খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় বদনজরের প্রভাব

খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় বদনজরের প্রভাব

খেলোয়াড়ের ফর্ম হঠাৎ খারাপ হওয়া, অব্যাখ্যাত চোট বা টুর্নামেন্টের আগে অসুস্থতা কি বদনজরের লক্ষণ? আয়াতুল কুরসিসহ ম্যাচের আগে-পরে পড়ার দোয়া ও করণীয় বিস্তারিত জানুন।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

জেলা পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেছিল রাফসান। স্থানীয় পত্রিকায় তার নাম ছাপা হলো, কোচ সবার সামনে বললেন "এই ছেলে একদিন জাতীয় দলে খেলবে।" ফাইনাল ম্যাচের আগের রাতে হঠাৎ তার পায়ে অসহ্য ব্যথা শুরু হলো, কোনো আঘাত ছাড়াই। ফিজিওথেরাপিস্ট দেখেও নির্দিষ্ট কোনো কারণ পেলেন না। ফাইনালে রাফসান খেলল ঠিকই, কিন্তু আগের পাঁচ ম্যাচের সেই আত্মবিশ্বাসী ছেলেটাকে যেন খুঁজে পাওয়া গেল না — সহজ সুযোগ নষ্ট করল বারবার, শরীর ভারী লাগছিল বলে পরে জানিয়েছিল। এই ধরনের গল্প খেলাধুলার জগতে নতুন কিছু না, আর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটা ব্যাখ্যা আছে যেটা নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।

সহীহ মুসলিমে আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত একটা হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "বদনজর সত্য" (আল-আইনু হাক্ব)। এই একটা বাক্য থেকেই বোঝা যায়, কোনো কিছুতে অসাধারণ সাফল্য বা প্রতিভা দেখা দিলে সেটাও এই প্রভাবের বাইরে না। খেলাধুলার মাঠ এমন একটা জায়গা, যেখানে হাজার চোখ একসাথে একজন খেলোয়াড়ের দিকে তাকিয়ে থাকে — স্টেডিয়ামে, টিভিতে, এখন তো মোবাইল স্ক্রিনেও। এত মানুষের দৃষ্টি একসাথে পড়ার এই পরিবেশটাই বদনজরের জন্য একটা স্বাভাবিক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা তৈরি করে।

খেলাধুলা নিজে ইসলামে নিষিদ্ধ কিছু না

এখানে একটা বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার হওয়া দরকার — প্রতিযোগিতা বা খেলাধুলা নিজে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আয়েশা (রা.)-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড়কে উৎসাহিত করেছেন। সমস্যাটা প্রতিযোগিতায় না, বরং প্রতিযোগিতার সাথে জড়িয়ে থাকা প্রশংসা, তুলনা আর মুগ্ধতার অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশে। একজন খেলোয়াড়ের প্রতিভাকে সম্মান জানানো ভালো, কিন্তু সেই সম্মান জানানোর সঠিক পদ্ধতি না জানলেই সমস্যা তৈরি হয়।

মাঠে বদনজর কীভাবে প্রকাশ পায়

যে খেলোয়াড় টানা কয়েক ম্যাচ দুর্দান্ত ফর্মে ছিল, হঠাৎ তার খেলায় ছন্দপতন দেখা যায় — কোনো আঘাত ছাড়াই শরীর ভারী লাগে, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, সহজ সুযোগও নষ্ট করতে থাকে। কখনো কখনো টুর্নামেন্টের ঠিক আগে অদ্ভুতভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বা চোট পায় এমন জায়গায় যেখানে আগে কখনো সমস্যা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় খেলোয়াড় শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ, কিন্তু মাঠে নামলেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলে, সাধারণ ভুল করতে থাকে যা তার সক্ষমতার সাথে যায় না। প্রতিটা খারাপ পারফরম্যান্স যে বদনজরের কারণে হয়, তা বলা ঠিক না — খেলাধুলায় ফর্ম ওঠানামা করাটাই স্বাভাবিক, আর চোট-আঘাতের পেছনে শারীরবৃত্তীয় কারণও থাকে। তাই ফিজিওথেরাপিস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটা প্রথম ধাপ হওয়া উচিত, রুকইয়াহ তার বিকল্প না, বরং সহায়ক একটা দিক।

বদনজর সন্দেহ করার আগে যাচাই করা প্রয়োজন যেসব বিষয়

একজন খেলোয়াড়ের ফর্ম খারাপ হওয়ার পেছনে বদনজর ছাড়াও আরও অনেক বাস্তব কারণ থাকতে পারে, যেগুলো আগে যাচাই করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, ভুল খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত অনুশীলনজনিত ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি, এমনকি সাম্প্রতিক কোনো পারিবারিক দুশ্চিন্তাও মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। কিশোর বয়সী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে শারীরিক বৃদ্ধির সময় হঠাৎ শরীরের সাথে সমন্বয়ে সমস্যা হওয়াটাও স্বাভাবিক, একে ভুলভাবে বদনজর বলে ধরে নেওয়া ঠিক না। এই সবগুলো সম্ভাবনা যাচাই করার পরও যদি সমস্যাটা রয়ে যায়, বিশেষত একটা নির্দিষ্ট প্রশংসা বা ঘটনার পরপরই যদি প্যাটার্নটা শুরু হয়ে থাকে, তখনই বদনজরের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা যায়।

প্রতিযোগিতায় ঝুঁকি কেন এত বেশি

প্রতিযোগিতার সাথে তুলনা আর ঈর্ষা প্রায় হাত ধরাধরি করে চলে। প্রতিপক্ষ, এমনকি নিজের দলের সতীর্থও কারো অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে ভেতরে ভেতরে একটা না-বলা অস্বস্তি অনুভব করতে পারে, যেটা থেকে বদনজর লাগার সুযোগ তৈরি হয়। এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিংসা না থাকলেও শুধু মুগ্ধতা থেকেই ক্ষতি হতে পারে — এই কারণেই কাউকে প্রশংসা করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোচ, সাংবাদিক বা দর্শকরা যখন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করেন, "এ ছেলে অপ্রতিরোধ্য", "একে থামানো অসম্ভব" জাতীয় ভাষা ব্যবহার করেন, তখন সেই প্রশংসার মধ্যে আল্লাহর নাম না থাকাটা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ম্যাচের আগে ও পরে পড়ার দোয়া

প্রতিদিনের সুরক্ষার জন্য কোরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত, আয়াতুল কুরসি, বিশেষভাবে কার্যকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে এই আয়াত পড়ে, আল্লাহ তার জন্য একজন হেফাজতকারী নিযুক্ত করেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তার কাছে ঘেঁষতে পারে না।

উচ্চারণ: "আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম, লা- তা'খুযুহূ সিনাতুওঁ ওয়ালা- নাওম, লাহূ মা- ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা- ফিল আরদ্ব, মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইন্দাহূ ইল্লা- বিইযনিহ্, ইয়া'লামু মা- বাইনা আইদীহিম ওয়ামা- খালফাহুম, ওয়ালা- ইউহীতূনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহী ইল্লা- বিমা- শা-আ, ওয়াসিআ কুরসিয়ুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব, ওয়ালা- ইয়াঊদুহূ হিফযুহুমা-, ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আযীম।"
অর্থ: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্যিকারের উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে। তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না তাঁর ইচ্ছা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর এ দুইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, মহান।"
সূত্র: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৫৫

ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে বা মাঠে নামার ঠিক আগে এই আয়াত পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দেওয়া, আর ম্যাচ শেষেও একবার পড়া — এই অভ্যাস অনেক মুসলিম খেলোয়াড়ই নিয়মিত চর্চা করেন।

হিংসা থেকে সুরক্ষার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ সূরা

সূরা আল-ফালাক্বও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ এতে সরাসরি হিংসুকের ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

উচ্চারণ: "ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা- হাসাদ।"
অর্থ: "এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।"
সূত্র: সূরা আল-ফালাক্ব, আয়াত ৫

টুর্নামেন্টের মৌসুমে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এই সূরা পড়ার অভ্যাস রাখলে দীর্ঘমেয়াদে একটা শক্ত সুরক্ষার বলয় তৈরি হয়, একবারের আমলের চেয়ে।

খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক করণীয়

  • ম্যাচের আগে ও পরে আয়াতুল কুরসি এবং সূরা ফালাক্ব-নাস নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করুন
  • নিজের সন্তান বা খেলোয়াড়ের প্রশংসা করার সময় "মাশাআল্লাহ" বলুন — কোচ, সতীর্থ, দর্শক সবাইকে এই অভ্যাসে উৎসাহিত করা যায়
  • বড় ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের আগে অতিরিক্ত প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে পোস্ট করা এড়িয়ে চলুন
  • ম্যাচের আগে নিজের ওপর রুকইয়াহ করার অভ্যাস রাখতে পারেন — নিজে নিজেই আয়াতুল কুরসি পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া যায়, এর জন্য কারো সাহায্য লাগে না
  • দলগতভাবে খেললে ম্যাচের আগে পুরো দল একসাথে সংক্ষিপ্ত দোয়া পড়ার অভ্যাস চালু করা যায়, এতে সবাই সমানভাবে সুরক্ষিত থাকে

মানসিক দিকটাও অবহেলা করা যাবে না

প্রতিযোগিতার চাপ, পারফরম্যান্স নিয়ে দুশ্চিন্তা, বা অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা থেকেও খেলোয়াড়ের ফর্ম খারাপ হতে পারে, যেটাকে অনেক সময় ভুলভাবে বদনজর বলে ধরে নেওয়া হয়। একজন খেলোয়াড় বা তার পরিবারের উচিত দুটো দিকই বিবেচনা করা — মানসিক চাপ সামলাতে প্রয়োজনে স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলিং নেওয়া, আর একইসাথে আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জায়গাটাও অবহেলা না করা। এই দুটো একে অপরের বিকল্প না, বরং পরিপূরক।

দর্শক ও পরিবারের ভূমিকা

মাঠে বসে থাকা দর্শকদেরও একটা দায়িত্ব আছে, যা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। কোনো খেলোয়াড় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালে হাততালি বা উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি মুখে "মাশাআল্লাহ" বলাটাও একটা সহজ অভ্যাস হতে পারে, বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষ যখন মাঠে বা টিভির সামনে বসে দেখেন। বাবা-মা সন্তানের খেলা দেখতে গিয়ে যতটা উত্তেজিত হয়ে প্রশংসা করেন, ঠিক ততটাই সচেতন থাকা দরকার সেই প্রশংসার সাথে আল্লাহর নাম জুড়ে দেওয়ার ব্যাপারে। ম্যাচ শেষে বাসায় ফিরে সন্তানের সাথে বসে একসাথে সূরা ফালাক্ব-নাস পড়ার অভ্যাস চালু করলে এটা পারিবারিক একটা রুটিনে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের মনেও নিরাপত্তার বোধ তৈরি করে।

কোচ ও ক্লাবের ভূমিকা

কোচ বা ক্লাব ম্যানেজমেন্ট চাইলে খেলোয়াড়দের এই সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন। কোনো খেলোয়াড়কে প্রকাশ্যে অতিমাত্রায় প্রশংসা না করে, তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পরিশ্রম আর দলগত প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরা যায়। সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের নিজেদেরও শেখানো যায় সাফল্যের কৃতিত্ব আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিয়ে বলা, "আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর সাহায্যে এবং পরিশ্রমে এই ফলাফল হয়েছে" — এই ছোট্ট অভ্যাসটাই দীর্ঘমেয়াদে বদনজরের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

কখন পেশাদার সাহায্য প্রয়োজন

যদি মনে হয় স্বাভাবিক কারণ ছাড়াই একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বা স্বাস্থ্য বারবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে — একের পর এক অব্যাখ্যাত চোট, টুর্নামেন্টের ঠিক আগে বারবার অসুস্থতা — তাহলে চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি রুকইয়াহর কথাও বিবেচনা করা যায়। আল-শিফায় রুকইয়াহর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় ওয়েবসাইট থেকেই, নিয়মিত সিরিয়াল ৪৯৯ টাকায়, আর রাতের জরুরি সিরিয়াল রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় নেওয়া যায়। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সমস্যা মিটে যাবে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া সততার পরিপন্থী — প্রতিটা পরিস্থিতি ভিন্ন, আর নিরাময় একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছাধীন। এখানে বর্ণিত প্রতিটা আমলই কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ বা কুফরি চর্চা নয়।

মাঠে প্রতিপক্ষ থাকে সামনে, কিন্তু বদনজরের কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট থাকে না — এটা নিজের মানুষ, এমনকি ভালোবাসার মানুষের চোখ থেকেও আসতে পারে, তাই সতর্ক থাকাটা কাউকে সন্দেহ করা না, বরং নিজের ও প্রিয়জনের সুরক্ষার একটা সাধারণ বুদ্ধিমত্তা।

প্রশ্নোত্তর — খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের মনে যা আসে

একজন খেলোয়াড় প্রশ্ন করতে পারেন, ম্যাচের মাঝপথে যদি হঠাৎ শরীর ভারী লাগতে শুরু করে, তখন কী করা যায়? এক্ষেত্রে খেলার মধ্যেই বিরতির সময় বা পানি পানের ফাঁকে মনে মনে আয়াতুল কুরসির শেষ অংশটুকু পড়ে নেওয়া যায়, সাথে গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে মনোযোগ পুনরায় খেলায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যায়। আরেকটা প্রশ্ন প্রায়ই আসে — প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের নেতিবাচক মন্তব্য বা টিটকারি কি বদনজরের সাথে সম্পর্কিত? সাধারণত এই ধরনের মন্তব্য মানসিক চাপ তৈরি করে, যা বদনজরের থেকে ভিন্ন একটা বিষয়, তবে উভয় ক্ষেত্রেই একই প্রতিরক্ষামূলক দোয়া কার্যকর, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হচ্ছে। আরেকটা সাধারণ প্রশ্ন হলো, দলগত খেলায় যদি পুরো দলের ফর্মই হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়, তখনও কি বদনজরের কথা ভাবা যায়? এক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য, তবে পুরো দলের ক্ষেত্রে সাধারণত মানসিক চাপ, কোচের কৌশলগত সমস্যা বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা আগে যাচাই করা উচিত, কারণ একসাথে অনেকজনের ওপর বদনজরের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, যদিও একেবারে অসম্ভব না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে দলের কোচ বা অধিনায়কের উচিত প্রথমে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার মূল খুঁজে বের করার চেষ্টা করা, তারপর প্রয়োজনে সবাই মিলে সুরক্ষার দোয়া পড়ার অভ্যাস চালু করা, কারণ একটা দলের ঐক্য যেমন মাঠের খেলায় সাহায্য করে, তেমনি আধ্যাত্মিক সুরক্ষায়ও সম্মিলিত আমল বাড়তি শক্তি যোগায় এবং দলের মধ্যে একটা ইতিবাচক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মানসিকতা তৈরি করে, যা মাঠের বাইরেও কাজে লাগে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/sports-competition-evil-eye


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ