ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া ও বাস্তব পদক্ষেপ

ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া ও বাস্তব পদক্ষেপ

ঋণের কারণে ঘুম হারাম হয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য নবীজির শেখানো দোয়া এবং ঋণ পরিশোধের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

রাত তিনটার দিকে ঘুম ভেঙে গেলে মাথায় প্রথম যে হিসাবটা আসে, সেটা কিস্তির অঙ্ক — কার কাছে কত বাকি, কবে শোধ দেওয়ার কথা ছিল, কাল ফোন এলে কী জবাব দেবেন। ঋণ শুধু আর্থিক সমস্যা নয়, এটা মনের ভেতর একধরনের ভারী বোঝার মতো বসে থাকে, যা নামাজেও মনোযোগ নষ্ট করে দেয় এবং সংসারে অশান্তি ডেকে আনে। অনেকে লজ্জায় আত্মীয়-বন্ধুদের কাছেও বিষয়টা খুলে বলতে পারেন না, ফলে চাপটা একা বয়ে বেড়াতে হয়।

ঋণ নিয়ে নবীজি (সাঃ) নিজে যা বলতেন

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজে প্রায়ই ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি তো প্রায়ই ঋণ থেকে আশ্রয় চান! জবাবে তিনি বললেন, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে কথা বললে মিথ্যা বলে আর ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে (সহীহ বুখারী, হাদিস ২৩৯৭)। এই একটি হাদিস থেকেই বোঝা যায়, ঋণ কেবল টাকার সংকট নয় — এটা মানুষের চরিত্র আর সততার ওপরও চাপ তৈরি করে। যিনি নিজে উম্মতের জন্য আদর্শ, তিনিও এই বাস্তবতা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। তাই ঋণে থাকা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটা এমন একটা অবস্থা, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ নবীজি নিজেই শিখিয়ে গেছেন।

যে দোয়াটি নিয়মিত পড়া যায়

এই হাদিসেই যে দোয়াটি এসেছে তা হলো — আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল মা'ছামি ওয়াল মাগরাম, অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই গুনাহ থেকে এবং ঋণের বোঝা থেকে। নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর, সালামের আগে এই দোয়া পড়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এই দোয়া পড়া মানে দিনে অন্তত পাঁচবার আল্লাহর কাছে সরাসরি এই সংকট থেকে মুক্তি চাওয়া। দোয়ার শব্দ মুখস্থ থাকা যতটা জরুরি, তার চেয়ে বেশি জরুরি অন্তরে সত্যিকারের অনুভূতি নিয়ে পড়া — যে মানুষটা সত্যিই এই বোঝা থেকে মুক্তি চায়, শুধু অভ্যাসবশত আউড়ে যাওয়া মানুষ নয়।

দোয়ার পাশাপাশি যেসব পদক্ষেপ ছাড়া চলে না

দোয়া করার পর হাত গুটিয়ে বসে থাকলে ঋণ নিজে থেকে কমে যায় না। কিছু বাস্তব পদক্ষেপ পাশাপাশি নেওয়া জরুরি।

  • ঠিক কার কাছে কত বাকি, কবে শোধ দেওয়ার কথা ছিল — এই হিসাবটা কাগজে লিখে স্পষ্ট করা
  • যাদের কাছে ঋণী, তাদের এড়িয়ে না গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি জানিয়ে নতুন করে সময় বা কিস্তি ভেঙে নেওয়ার কথা বলা
  • নতুন ঋণ, বিশেষত সুদভিত্তিক ঋণ নেওয়া থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকা
  • সংসারের খরচে অগ্রাধিকার ঠিক করা — কোনটা এখনই জরুরি, কোনটা পরে হলেও চলে
  • সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য হলেও দান-সদকা রাখা, যা রিযিকে বরকতের একটা উপায় হিসেবে বহু হাদিসে এসেছে
  • হালাল আয়ের নতুন পথ খোঁজা — বাড়তি সময়ে দক্ষতা বাড়ানো বা ছোট পরিসরে বাড়তি কাজ শুরু করা

ঋণ শোধ করার তাড়াহুড়োয় অনেকে শর্টকাট খোঁজেন — মিথ্যা বলে সময় নেওয়া, হিসাবে গরমিল করা, বা এমন লেনদেনে জড়ানো যেখানে সততা বজায় থাকে না। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও রিযিকের বরকত কমে যায়। ব্যবসা বা চাকরি যা-ই হোক, আয়ের উৎসে সততা বজায় রাখলে সেই আয় যত কমই হোক, তাতে টিকে থাকার মতো বরকত থাকে।

যখন মনে হয় শুধু চেষ্টায় কাজ হচ্ছে না

অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ সত্যিই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন, দোয়াও করছেন নিয়মিত, তবুও ঋণ থেকে বের হওয়ার পথ কিছুতেই তৈরি হচ্ছে না — আয়ের সব উৎস একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বা পরিবারে অস্বাভাবিক রকম বাধা আসছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ রুকইয়াহ পরামর্শ নিতে চান, এটা বোঝার জন্য যে সমস্যাটা শুধু আর্থিক ব্যবস্থাপনার নাকি এর সাথে বাড়তি কোনো আধ্যাত্মিক কারণ জড়িত। আলশিফা ডট বিডি-তে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে বাংলা কিউআর কোডে ফি পরিশোধ করা যায় — নিয়মিত সময়ের জন্য ৪৯৯ টাকা, আর রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি সময়ের জন্য ৯৯৯ টাকা। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে হুজুরের ইমো নম্বর জানিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা যায়।

ঋণগ্রস্ত মানুষ কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে — নবীজি (সাঃ) নিজে এই বাস্তবতা থেকে আশ্রয় চাইতেন। তাই এই দোয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং একজন সৎ মানুষ হয়ে থাকার সচেতন চেষ্টা।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/debt-relief-dua-and-effort


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ