
সন্তানেরা বড় হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি ও দূরত্ব
সন্তানরা বড় হয়ে ঘর ছাড়ার পর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তৈরি হওয়া নীরবতা, পরিচয়-সংকট ও শারীরিক দূরত্বের কারণ এবং সূরা আর-রূমের আলোকে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করার বাস্তব পথ।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
বিয়ের বাইশ বছর পর নাসরিন ও তার স্বামীর সংসারে এখন শুধু তারা দুজন। বড় ছেলে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে হোস্টেলে থাকে, মেয়ে বিয়ে হয়ে নিজের সংসারে চলে গেছে। প্রতিদিন রাতের খাবার এখন নীরবতায় খাওয়া হয়। একসময় যে টেবিলে বাচ্চাদের পড়াশোনা, স্কুলের ঘটনা, খুনসুটি নিয়ে কথা চলত, সেখানে এখন শুধু কাঁটাচামচের শব্দ। নাসরিন একদিন হঠাৎ খেয়াল করলেন, তার স্বামীর সাথে শেষ কবে আধা ঘণ্টা টানা কথা হয়েছিল তা তিনি মনে করতে পারছেন না। রিমোট হাতে নিয়ে দুজন পাশাপাশি বসে টিভি দেখেন, কিন্তু কেউ কারো দিকে তাকান না, যেন দুজন অচেনা মানুষ একই সোফায় বসে আছেন নিতান্ত ভদ্রতার খাতিরে।
এই দৃশ্য অনেক দম্পতির জীবনে ঘটে, যারা বছরের পর বছর সন্তান লালন-পালনকে কেন্দ্র করে সংসার সাজিয়েছেন। সন্তান বড় হয়ে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ার পর দম্পতি হঠাৎ আবিষ্কার করেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একে অপরের সাথে সংযোগ কতটা ক্ষীণ হয়ে গেছে। এটাকে অনেকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ ভেবে মেনে নেন, অথচ এই একঘেয়েমি নিয়ে সচেতনভাবে কাজ করলে সম্পর্কটা আবার প্রাণবন্ত হতে পারে।
কেন এই দূরত্ব তৈরি হয়
সন্তান-কেন্দ্রিক সংসার থেকে দম্পতি-কেন্দ্রিক সংসারে ফেরা
সন্তান জন্মের পর থেকে বেশিরভাগ দম্পতির কথোপকথন ধীরে ধীরে সন্তানের স্কুল, পরীক্ষা, স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এসবকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। এই পরিবর্তন এতটাই ধীরে ঘটে যে কেউ খেয়ালই করেন না কখন স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে নিজেদের নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন, কবে থেকে প্রতিটা কথোপকথন সন্তানকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে তার কোনো নির্দিষ্ট তারিখও কারো মনে থাকে না। সন্তান বড় হয়ে যাওয়ার পর সেই কেন্দ্রবিন্দু হঠাৎ সরে যায়, আর দুজন আবিষ্কার করেন তাদের মাঝে আর তেমন কোনো সাধারণ বিষয় অবশিষ্ট নেই কথা বলার মতো।
নীরবতাকে অবহেলা মনে করার ভুল
দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে কিছু নীরবতা স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু যখন নীরবতা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং তার সাথে যুক্ত হয় একে অপরের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, তখন এটা আর স্বাভাবিক থাকে না। অনেক দম্পতি এই পরিবর্তনকে বয়স হয়ে গেছে এখন এমনই হয় বলে মেনে নেন, অথচ বাস্তবে এটা বছরের পর বছর একে অপরের অনুভূতির প্রতি মনোযোগ কমে যাওয়ার ফল, যা সচেতন প্রচেষ্টায় বদলানো সম্ভব।
নিজের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
বহু বছর ধরে যে নারী নিজেকে শুধু মা হিসেবে চিনেছেন, সন্তান ঘর ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি হঠাৎ নিজেকে জিজ্ঞেস করেন, মা ছাড়া আমি আসলে কে। একই প্রশ্ন অনেক পুরুষের মনেও জাগে, যিনি বছরের পর বছর নিজেকে শুধু সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন। এই পরিচয়-সংকট শুধু একা একা অনুভব করার বিষয় না, বরং দম্পতির মাঝে এই সংকট নিয়ে আলোচনা না হলে দুজনেই নিজের মতো করে একা একা এই শূন্যতার সাথে লড়াই করতে থাকেন, একে অপরকে সেই লড়াইয়ে সঙ্গী করতে পারেন না।
শারীরিক পরিবর্তন ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিধা
মধ্যবয়স ও তার পরবর্তী সময়ে শরীরে যে স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে অনেক দম্পতি খোলাখুলি কথা বলতে পারেন না। একে অপরের প্রতি শারীরিক ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়াকে অনেকে চুপচাপ মেনে নেন, ভাবেন এই বয়সে এটাই স্বাভাবিক, অথচ এই বিষয়ে সৎ ও লজ্জাহীন আলোচনা অনেক সময় সম্পর্কে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা আর মানসিক ঘনিষ্ঠতা একে অপরকে প্রভাবিত করে, একটা কমে গেলে আরেকটাও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়।
অবসর গ্রহণের সময়টাও একসাথে আসা
অনেক ক্ষেত্রে সন্তান ঘর ছাড়ার সময়টা স্বামীর চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার সময়ের সাথেও মিলে যায়। সারাজীবন কর্মব্যস্ত থাকা একজন মানুষ হঠাৎ সারাদিন ঘরে থাকতে শুরু করলে দুজনের রুটিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। স্ত্রী হয়তো বছরের পর বছর ঘর তার নিজের মতো করে গুছিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন, স্বামীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি তার কাছে নতুন এক ধরনের সমন্বয়ের চাহিদা তৈরি করে। এই দুই পরিবর্তন, সন্তানের চলে যাওয়া আর স্বামীর অবসর, একসাথে এলে সংসারে একটা বড় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা সময় নিয়ে বুঝে সামলাতে হয়।
সন্তানদের সাথে সম্পর্ক বনাম নিজেদের সম্পর্কের ভারসাম্য
সন্তান ঘর ছেড়ে যাওয়ার পর কিছু বাবা-মা শূন্যতা পূরণ করতে সন্তানের জীবনে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়েন, প্রতিদিন একাধিকবার ফোন করা, সন্তানের সংসারের প্রতিটা সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার চেষ্টা করা, এমনকি সন্তানের বিবাহিত জীবনেও অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করা। এই প্রবণতা মূলত নিজেদের সম্পর্কের শূন্যতা থেকে পালানোর একটা উপায়, কিন্তু এতে সন্তানের নতুন সংসারেও চাপ তৈরি হয়, আর নিজেদের সম্পর্কের মূল সমস্যাটাও অসমাধিত থেকে যায়। সন্তানকে ভালোবাসা আর সন্তানের জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করা, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বোঝা এই পর্যায়ে অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। সন্তানের প্রতি স্নেহ বজায় রেখেও নিজেদের সংসারকে আলাদা একটা পরিচয় দেওয়া সম্ভব, বরং এটাই দীর্ঘমেয়াদে উভয় পক্ষের জন্য স্বাস্থ্যকর।
কুরআনের শিক্ষা: দাম্পত্য বন্ধনের প্রকৃত ভিত্তি
আল্লাহ তায়ালা সূরা আর-রূমে দাম্পত্য সম্পর্কের গভীর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন।
ওয়া মিন আয়াতিহি আন খালাক্বা লাকুম মিন আনফুসিকুম আজওয়াজান লিতাসকুনু ইলাইহা ওয়া জাআলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতান ওয়া রাহমাহ, ইন্না ফি যালিকা লাআয়াতিল লিক্বাওমিয়ঁ ইয়াতাফাক্কারূন — অর্থ: আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো, এবং তিনি তোমাদের মাঝে স্থাপন করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সূরা আর-রূম, আয়াত ২১)
লক্ষ্য করার বিষয়, এই আয়াতে সন্তান-সন্ততির কথা উল্লেখ নেই। দাম্পত্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পরস্পরের মাঝে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়া, সন্তান লালন-পালন এই সম্পর্কের একটা অংশ হতে পারে, কিন্তু একমাত্র ভিত্তি না। যে দম্পতি এই মূল সম্পর্ককে ভুলে শুধু সন্তান-কেন্দ্রিক জীবন গড়ে তোলেন, সন্তান দূরে চলে যাওয়ার পর তারা যেন আবিষ্কার করেন মূল ভিত্তিটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এই আয়াত মনে করিয়ে দেয়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিজের মধ্যেই একটা স্বতন্ত্র ও যত্নের দাবিদার সম্পর্ক, যা প্রতিনিয়ত লালন করা প্রয়োজন।
সম্পর্ক নতুন করে জাগিয়ে তোলার উপায়
এই পর্যায়ে হুট করে বড় কিছু বদলে ফেলার দরকার নেই, বরং ছোট ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করা যায়।
- প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় শুধু নিজেদের নিয়ে কথা বলার জন্য আলাদা রাখা, সন্তান বা সংসারের হিসাব বাদে
- একসাথে নতুন কোনো কাজ শুরু করা, বাগান করা, হাঁটতে যাওয়া, একসাথে কুরআন তিলাওয়াত শোনা বা তাফসীর পড়া
- ছোট ছোট স্নেহপ্রকাশ পুনরায় চালু করা, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন, একসাথে হাসিঠাট্টা করতেন, এই ধরনের সহজ, আন্তরিক মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করা
- একসাথে উমরাহ বা কোনো ধর্মীয় সফরের পরিকল্পনা করা, যা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে
- পুরনো স্মৃতি নিয়ে কথা বলা, বিয়ের প্রথম দিকের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করা, যা সম্পর্কের মূল সুতোটা আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়
- শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিধা কাটিয়ে খোলাখুলি কথা বলা, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, বয়সজনিত পরিবর্তনকে লজ্জার বিষয় না ভেবে স্বাভাবিকভাবে মোকাবিলা করা
- সন্তানের সংসারে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কমিয়ে সেই মনোযোগ ও সময় নিজেদের সম্পর্কে বিনিয়োগ করা
- সপ্তাহে অন্তত একদিন দুজন মিলে ঘরের বাইরে কোথাও সময় কাটানোর অভ্যাস তৈরি করা, তা যত সাধারণই হোক না কেন
এই ছোট ছোট পরিবর্তন একদিনে বড় ফলাফল আনবে না, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পর্কে একটা নতুন উষ্ণতা অনুভব করা সম্ভব। মূল কথা হলো, উদ্যোগটা কারো একার না হয়ে দুজনের যৌথ প্রচেষ্টা হওয়া চাই।
এই সময়ে একে অপরের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।
রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ক্বুররাতা আ'ইউন, ওয়াজআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা — অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে আমাদের চোখের শীতলতা দান করো, এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানাও। (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৭৪)
এই দোয়া দাম্পত্য জীবনের সবগুলো পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক, বিশেষত এই পর্যায়ে যখন সম্পর্কের ভিত্তি নতুন করে গড়ার সময় আসে। সন্তানরা বড় হয়ে গেলেও তাদের জন্য দোয়া চলতে থাকে, আর নিজেদের সম্পর্কের জন্যও একই আন্তরিকতায় দোয়া করা প্রয়োজন।
কখন কাউন্সেলরের সাহায্য দরকার
যদি এই দূরত্ব শুধু একঘেয়েমির পর্যায়ে না থেকে সম্পূর্ণ মানসিক বিচ্ছিন্নতা বা একে অপরের প্রতি বিরক্তি ও অসন্তোষে রূপ নেয়, বিশেষ করে যদি কোনো একজন সংসার ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেন, তখন একজন ম্যারিজ কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগ বা না বলা কষ্ট অনেক সময় নিজেরা বসে সমাধান করতে পারেন না, একজন নিরপেক্ষ পেশাদারের সহায়তায় সেই আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। বিশেষ করে যেসব দম্পতির মধ্যে বছরের পর বছর ধরে ছোট ছোট অভিযোগ জমতে জমতে একটা বড় পাহাড় তৈরি হয়েছে, তাদের জন্য একা একা এই পাহাড় ভাঙার চেষ্টা করার চেয়ে একজন প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও প্রয়োজনীয়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে হরমোনজনিত বা স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে যা চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।
নিশ্চয়তা নেই, তবে চেষ্টা মূল্যবান
দীর্ঘ বছরের অভ্যাস রাতারাতি বদলানো যায় না, এবং প্রতিটা দম্পতির সাড়া দেওয়ার গতিও আলাদা। এখানে যা বলা হয়েছে তা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও ব্যবহারিক পরামর্শ মাত্র, কোনো নিশ্চিত ফলাফলের প্রতিশ্রুতি না, পেশাদার কাউন্সেলিং বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্পও না। কোনো বশীকরণ বা তদবির-জাতীয় আমলের মাধ্যমে ভালোবাসা ফিরিয়ে আনার দাবি এখানে করা হচ্ছে না, বরং প্রতিদিনের সচেতন প্রচেষ্টা আর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। যাদের এই একঘেয়েমির সাথে মানসিক অবসাদ বা তীব্র নিঃসঙ্গতার অনুভূতি জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য আলশিফায় নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪৯৯ টাকায়, জরুরি প্রয়োজনে রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইটে বুক করার সুযোগ আছে, বাংলা কিউআর কোডে পেমেন্ট নিশ্চিত হলে যোগাযোগের নম্বর পাঠানো হয়।
শেষ কথা
সন্তানরা বড় হয়ে নিজেদের জীবনে চলে যাওয়া প্রতিটা পরিবারের স্বাভাবিক পরিণতি। এই পর্যায়টাকে দাম্পত্য জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে না দেখে বরং নতুন করে একে অপরকে চেনার সুযোগ হিসেবে দেখা যায়। যে দম্পতি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন, তাদের জন্য এই সময়টা হতে পারে বিয়ের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ অধ্যায়। নাসরিনের মতো যারা হঠাৎ খেয়াল করেছেন নিজের স্বামীর সাথে কথা বলার অভ্যাসটাই হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের জন্য আজকের রাতের খাবার টেবিলটাই হতে পারে নতুন শুরুর জায়গা, শুধু একটা প্রশ্ন দিয়ে, "আজ সারাদিন কেমন কাটল তোমার?"
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- স্বামীর রাগের মাথায় তালাক শব্দ বলে ফেলা: করণীয় ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
- প্রবাসফেরত স্বামীর সংসারে মানিয়ে নিতে না পারা ও স্ত্রীর স্বাধীনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
- স্বামীর মাদকাসক্তি বা জুয়ার নেশায় সংসার ধ্বংসের মুখে: স্ত্রীর করণীয়
- তালাকের পর সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ইসলামি নির্দেশনা
- বারবার গর্ভপাতের কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ও মানসিক যন্ত্রণা
- ননদ ও শ্বশুরবাড়ির কটূক্তি সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখা