
নতুন বাসায় ওঠার আগে জাদু থেকে সুরক্ষার প্রস্তুতি
নতুন বাসার চাবি হাতে পাওয়ার আনন্দে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির কথা প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়। জিনিসপত্র তোলার আগে ঘর পরিষ্কার, প্রবেশের দোয়া ও তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাদু-অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি জানুন।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
মিরপুরের একটা নতুন ফ্ল্যাটের চাবি হাতে পেয়ে এক দম্পতি এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে সেদিনই ট্রাক ভাড়া করে জিনিসপত্র তুলে ফেলেছিলেন। বিয়ের পর প্রথম নিজেদের বাসা, রং করানো দেয়াল, নতুন পর্দা— সবকিছু নিয়ে এত ব্যস্ততা ছিল যে বাসাটার আগের ভাড়াটিয়া কে ছিলেন, কেন তিনি হঠাৎ বাসা ছেড়ে দিলেন, বা বাসাটা কতদিন খালি পড়ে ছিল— এসব প্রশ্ন করার কথাই মাথায় আসেনি। মাস দুয়েক পর থেকে বাসায় একটা অদ্ভুত অস্থিরতা শুরু হলো— রাতে ঘুম আসতে চাইত না, ছোটখাটো বিষয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত, যা আগে কখনো হয়নি। পরে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে জানা গেল, আগের ভাড়াটিয়া পারিবারিক অশান্তির কারণে হঠাৎ বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাটা প্রমাণ করে না যে বাসাতেই কোনো সমস্যা ছিল, কিন্তু এটা মনে করিয়ে দেয়— নতুন বাসায় ওঠার সময় আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিটা আসবাবপত্র সাজানোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ এটাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়।
বাসা বদলের সময়টা কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
একটা নতুন জায়গায় প্রবেশের অর্থ হলো, সেই জায়গার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা নিয়ে বসবাস শুরু করা। আগের বাসিন্দার সাথে কারও শত্রুতা ছিল কিনা, সেখানে কোনো পারিবারিক অশান্তি বা অসুস্থতা ঘটেছিল কিনা, বাসাটা দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকার সময় কী অবস্থায় ছিল— এসব প্রশ্নের উত্তর প্রায় কখনোই সম্পূর্ণভাবে জানা সম্ভব হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ভ্রমণের সময় বা নতুন কোনো স্থানে অবতরণের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন, যা থেকে বোঝা যায় অজানা পরিবেশে প্রবেশের সময় আল্লাহর কাছে বাড়তি সুরক্ষা চাওয়াটা সুন্নাহরই একটা অংশ। তাই নতুন বাসায় ওঠাকে শুধু একটা লজিস্টিক ঝামেলা হিসেবে না দেখে একটা আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির সময় হিসেবেও দেখা দরকার।
বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে যা জিজ্ঞেস করা উচিত
বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বাসা দেখার সময় মানুষ সাধারণত ভাড়া, রুমের আকার, বাথরুম-রান্নাঘরের অবস্থা, আর যাতায়াত সুবিধা নিয়েই বেশি মাথা ঘামান, অথচ কয়েকটা সহজ প্রশ্ন করলেই অনেক অনিশ্চয়তা আগেভাগে কমিয়ে ফেলা যায়। বাড়িওয়ালা বা দালালের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে আগের ভাড়াটিয়া কেন বাসা ছেড়েছেন, বাসাটা কতদিন খালি ছিল, আর এই বাসায় বা বিল্ডিংয়ে আগে কোনো বড় ধরনের সমস্যা— যেমন দীর্ঘ অসুস্থতা, পারিবারিক ভাঙন, বা আকস্মিক মৃত্যু— হয়েছিল কিনা। বাড়িওয়ালা হয়তো সবসময় পুরো সত্যি বলবেন না, কিন্তু প্রশ্নটা করার মধ্য দিয়েই একটা সচেতনতা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি বাসাটা কোনো কবরস্থান, পরিত্যক্ত জমি বা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পুরনো বিল্ডিংয়ের গা ঘেঁষে কিনা সেটাও লক্ষ্য রাখা ভালো, যদিও এসবের কোনোটাই একা একা কোনো সমস্যার প্রমাণ নয়— শুধু বাড়তি সতর্কতার একটা অংশ।
জিনিসপত্র তোলার আগে ঘর পরিষ্কার করা
আসবাবপত্র ঢোকানোর আগে পুরো বাসা ভালোভাবে ধোয়ামোছা করা উচিত— প্রতিটা ঘর, বারান্দা, রান্নাঘরের কোণা, বাথরুমের পাইপের আশেপাশে, আর সিঁড়ির নিচের ফাঁকা জায়গাও বাদ না দিয়ে। এই পরিষ্কারের কাজটা তাড়াহুড়ো করে একদিনে সেরে ফেলার চেয়ে সময় নিয়ে প্রতিটা কোণা খুঁটিয়ে দেখাটাই বেশি কার্যকর, কারণ এই সময়টাতেই সবচেয়ে ভালোভাবে বোঝা যায় বাসার প্রকৃত অবস্থা কেমন। দেয়ালের ফাঁকে গুঁজে রাখা কাগজ, দরজার চৌকাঠের নিচে বা জানালার ফ্রেমের আশেপাশে পোঁতা কিছু, সিলিং ফ্যানের উপরে বা আলমারির পেছনে অস্বাভাবিক জায়গায় রাখা সুতা-চুলের মতো কিছু— এসব যদি নজরে পড়ে, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে ধীরস্থিরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে কী করবেন
এমন কিছু পাওয়া গেলে সেটার উপর সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস তেলাওয়াত করে তারপর সরানো, এবং বাড়ির বাইরে নিরাপদ কোনো জায়গায় পুড়িয়ে বা প্রবহমান পানিতে ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট। এটা নিয়ে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা করা, বা আগের ভাড়াটিয়াকে দোষারোপ করে বসাটা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অনেক সময় এসব জিনিস নিছক পুরনো আবর্জনাও হতে পারে। মূল কথা হলো, বস্তুটা যাই হোক না কেন, সেটাকে দ্রুত ও নিরাপদে সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট, এ নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
ঘরে ঢোকার সময়কার আমল
হাদিসে নতুন কোনো জায়গায় প্রবেশের সময় দোয়া পড়ার শিক্ষা এসেছে— আল্লাহর কাছে সেই জায়গার কল্যাণ চাওয়া এবং তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া। সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় একটা নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন—
"বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা" — আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম, আল্লাহর নামে আমরা বের হলাম, এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপরই আমরা ভরসা করলাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯৬)
ঘরে ঢোকার আগে সালাম দিয়ে ঢোকা এবং বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ করাটাও সহজ কিন্তু কার্যকর একটা অভ্যাস। নতুন বাসায় প্রথমবার প্রবেশের সময় এই দোয়াটা জোরে পড়ে গোটা পরিবার একসাথে ঢুকলে এটা শুধু আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্যই না, পরিবারের সবার মনে একটা ইতিবাচক ও নিরাপদ অনুভূতি তৈরির জন্যও সহায়ক হয়।
কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঘর প্রস্তুত করা
জিনিসপত্র গোছানোর প্রথম দিনগুলোতে ঘরের প্রতিটা কোণে শোনা যায় এমনভাবে সূরা আল-বাক্বারাহ তেলাওয়াত করা উচিত। সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
"লা তাজআলু বুয়ুতাকুম মাকাবিরা, ইন্নাশ শাইতানা ইয়ানফিরু মিনাল বাইতিল্লাযি তুক্বরাউ ফিহি সুরাতুল বাক্বারাহ" — তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিয়ে ফেলো না (অর্থাৎ ঘরে ইবাদত-তেলাওয়াত করো), নিশ্চয় যে ঘরে সূরা আল-বাক্বারাহ পাঠ করা হয় সেই ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৮০)
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ঘরে নিয়মিত তেলাওয়াতের একটা পরিবেশ থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি ও সূরা আল-বাক্বারাহর শেষ দুই আয়াত পড়ার অভ্যাস শুরু থেকেই তৈরি করে নেওয়া ভালো।
প্রথম সপ্তাহের একটা সহজ রুটিন
নতুন বাসার প্রথম কয়েক সপ্তাহের জন্য একটা নিয়মিত রুটিন বানিয়ে ফেলা যায়— ফজরের পর সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস, দিনের কোনো এক সময় মোবাইলে বা নিজে মুখস্থ থেকে সূরা আল-বাক্বারাহর কিছু অংশ ঘরে শোনা যায় এমনভাবে চালানো, আর রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি ও সূরা আল-বাক্বারাহর শেষ দুই আয়াত। এই অভ্যাসটা একবার তৈরি হয়ে গেলে পরবর্তীতে এটা বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়, আর পরিবারের বাচ্চারাও ছোট থেকেই এই পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
ঘরে যা রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে আছে, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। তাই দেয়ালে বড় প্রাণীর মূর্তি জাতীয় সৌখিন জিনিসপত্র, কুসংস্কারমূলক তাবিজ-কবচ, বা "নজর থেকে বাঁচার" নামে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন প্রতীক-চিহ্নওয়ালা সাজসজ্জার জিনিস ঘরে রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত। আগের বাসিন্দার রেখে যাওয়া এমন কিছু থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলাই ভালো, কারণ এগুলো ইসলামি বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক এবং ঘরে ফেরেশতার রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটা কারণ হতে পারে।
সাজসজ্জার নামে বিক্রি হওয়া প্রতীকী জিনিস নিয়ে সতর্কতা
বর্তমানে বিভিন্ন হোম ডেকোর দোকানে "নজর থেকে বাঁচার" নামে নীল চোখের পুঁতি, নির্দিষ্ট ধাতব প্রতীক, বা ভিনদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন আচার-নিদর্শন সাজসজ্জার আইটেম হিসেবে বিক্রি হয়। এগুলো দেখতে নিরীহ ও আকর্ষণীয় মনে হলেও, এসবের পেছনে থাকা বিশ্বাস— যে বস্তুটাই নিজে থেকে ক্ষতি ঠেকিয়ে দেবে— ইসলামি আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ প্রকৃত সুরক্ষা আসে একমাত্র আল্লাহর কাছে দোয়া ও তাঁর কালাম থেকে, কোনো বস্তু বা প্রতীক থেকে নয়। ঘর সাজানোর সময় এই ধরনের জিনিস এড়িয়ে গিয়ে বরং ইসলামি ক্যালিগ্রাফি বা কুরআনের আয়াত সংবলিত শোভাবর্ধনকারী জিনিস বেছে নেওয়াটাই অধিক উপযুক্ত।
আগের বাসিন্দার রেখে যাওয়া জিনিসপত্র নিয়ে সতর্কতা
পুরনো আসবাব, বিশেষ করে বিছানা, আলমারি বা পুরনো বালিশ কিছু না বলেই ব্যবহার শুরু করে দেওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। সম্ভব হলে এসব জিনিস আলাদাভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া, অন্তত রোদে দিয়ে ভালোভাবে ঝেড়েমুছে ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে গদি বা তোশকের ভেতরের অংশ, আলমারির পেছনের ফাঁকা জায়গা, আর দরজা-জানালার উপরের অংশ— এসব জায়গা একবার ভালো করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এখানেই সাধারণত কিছু লুকিয়ে রাখা হলে সহজে চোখে পড়ে না।
প্রতিবেশী সম্পর্কে সচেতনতা ও দোয়া
নতুন এলাকায় ওঠার পর প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা থাকে। ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে খারাপ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। নতুন বাসায় ওঠার পর প্রতিবেশীদের সাথে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা, ছোটখাটো সাহায্য-সহযোগিতা করা, আর একই সাথে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য— যেমন আয়-উপার্জনের বিস্তারিত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত— অপরিচিত প্রতিবেশীর সাথে শুরুতেই শেয়ার না করাটা একটা ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত অভ্যাস। সম্পর্ক ভালো থাকলে হিংসা বা শত্রুতার সুযোগ এমনিতেই কমে আসে।
দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার অভ্যাস
নতুন বাসায় ওঠার প্রথম মাসটা যতটা গুরুত্ব দিয়ে কাটানো হয়, তার প্রভাব পরবর্তী বছরগুলোতেও থাকে— নিয়মিত তেলাওয়াত আর দোয়ার অভ্যাস একবার তৈরি হয়ে গেলে সেটা বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়। বাসায় ওঠার পর থেকেই পরিবারে অস্বাভাবিক ঝগড়া, অসুস্থতা বা অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেলে, যা আগে ছিল না, তাহলে একা একা অনুমান না করে রুকইয়াহর মাধ্যমে পরিস্থিতি যাচাই করিয়ে নেওয়া ভালো।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন
উপরের সবগুলো ধাপ অনুসরণ করার পরও যদি বাসায় ওঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে থাকে— বারবার দুঃস্বপ্ন, ঘরে অস্বাভাবিক শব্দ বা গন্ধ, বা পরিবারে অহেতুক ঝগড়া বেড়ে যাওয়া— তাহলে একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার রাক্বীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। আল-শিফার ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যায়— নিয়মিত ফি ৪৯৯ টাকা, রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকা, বাংলা কিউআরে পেমেন্ট করলে হুজুরের ইমো নম্বর দেখানো হয়, সেখানে বাসার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি জানিয়ে পরামর্শ নেওয়া যায়।
সময় নিয়ে বাস্তব কথা
নতুন বাসায় সম্পূর্ণ মানিয়ে নিতে ও একটা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে সময় লাগে, এবং এখানে কোনো আধ্যাত্মিক ঝুঁকি থাকুক বা না থাকুক এটা স্বাভাবিক। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সময়টাকে জাদুর লক্ষণ ভেবে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, আবার সত্যিকারের অস্বাভাবিক প্যাটার্ন দেখা দিলে তা অগ্রাহ্যও করা উচিত না। দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাটাই বিচক্ষণতা। নতুন জায়গায় সন্তানদের স্কুল বদল, পরিবারের রুটিনে পরিবর্তন, বা আর্থিক চাপের কারণেও প্রথম কয়েক মাস কিছুটা অস্থির লাগতে পারে— এই স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়াকে আধ্যাত্মিক সমস্যা থেকে আলাদা করে দেখাটা জরুরি, আর সেই বিচার করতে সময় ও ধৈর্য দুটোই প্রয়োজন হয়।
নিরাময় ও সুরক্ষা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই লেখায় বর্ণিত আমল কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী প্রস্তুতির একটা পথনির্দেশ। এখানে কোনো শিরক বা কুফরি চর্চার সুযোগ নেই— কোনো পাল্টা জাদু নয়, তাবিজ নয়, তদবির শাস্ত্রের কোনো বই থেকে নেওয়া আমল নয়, শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আমল ও রুকইয়াহ।
ইট-সিমেন্টের দেয়াল দিয়ে আসলে ঘর হয় না, ঘর হয়ে ওঠে সেই দেয়ালের ভেতর যা তেলাওয়াত হয় আর যেভাবে বসবাস করা হয়, তা দিয়ে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- সিহর তাসখীর: কাউকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জাদু থেকে মুক্তির উপায়
- হঠাৎ চুল পড়া ও চর্মরোগ কি জাদুর লক্ষণ? জানুন বাস্তব পার্থক্য
- মেয়ের বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে, তবু কোনো সম্বন্ধ আসছে না কেন?
- তান্ত্রিক-কবিরাজের কাছে না গিয়ে জাদু থেকে বাঁচার দৈনন্দিন আমল
- বাচ্চাদের অস্বাভাবিক কান্না ও আচরণ পরিবর্তনের পেছনে কি জাদুর প্রভাব থাকতে পারে?
- পারিবারিক ব্যবসায় ভাইবোনদের হিংসা থেকে জাদুর ঝুঁকি ও প্রতিকার