমকে উঠছিল। মা সারারাত ঘুমাতে পারলেন না। সকালে ডাক্তার দেখানো হলো, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তেমন কিছু পাওয়া গেল না, লেখা হলো "পর্যবেক্ষণে রাখুন।" দাদি তখন আস্তে করে বললেন, এত মানুষ দেখে গেছে কালকে, নজর লেগে যায়নি তো?
এই ধরনের ঘটনা আল-শিফায় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো মা-বাবার মুখ থেকে শোনা যায় — কেউ আসেন ফোনে কাঁপা গলায়, কেউ সরাসরি অফিসে এসে বসে থাকেন চোখেমুখে দুশ্চিন্তা নিয়ে, সন্তানের এই আকস্মিক পরিবর্তনের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে না পেয়ে। নবজাতক শিশু পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস, আর ঠিক এই কারণেই সে সবচেয়ে বেশি বদনজরের ঝুঁকিতে থাকে — কারণ প্রতিটা দর্শনার্থীর মুগ্ধ দৃষ্টি তার ওপর গিয়ে পড়ে, অথচ শিশুটির নিজের শরীর তখনো নিতান্তই দুর্বল, প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে যে দোয়া পড়তেন নাতিদের জন্য
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্য নিয়মিত একটা দোয়া পড়ে আশ্রয় চাইতেন, আর বলতেন যে তাঁদের পিতা ইবরাহীম (আ.) নিজেও ইসমাইল ও ইসহাক (আ.)-এর জন্য এই একই কালিমা দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
উচ্চারণ: "উ'ঈযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তা-ম্মাতি, মিন কুল্লি শাইত্বা-নিওঁ ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাহ।"
অর্থ: "আমি তোমাদের দুজনের জন্য আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, প্রতিটি শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে, এবং প্রতিটি ক্ষতিকর নজর থেকে।"
সূত্র: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৩৭১
এই একটা হাদিসই যথেষ্ট প্রমাণ যে নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বদনজরের সতর্কতা কোনো লোকজ কুসংস্কার না, বরং স্বয়ং নবীজির সুন্নাহ। যিনি নিজে ওহীর মাধ্যমে সরাসরি হেফাজতপ্রাপ্ত, তিনিও তাঁর সবচেয়ে প্রিয় নাতিদের জন্য এই দোয়া বাদ দেননি।
নবজাতকের বদনজরের লক্ষণ কী কী
হঠাৎ অতিরিক্ত কান্নাকাটি, বিশেষত সন্ধ্যা বা রাতের দিকে যা আগে কখনো এমন ছিল না; স্তন্যপানে বা খাওয়ায় হঠাৎ অনীহা; ঘুমের মধ্যে বারবার চমকে ওঠা বা আঁতকে জেগে যাওয়া; শরীর নেতিয়ে পড়া, গা এলিয়ে থাকা, চোখেমুখে একধরনের নিস্তেজ ভাব; ওজন বৃদ্ধির স্বাভাবিক গতি হঠাৎ থমকে যাওয়া বা কমে যাওয়া; আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্যাটার্ন — কোনো মেহমান, প্রশংসা বা ছবি তোলার ঘটনার ঠিক পরপরই এই পরিবর্তনগুলো শুরু হওয়া। অনেক মা বলেন, বাচ্চাটা যেন হঠাৎ "অন্য বাচ্চা" হয়ে গেছে, চেনা যাচ্ছে না তার স্বভাব।
- একটানা কয়েক ঘণ্টা কান্না, কোলে নিলেও থামছে না, স্তন্যপান করাতে গেলে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে
- ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কেঁপে ওঠা বা দুই হাত ছড়িয়ে চমকে জেগে যাওয়া, বারবার একই রাতে
- শরীরের রং মলিন হয়ে যাওয়া, চোখের নিচে কালচে ছোপ, শরীর গরম না থাকলেও অস্থির ভাব
- পেট ফাঁপা বা বমির প্রবণতা বেড়ে যাওয়া, অথচ খাওয়ানোর ধরনে কোনো পরিবর্তন হয়নি
- যে শিশু আগে হাসিখুশি ছিল, হঠাৎ অকারণে ভয় পাওয়া বা আতঙ্কিত হওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া দেখানো
তবে একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার — নবজাতকের অনেক স্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা, যেমন কোলিক পেইন, গ্যাসের কষ্ট, রিফ্লাক্স, বা সাধারণ সর্দি-কাশিও প্রায় একই রকম লক্ষণ দেখাতে পারে। তাই প্রথমেই শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য, বদনজরের কথা ভাবাটা দ্বিতীয় ধাপ — যখন মেডিকেল পরীক্ষায় স্পষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না অথচ লক্ষণ থেকেই যায়।
কেন নবজাতকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর ও মন দুটোই তুলনামূলক শক্ত-পোক্ত, কিন্তু নবজাতকের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনো তৈরি হচ্ছে মাত্র। এর সাথে যুক্ত হয় আরেকটা বাস্তবতা — বাংলাদেশের পারিবারিক কাঠামোয় নতুন সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অতিথির ঢল নামে। প্রতিবেশী, দূর সম্পর্কের আত্মীয়, অফিসের সহকর্মী — সবাই দেখতে আসেন, প্রত্যেকের চোখ কিছুক্ষণের জন্য হলেও শিশুটির ওপর স্থির থাকে। এত অল্প সময়ে এত মানুষের দৃষ্টি একটামাত্র ছোট্ট শরীরের ওপর কেন্দ্রীভূত হওয়াটাই স্বাভাবিকভাবে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে যখন প্রশংসার সাথে আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না।
নবজাতকের বদনজর কাটানোর দোয়া কোনটি
ওপরে উল্লিখিত মু'আউবিযাতাইনের দোয়াটাই এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও হাদিসে সরাসরি প্রমাণিত। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা শিশুর কপালে হাত রেখে এটা পড়ে ফুঁ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এর পাশাপাশি সূরা আল-ফালাক্ব সম্পূর্ণ পড়ে ফুঁ দেওয়াও অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এই সূরাতেই সরাসরি হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
উচ্চারণ: "ক্বুল আ'ঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব্। মিন শাররি মা-খালাক্ব্। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা-ওয়াক্বাব্। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল উক্বাদ্। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ্।"
অর্থ: "বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে — তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে, রাতের অন্ধকার যখন ছড়িয়ে পড়ে তার অনিষ্ট থেকে, গিঁটে ফুঁ দেওয়া জাদুকরী চর্চার অনিষ্ট থেকে, আর হিংসুকের হিংসা থেকে যখন সে হিংসা করে।"
সূত্র: সূরা আল-ফালাক্ব, ১১৩ নং সূরা
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা — অতিথি আসার আগেই যা ঠিক করে নেবেন
দর্শনার্থীদের বিনয়ের সাথে অনুরোধ করুন প্রশংসার সাথে "মাশাআল্লাহ" বলতে — অনেক পরিবার এখন হাসিমুখে অতিথিদের এটা মনে করিয়ে দেন, আর এতে কেউ মনে কষ্টও পান না। শিশুকে খুব বেশি মানুষের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শন না করার চেষ্টা করুন, বিশেষত প্রথম চল্লিশ দিনে, যখন শিশুর শরীর সবচেয়ে বেশি দুর্বল থাকে। শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘন ঘন পোস্ট করা এড়িয়ে চলুন — শত শত অচেনা মানুষের চোখ একটা ছবির ওপর পড়াটা বাস্তব একটা ঝুঁকি তৈরি করে, যা নিয়ে ঘরে বসে থেকেও সতর্ক থাকা সম্ভব।
- নিজে প্রতিদিন সকালে ও ঘুমানোর আগে শিশুর কপালে হাত রেখে মু'আউবিযাতাইন ও সূরা ফালাক্ব পড়ে ফুঁ দিন
- ঘরে অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে দর্শনার্থীদের সময় নির্দিষ্ট করে দিন, বিশেষত রাতে শিশুকে বিশ্রামে রাখুন
- শিশুর গায়ে হালকা কোনো কাপড় বা টুপি দিয়ে সরাসরি দীর্ঘ দৃষ্টিপাত কিছুটা কমিয়ে আনুন, এটা কুসংস্কার না, বাস্তব সতর্কতা
- দাদি-নানিদের প্রচলিত পদ্ধতি যেমন কাজলের টিপ বা কালো সুতার বদলে তাদের একই উদ্দেশ্যে দোয়া পড়ানোর অভ্যাসে অভ্যস্ত করুন
দাদি-নানির অভিজ্ঞতা বনাম ইসলামি পদ্ধতি
আমাদের সমাজে প্রতিটা পরিবারেই একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ থাকেন, যিনি বাচ্চা দেখে কপালে কাজলের ফোঁটা দিয়ে দেন, বা হাতে কালো সুতা বেঁধে দেন "নজর কাটার" জন্য। এই আচরণের পেছনের উদ্বেগটা মিথ্যা না — নজর লাগার ভয়টা বাস্তব, সহীহ হাদিসেও তা স্বীকৃত। সমস্যা হলো পদ্ধতিতে। কাজল বা সুতার নিজের মধ্যে কোনো ক্ষমতা নেই, আর এই বস্তুগুলোর ওপর ভরসা রাখাটাই ইসলামে নিষিদ্ধ, কারণ এতে করে অজান্তেই ভরসার জায়গাটা আল্লাহর বদলে একটা বস্তুর দিকে সরে যায়। তাই দাদি-নানির উদ্বেগকে সম্মান জানিয়ে তাদের একই উদ্দেশ্যে মু'আউবিযাতাইন বা সূরা ফালাক্ব পড়ে ফুঁ দেওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত করানোই সবচেয়ে ভালো সমাধান — উদ্দেশ্য এক থাকে, পদ্ধতিটা শুধু কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক হয়ে যায়।
বদনজর লেগে গেলে করণীয়
যদি জানা যায় কার দৃষ্টি থেকে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে, সেই ব্যক্তিকে বিনয়ের সাথে অজু করতে অনুরোধ করে সেই পানি শিশুর মাথা, বুক ও হাত-পায়ে আলতোভাবে মুছে দিন — এটা সহীহ হাদিসে বর্ণিত একটা প্রতিকার, যেখানে সরাসরি নির্দেশ এসেছে "যার নজরে সমস্যা হয়েছে বলে সন্দেহ হয়, তাকে গোসল করতে বলা হোক, আর সেই পানি আক্রান্তের গায়ে ঢেলে দেওয়া হোক।" এছাড়া কোরআনের আয়াত পড়ে ফুঁ দেওয়া রুকইয়াহ পানি অল্প পরিমাণে শিশুর শরীরে মুছে দেওয়া যায়। এখানে একটা বাস্তব সতর্কতা — ছয় মাসের কম বয়সী পুরোপুরি বুকের দুধ খাওয়া শিশুকে অতিরিক্ত পানি খাওয়ানো ডাক্তাররা নিষেধ করেন, তাই রুকইয়াহ পানি খাওয়ানোর বদলে শুধু শরীরে মুছে দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
কোনোভাবেই তাবিজ, কালো সুতা, বা কাজল দিয়ে টিপ দেওয়ার মতো বস্তু-নির্ভর "সুরক্ষা" ব্যবহার করবেন না। ইসলামে এই ধরনের পদ্ধতি নিষিদ্ধ, কারণ এখানে সুরক্ষা আসছে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে একটা বস্তু থেকে, আল্লাহর কালাম থেকে না। প্রকৃত হেফাজত আসে কোরআন-হাদিসভিত্তিক দোয়া থেকে, কোনো সুতা বা তাবিজ থেকে না।
বড় ভাইবোনের অজান্তে হিংসাও একটা বাস্তব দিক
একটা বিষয় অনেক অভিভাবক খেয়াল করেন না — বাড়িতে নতুন সন্তান আসার পর বড় ভাই বা বোনের মনেও অজান্তে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, কারণ হঠাৎ পরিবারের সব মনোযোগ নতুন বাবুর দিকে চলে যায়। এটা কোনো ইচ্ছাকৃত হিংসা না, কিন্তু ছোট্ট মনে জমে থাকা এই অনুভূতি থেকেও তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতি হতে পারে বলে আলেমরা উল্লেখ করেন। তাই বড় সন্তানকেও ছোট বাবুর জন্মে সমান গুরুত্ব দিন, তাকেও ছোট ভাইবোনের জন্য দোয়া পড়তে শেখান — এতে তার মনে ভালোবাসার অনুভূতি জন্মায়, অজান্তে তৈরি হওয়া দূরত্বও কমে আসে।
কখন ডাক্তার, কখন রাক্বীর সাহায্য নেবেন
শিশুর জ্বর, বমি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া বা অন্য যেকোনো শারীরিক উপসর্গ থাকলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান — এই ধাপ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না। মেডিকেল পরীক্ষায় কোনো কারণ না পাওয়া গেলে এবং কান্নাকাটি, খাওয়ায় অনীহা বা অস্থিরতার মতো লক্ষণ কয়েকদিনেও কমে না এলে একজন অভিজ্ঞ রাক্বীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখা ভালো, একবার-দুবার ডাক্তার দেখিয়ে সমাধান না পাওয়া মানেই সেটা বদনজর, এমন সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া করে পৌঁছানোও ঠিক না — কিছু শিশুর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে সময় লাগে, বিশেষজ্ঞ বদলে দ্বিতীয় মতামত নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত আমল শুরু করার পর কারো শিশুর অবস্থার উন্নতি দুই-তিন দিনেই দেখা যায়, কারো ক্ষেত্রে সময় লাগে বেশি — এখানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব না, কারণ প্রকৃত নিরাময় একমাত্র আল্লাহর হাতে।
এই লেখায় বর্ণিত প্রতিটা পদ্ধতিই কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহর অংশ — কোনো শিরক বা কুফরি চর্চা নয়, কোনো পাল্টা জাদু বা তাবিজ-তদবির শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমল নয়। একজন রাক্বীও নিজে থেকে কোনো রোগ সারাতে পারেন না, তিনি শুধু আল্লাহর কালাম দিয়ে দোয়া করার মাধ্যম মাত্র, আর নিরাময়ের একমাত্র মালিক আল্লাহ নিজে। এই ভরসাটুকু মনে রেখেই একজন মা-বাবার উচিত ধৈর্য ধরে নিয়মিত আমল চালিয়ে যাওয়া, তাড়াহুড়া করে কোনো ভুল পথে না যাওয়া।
নবজাতক নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে সবার আগে ডাক্তার দেখান, প্রয়োজনে আল-শিফার ওয়েবসাইট থেকেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন — নিয়মিত সিরিয়াল ফি ৪৯৯ টাকা, আর রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকায় সিরিয়াল পাওয়া যায়।
একটা সাত দিনের বাবুর কান্না থামাতে ওষুধ যতটা কাজ করে না, তার চেয়ে বেশি স্বস্তি আসে যখন মা নিজে হাত রেখে মু'আউবিযাতাইন পড়েন — এই বিশ্বাসটাই আসল হেফাজতের শুরু।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- হঠাৎ সুস্থ পোষা প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে বদনজরের ভূমিকা ও করণীয়
- বদনজরে আক্রান্ত হলে ঘুমের সমস্যা ও দুঃস্বপ্ন — লক্ষণ চেনা ও প্রতিকার
- ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে বদনজর থেকে কৃষকের সতর্কতা ও করণীয়
- আত্মীয়-স্বজনের হিংসাত্মক নজর থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার উপায়
- বিয়ের কনে-বরকে বদনজর থেকে সুরক্ষার আমল ও করণীয়
- নতুন করে ঘর সাজানোর পর বদনজরের ঝুঁকি ও করণীয়