
ভালো ও খারাপ স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ইসলামের দৃষ্টিতে কীভাবে বুঝবেন
সৎ স্বপ্ন আর শয়তানের পক্ষ থেকে আসা খারাপ স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য কীভাবে বোঝা যায় এবং কোনটা দেখলে কী করণীয়, হাদিসের আলোকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
নবিজি (সা.) বলেছেন, "ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। তোমাদের কেউ অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখলে সে যেন বাম দিকে হালকা থুতু ফেলে তিনবার, আর তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে সেটা তার কোনো ক্ষতি করবে না" (সহীহ মুসলিম, আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত)। এই একটা হাদিসের মধ্যেই আসলে স্বপ্ন নিয়ে বেশিরভাগ প্রশ্নের সমাধান লুকিয়ে আছে।
স্বপ্ন সবসময় একই উৎস থেকে আসে না
- কিছু স্বপ্ন সত্যিকারের ইঙ্গিত বহন করে, যাকে হাদিসে "রুইয়া সালিহা" বা সৎ স্বপ্ন বলা হয়েছে।
- কিছু স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো বা মন খারাপ করার উদ্দেশ্যে আসে।
- আর অনেক স্বপ্ন আসলে দিনের চিন্তা, ক্লান্তি বা মানসিক অবস্থার প্রতিফলন মাত্র, যার আলাদা কোনো তাৎপর্য নেই।
তাই প্রতিটা স্বপ্নকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করতে বসাটা বাস্তবসম্মত না। প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করা দরকার, স্বপ্নটা মনে প্রশান্তি রেখে গেছে নাকি ভয় আর অস্বস্তি রেখে গেছে।
সত্যিকারের ইঙ্গিতবাহী স্বপ্ন চেনার একটা সহজ লক্ষণ
নবিজি (সা.) বলেছেন, সৎ স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (সহীহ বুখারী)। এই ধরনের স্বপ্ন সাধারণত স্পষ্ট, সহজ, আর ঘুম ভাঙার পরও পরিষ্কার মনে থাকে। এর বিপরীতে শয়তানের পক্ষ থেকে আসা বা মনের জট পাকানো স্বপ্নগুলো এলোমেলো, ভীতিকর আর ঘুম ভাঙার পর বিস্তারিত মনে থাকে না। এই পার্থক্যটা বুঝতে পারলে কোন স্বপ্নটা নিয়ে ভাবা দরকার আর কোনটা এমনিই ভুলে যাওয়া উচিত, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
খারাপ স্বপ্ন দেখলে করণীয়
উপরের হাদিস অনুযায়ী তিনটে কাজ করার কথা বলা হয়েছে — বাম দিকে হালকা থুতু ফেলা তিনবার, শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, আর স্বপ্নটা কাউকে না বলা। এর পাশাপাশি অন্য বর্ণনায় এসেছে, ঘুমের পাশ পরিবর্তন করে শোয়া এবং ইচ্ছা হলে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেওয়া। এই ছোট ছোট আমলগুলো করলে স্বপ্নটা নিয়ে দিনভর দুশ্চিন্তা করে বেড়ানোর দরকার পড়ে না।
ভালো স্বপ্ন দেখলে করণীয়
ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত, আর হাদিসে বলা হয়েছে এই ধরনের স্বপ্ন শুধু তাদের কাছেই বলা ভালো যাদের সাথে সম্পর্ক ভালো আর যারা হিংসা করবে না। সূরা ইউসুফের ৫ নম্বর আয়াতে এই বিষয়টার একটা সুন্দর উদাহরণ আছে — ইউসুফ (আ.) যখন তার স্বপ্নের কথা বাবাকে বললেন, ইয়াকুব (আ.) তাকে বললেন এই স্বপ্ন যেন ভাইদের কাছে বর্ণনা না করে, কারণ তারা তখন হিংসাবশত তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে পারে। অর্থাৎ ভালো স্বপ্নও সবার কাছে বলে বেড়ানোর জিনিস না।
স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো
আজকাল অনলাইনে অনেক ধরনের "স্বপ্নের ব্যাখ্যা" পাওয়া যায়, যেখানে একটা নির্দিষ্ট জিনিস দেখলেই একটা নির্দিষ্ট অর্থ বলে দেওয়া হয়। এই চর্চাটা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ স্বপ্নের ব্যাখ্যা নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থা, সময় আর প্রেক্ষাপটের ওপর। যেকোনো সাধারণ দুশ্চিন্তার স্বপ্নকেও অনেকে বড় কোনো অশুভ ইঙ্গিত মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অথচ বেশিরভাগ স্বপ্নেরই আলাদা কোনো অর্থ নেই।
স্বপ্নে নবিজি (সা.)-কে দেখা নিয়ে একটা বিশেষ বিধান
হাদিসে এসেছে, নবিজি (সা.) বলেছেন, "যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে সত্যিই আমাকে দেখেছে, কেননা শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। এই বিধান স্বপ্নের জগতে একটা ব্যতিক্রম তৈরি করে — অন্য যেকোনো বিষয়ের স্বপ্নের চেয়ে এই ধরনের স্বপ্নকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এখানেও সতর্কতা দরকার, কারণ অনেকে নিজের কল্পনা বা ইচ্ছাপূরণকে এই ধরনের স্বপ্ন বলে ভুল করে ফেলেন।
স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন
একটা দুঃস্বপ্ন দেখে বিয়ে ভেঙে ফেলা, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া, বা কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না। স্বপ্ন একটা ইঙ্গিত হতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজন বিচার-বিবেচনা, পরামর্শ আর বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন। স্বপ্নকে একমাত্র ভিত্তি ধরে কিছু করে ফেললে পরে অনুশোচনা করতে হতে পারে।
বারবার একই দুঃস্বপ্ন দেখলে
মাঝেমধ্যে একটা খারাপ স্বপ্ন দেখা আর বারবার একই রকম ভয়ংকর স্বপ্নে ঘুম ভেঙে যাওয়া — এই দুটো এক জিনিস না। যদি একটানা অনেকদিন ধরে একই ধরনের দুঃস্বপ্নে ঘুম নষ্ট হতে থাকে, আর এর সাথে আরো কিছু অস্বস্তিকর উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলে নেওয়া ভালো। ওয়েবসাইট থেকে সময় বুক করে এই নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা যায়, নিয়মিত সেশনের ফি ৪৯৯ টাকা আর রাতের জরুরি সময়ের জন্য ৯৯৯ টাকা, পেমেন্ট বাংলা কিউআর কোডে।
"ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে" (সহীহ মুসলিম)। এই একটা লাইন মনে রাখলেই স্বপ্ন নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক অনেকটা কমে যায়।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- রুকইয়াহ সেশনে কান্না, কাঁপুনি বা ঘুম পাওয়া - স্বাভাবিক নাকি বিপদের লক্ষণ
- নিজে নিজে রুকইয়াহ করবেন কীভাবে - ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতি
- রুকইয়াহতে কোন সূরা-আয়াত সবচেয়ে বেশি পড়া হয় এবং কেন
- দলগত রুকইয়াহ নাকি একক — কোনটা বেশি কার্যকর
- রুকইয়াহর সময় কান্না বা হাসি আসে কেন
- রুকইয়াহ সেশনের আগে যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন
https://alshifa.bd/blog/good-vs-bad-dreams-islamic-interpretation