
প্রবাসফেরত স্বামীর সংসারে মানিয়ে নিতে না পারা ও স্ত্রীর স্বাধীনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর স্ত্রীর অর্জিত স্বাধীনতা, সন্তানের অচেনা আচরণ ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দাম্পত্য দূরত্বের কারণ এবং তা কাটিয়ে ওঠার ইসলামি ও বাস্তবসম্মত পথ।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
করিম সাহেব সাত বছর সৌদি আরবে কাটিয়ে যখন স্থায়ীভাবে দেশে ফিরলেন, প্রথম কয়েক সপ্তাহেই তিনি একটা অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করলেন। তার স্ত্রী নিজে ব্যাংকে যান, বাচ্চার স্কুলের ভর্তি নিজেই ঠিক করেন, বাজার-সদাই সামলান, এমনকি মহল্লার একটা মহিলা সংগঠনেও যুক্ত হয়েছেন। প্রবাসে থাকাকালীন প্রতিটা সিদ্ধান্তে ফোনে তার মতামত নেওয়া হতো, অথচ এখন মনে হচ্ছে সংসারটা তাকে ছাড়াই ভালোভাবে চলছিল এতদিন। প্রথম শুক্রবার নামাজ পড়ে ঘরে ফিরে তিনি দেখলেন ছয় বছরের ছেলে তার দিকে অচেনা মানুষের মতো তাকিয়ে আছে, মায়ের আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে, "আম্মু, এই আঙ্কেলটা কে?" এই একটা প্রশ্নই করিম সাহেবের ভেতরে যে ভাঙন তৈরি করল, তা থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল খিটখিটে মেজাজ আর ছোট ছোট বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা।
এই দৃশ্য বাংলাদেশের হাজারো প্রবাসফেরত পরিবারে পরিচিত। বছরের পর বছর দূরে থেকে সংসার চালানোর পর যখন প্রকৃত মিলন ঘটে, তখন দুজনের প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে একটা বড় ফারাক তৈরি হয়ে যায়। এটা কারো দোষ না, বরং একটা প্রাকৃতিক পরিস্থিতি, যা সচেতনভাবে সামলাতে না পারলে সংসারে দীর্ঘস্থায়ী দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই দূরত্ব তৈরি হওয়ার পেছনের কারণ
বছরের পর বছর একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস
স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন স্ত্রীকে বাধ্য হয়েই সংসারের প্রতিটা ছোট-বড় সিদ্ধান্ত একা নিতে হয়েছে। সন্তানের অসুখ, স্কুলের ভর্তি, শ্বশুরবাড়ির কোনো সমস্যা, এমনকি অনেক সময় জমি-সম্পত্তির বিষয়ও তাকে একা সামলাতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তৈরি হয়েছে। স্বামী যখন ফিরে আসেন, তিনি হয়তো ধরে নেন সংসারের হাল আবার তার হাতে ফিরে আসবে স্বাভাবিকভাবেই, অথচ স্ত্রীর জন্য এই স্বাধীনতা ছেড়ে দেওয়াটা এখন আর সহজ না, বরং একরকম পিছিয়ে পড়ার মতো অনুভূত হয়।
স্বামীর প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
অনেক প্রবাসী পুরুষ মনে মনে এমন একটা সংসারের ছবি এঁকে রাখেন যেখানে ফিরে এলেই সব আগের মতো হয়ে যাবে। বাস্তবে ফিরে দেখেন সন্তানরা তাকে অচেনা মানুষের মতো দেখছে, স্ত্রী তার মতামতের জন্য অপেক্ষা করছেন না, বাড়ির নিয়মকানুন বদলে গেছে। এই বাস্তবতা মেনে নিতে না পারলে তিনি নিজেকে সংসারে অপ্রয়োজনীয় মনে করতে শুরু করেন, আর সেই অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় খিটখিটে আচরণ বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
সন্তানদের কাছে অচেনা হয়ে যাওয়ার কষ্ট
প্রবাসফেরত অনেক বাবার জন্য সবচেয়ে গভীর ক্ষত হলো নিজের সন্তানের কাছে অপরিচিত হয়ে যাওয়া। ভিডিও কলে বছরের পর বছর "বাবা" ডাক শোনা আর সামনাসামনি সেই সন্তানের চোখে দ্বিধা দেখা, এই দুইয়ের পার্থক্য অনেক পিতার জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। এই কষ্ট থেকে কেউ কেউ সন্তানের সাথে জোর করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করার চেষ্টা করেন, উপহার দিয়ে বা কড়া শাসন দিয়ে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি করতে চান, অথচ সন্তানের বিশ্বাস অর্জন করতে সময় লাগে, তাড়াহুড়ো করলে উল্টো ফল হয়।
টাকাপয়সা ও সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন
প্রবাসকালীন পাঠানো টাকা স্ত্রী কীভাবে খরচ করেছেন, কতটা সঞ্চয় করেছেন, কোথায় বিনিয়োগ করেছেন, এসব নিয়ে ফিরে আসার পর হিসাব চাওয়াটা অনেক সময় অবিশ্বাসের মতো শোনায়, যদিও স্বামীর উদ্দেশ্য হয়তো নিছক জানতে চাওয়া। অন্যদিকে স্ত্রী বছরের পর বছর একা এই টাকার হিসাব সামলে এসেছেন বলে এই প্রশ্নগুলোকে নিজের সক্ষমতার ওপর অনাস্থা হিসেবে দেখতে পারেন। আর্থিক বিষয়ে এই সূক্ষ্ম টানাপোড়েন অনেক সংসারেই অন্যান্য সমস্যার আড়ালে চাপা পড়ে থাকে, অথচ এটাই অনেক সময় মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সমাজের চোখে পুরুষের ভূমিকা নিয়ে বাড়তি চাপ
প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, এমনকি মসজিদের পরিচিত মুরুব্বিরাও প্রায়ই মন্তব্য করে বসেন, "এতদিন বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে, এখন তো সংসারের লাগাম নিজের হাতে নিতে হবে।" এই ধরনের মন্তব্য প্রবাসফেরত স্বামীর মনে একটা বাড়তি চাপ তৈরি করে, তিনি মনে করেন দ্রুত নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না করলে সমাজের চোখে তাকে দুর্বল মনে হবে। এই সামাজিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে অনেক পুরুষ ঘরে অহেতুক কঠোরতা দেখান, যা প্রকৃতপক্ষে সংসারের শান্তির জন্য ক্ষতিকর, শুধু বাইরের মানুষকে দেখানোর জন্য নেওয়া এই পদক্ষেপ সম্পর্ককেই দুর্বল করে দেয়।
ইসলাম পারিবারিক আচরণ নিয়ে যা শেখায়
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামে পারস্পরিক সদাচরণ ও কল্যাণকামিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠার কথা। হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
খাইরুকুম খাইরুকুম লি-আহলিহি, ওয়া আনা খাইরুকুম লি-আহলি — অর্থ: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৩৮৯৫)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্বামীর মর্যাদা সংসারে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় না, বরং পরিবারের প্রতি সদাচরণে। একইভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালো আচরণের অর্থ তার অর্জিত সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসকে অস্বীকার করা না, বরং তাকে সম্মান জানিয়ে নতুন করে একসাথে চলার পথ খোঁজা। প্রবাসফেরত স্বামীর জন্য এই হাদিস একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়, কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার প্রতিযোগিতা না, বরং পরিবারের কল্যাণে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
উভয়পক্ষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বোঝা
স্বামীর মনে যে অনুভূতি কাজ করে তা মূলত পরিচয়-সংকট। বছরের পর বছর তিনি ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী, দূর থেকে সিদ্ধান্তদাতা, এখন হঠাৎ সেই ভূমিকাটা কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। অন্যদিকে স্ত্রীর মনে কাজ করে একটা ভিন্ন ভয়, এতদিনের অর্জিত স্বাধীনতা যদি আবার হারিয়ে ফেলতে হয়, যদি প্রতিটা সিদ্ধান্তে আবার অনুমতি নিতে হয়, তাহলে সেটা তার কাছে একধরনের পিছিয়ে পড়া মনে হয়। দুজনের এই ভিন্ন ভিন্ন ভয় যদি একে অপরের সামনে খোলাখুলি প্রকাশ না পায়, তাহলে সেটা নীরব দূরত্বে রূপ নেয়, যা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, আর একসময় দুজনেই ধরে নেন এটাই বুঝি তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি। এই নীরব ভুল বোঝাবুঝি ভাঙার প্রথম শর্ত হলো, দুজনেই নিজের ভয়ের কথা সরাসরি স্বীকার করা, লুকিয়ে না রেখে। "আমার মনে হচ্ছে আমি এই সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছি" বা "আমার ভয় হচ্ছে তুমি ফিরে আসায় আমি আবার সব সিদ্ধান্তে তোমার অনুমতি নিতে বাধ্য হবো", এই দুটো বাক্য যদি সরাসরি বলা যায়, তাহলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি শুরুতেই কেটে যায়।
বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ
এই পরিস্থিতি সামলাতে হুট করে বড় কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে এগোনো জরুরি। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নবীজির কোমল আচরণ ও পরামর্শ করার নীতি সম্পর্কে বলেছেন।
ফাবিমা রাহমাতিম মিনাল্লাহি লিনতা লাহুম, ওয়া লাও কুনতা ফাযযান গালীযাল ক্বলবি লানফাদ্দু মিন হাওলিক, ওয়া শাবির হুম ফিল আমর — অর্থ: আল্লাহর রহমতেই তুমি তাদের প্রতি কোমল হয়েছ, যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে যেত, তাদের সাথে পরামর্শ করে কাজ করো। (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৫৯)
এই আয়াত মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে নাজিল হলেও এর শিক্ষা পরিবারের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কোমলতা ও পরামর্শ, এই দুটোই একজন প্রবাসফেরত স্বামীর জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে। কঠোরতা বা নির্দেশ দিয়ে সংসারে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা মানুষকে কাছে টানে না, বরং দূরে ঠেলে দেয়।
- স্বামীর উচিত সংসারের সিদ্ধান্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে প্রথমে জিজ্ঞাসা করে বোঝার চেষ্টা করা, কেন এই নিয়মটা এভাবে চলছে
- স্ত্রীর উচিত স্বামীকে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, তাকে একঘরে না রেখে বরং পরামর্শ চাওয়া
- আর্থিক বিষয়ে যৌথ আলোচনার অভ্যাস তৈরি করা, একতরফা সিদ্ধান্ত এড়ানো এবং অতীতের হিসাব নিয়ে সন্দেহের সুরে প্রশ্ন না করা
- সন্তানদের সাথে সময় কাটিয়ে ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণ করা, তুলনা বা অভিযোগ ছাড়াই, ছোট ছোট খেলা বা গল্পের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা
- আগে যা ছিল তার সাথে বর্তমানের তুলনা না করে বরং নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনে এগোনো
- সমাজ বা আত্মীয়দের মন্তব্যে প্রভাবিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে সংসারে কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা না করা, বরং নিজেদের গতিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা
এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। একদিন ভালো ব্যবহার করে পরের দিন আবার পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেলে আস্থা তৈরি হয় না। ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, যেমন সন্তানের সাথে নির্দিষ্ট সময়ে খেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখা, স্ত্রীর সাথে সিদ্ধান্তে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সত্যিই তা মেনে চলা, এই ছোট ছোট ধারাবাহিক কাজগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।
কখন কাউন্সেলরের সাহায্য প্রয়োজন
যদি কয়েক মাস চেষ্টার পরও দূরত্ব কমার বদলে বাড়তে থাকে, স্বামী যদি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় অতিরিক্ত কঠোর হয়ে ওঠেন, বা স্ত্রী যদি স্বামীকে সংসারের অংশ হিসেবে মেনে নিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন, তাহলে একজন ম্যারিজ কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া উচিত। আর্থিক বিষয়ে জটিলতা তৈরি হলে একজন আর্থিক পরামর্শকের সাহায্য নেওয়াও ফলদায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যদি প্রবাসকালীন উপার্জন ও সঞ্চয়ের হিসাব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সন্তানরা যদি বাবার সাথে সংযোগ স্থাপনে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়ে, একজন শিশু মনোবিদের পরামর্শও সহায়ক হতে পারে, বিশেষত যদি সন্তান বাবার সামনে ভয় পায় বা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
নিশ্চয়তা ছাড়াই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া
এই ধরনের সমন্বয় সবসময় মসৃণভাবে ঘটে না। কিছু দম্পতির কয়েক মাস লাগে, কিছু দম্পতির কয়েক বছর। কোনো নিশ্চয়তা নেই যে চেষ্টা করলেই সংসার আগের মতো সহজ হয়ে যাবে, তবে চেষ্টা না করলে দূরত্ব বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। এখানে বলা প্রতিটা পরামর্শ কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দিকনির্দেশনা মাত্র, এবং কোনোভাবেই এটা পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের বিকল্প না। কোনো বশীকরণ বা তদবির-জাতীয় আমলের মাধ্যমে সম্পর্ক জোর করে বাঁধার চেষ্টা ইসলামসম্মত না এবং এই লেখায় তার কোনো সুপারিশও নেই, নিরাময় ও প্রকৃত মিল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
যাদের এই দূরত্ব নিয়ে মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা অস্থিরতা তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের জন্য আলশিফায় নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪৯৯ টাকায়, জরুরি প্রয়োজনে রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইট থেকে বুক করার সুযোগ আছে, বাংলা কিউআর কোডে পেমেন্ট সম্পন্ন হলে যোগাযোগের নম্বর পাঠানো হয়।
শেষ কথা
প্রবাস থেকে ফেরার পর তৈরি হওয়া এই দূরত্ব আসলে একটা রূপান্তরের সময়, ভাঙনের সময় না, যদি দুজন মিলে সচেতনভাবে সেটা সামলানোর চেষ্টা করেন। ধৈর্য, খোলামেলা কথোপকথন, আর একে অপরের অর্জিত পরিবর্তনকে সম্মান জানানোই এই পথের মূল চাবিকাঠি। করিম সাহেবের মতো যারা নিজের সংসারে নিজেকে অচেনা মনে করছেন, তাদের জন্য প্রথম পদক্ষেপটা হতে পারে খুব সাধারণ, স্ত্রীর পাশে বসে জিজ্ঞেস করা, "এই কয়েক বছর তুমি কীভাবে সবকিছু সামলেছ, আমাকে একটু বলবে?" এই একটা প্রশ্নই হয়তো সেই দেয়ালের প্রথম ফাটল তৈরি করে দিতে পারে, যা ধীরে ধীরে ভেঙে দুজনকে আবার কাছে নিয়ে আসে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- স্বামীর রাগের মাথায় তালাক শব্দ বলে ফেলা: করণীয় ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
- সন্তানেরা বড় হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি ও দূরত্ব
- স্বামীর মাদকাসক্তি বা জুয়ার নেশায় সংসার ধ্বংসের মুখে: স্ত্রীর করণীয়
- তালাকের পর সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ইসলামি নির্দেশনা
- বারবার গর্ভপাতের কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ও মানসিক যন্ত্রণা
- ননদ ও শ্বশুরবাড়ির কটূক্তি সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখা