
শুক্রবারের বিশেষ আমল ও বরকত
জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত, দরুদ ও সূরা কাহফ পাঠের ফজিলত এবং শুক্রবারে করণীয় আমল নিয়ে হাদিসভিত্তিক বিবরণ।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
জুমার দিনটাকে সপ্তাহের অন্য দিনগুলো থেকে আলাদা করে কী? শুধু জুমার নামাজ, নাকি এমন কিছু আমল আছে যেগুলো অনেকেই জানেন না বা নিয়মিত করেন না?
জুমার দিনের মর্যাদা কুরআনে
সূরা আল-জুমুআয় আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, জুমার দিন আজান দেওয়া হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে এবং বেচাকেনা রেখে দিতে; নামাজ শেষ হলে আবার পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ তথা রিযিক খুঁজতে (আয়াত ৯-১০)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট, জুমার দিন শুধু ইবাদতের দিন নয় — নামাজের সময়টুকু সব কিছুর ওপরে অগ্রাধিকার পাবে, বাকি সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন আর রিযিকের সন্ধান চলবে।
দিনের সেই বিশেষ মুহূর্ত যখন দোয়া কবুল হয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, জুমার দিনে এমন একটা মুহূর্ত আছে যখন কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা চান, আল্লাহ তা দিয়ে দেন (সহীহ বুখারী ৯৩৫, সহীহ মুসলিম ৮৫২)। হাদিসে এই মুহূর্তের সঠিক সময় স্পষ্ট করে বলা হয়নি — আলেমদের মধ্যে কেউ বলেন এটা খুতবা চলাকালীন ইমাম বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত, কেউ বলেন আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত। যেহেতু নির্দিষ্ট সময়টা অজানা, তাই পুরো দিনটাতেই বেশি বেশি দোয়া করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
দরুদ ও সূরা কাহফ পাঠের ফজিলত
আউস ইবনে আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন জুমার দিন, তাই এই দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয় (সুনানে আবু দাউদ ১৫৩১)। এছাড়া একাধিক বর্ণনায় এসেছে, জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করলে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত একজন মানুষের জন্য নূর বা আলো তৈরি হয়। এই বর্ণনার সনদ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, ফজিলতের দিক থেকে এটা যুগ যুগ ধরে আমল হিসেবে চলে আসছে।
ব্যবহারিক পরামর্শ
- সকালে বা জুমার নামাজের আগে সূরা কাহফ পড়ার অভ্যাস রাখা
- গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে সময়মতো মসজিদে যাওয়া
- খুতবা চলাকালীন কথাবার্তা বা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি থেকে বিরত থাকা
- সারাদিনে বিশেষভাবে দরুদ ও ইস্তিগফারের সংখ্যা বাড়ানো
- সামর্থ্য অনুযায়ী জুমার দিনে দান-সদকা করার অভ্যাস রাখা
অনেকে জিজ্ঞেস করেন, রিযিক, রোগ-বালাই বা পারিবারিক সমস্যার জন্য দোয়া করার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটা। হাদিসের আলোকে জুমার দিনকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়, তবে এর মানে এই না যে অন্য দিনের দোয়ার মূল্য কম। যাদের সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং নিয়মিত আমল-দোয়ার পরও কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, তারা চাইলে আলশিফা ডট বিডি-তে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ নিতে পারেন। বাংলা কিউআর কোডে ফি পরিশোধের ব্যবস্থা আছে, নিয়মিত সময়ে ৪৯৯ টাকা এবং রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকা। ফি জমা দেওয়ার পর হুজুরের ইমো নম্বর জানিয়ে দেওয়া হয়।
জুমার দিনে দোয়া কবুলের মুহূর্তটা ঠিক কখন, তা নবীজি নিজেও স্পষ্ট করে বলেননি — তাই পুরো দিনটাকেই দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- রুকইয়াহ সেশনে কান্না, কাঁপুনি বা ঘুম পাওয়া - স্বাভাবিক নাকি বিপদের লক্ষণ
- নিজে নিজে রুকইয়াহ করবেন কীভাবে - ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতি
- রুকইয়াহতে কোন সূরা-আয়াত সবচেয়ে বেশি পড়া হয় এবং কেন
- ভালো ও খারাপ স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ইসলামের দৃষ্টিতে কীভাবে বুঝবেন
- দলগত রুকইয়াহ নাকি একক — কোনটা বেশি কার্যকর
- রুকইয়াহর সময় কান্না বা হাসি আসে কেন