রাশিফল ও ভাগ্য গণনা ইসলামে কেন নিষিদ্ধ

রাশিফল ও ভাগ্য গণনা ইসলামে কেন নিষিদ্ধ

রাশিফল, জন্মরাশি বিচার আর নিউমারোলজি কেন গায়েবের জ্ঞান দাবি করার শামিল এবং ইসলাম কেন এর বদলে ইস্তিখারা ও তাকদীরে বিশ্বাসের পথ দেখায়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

সাদিয়া প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে ফোন হাতে নেয় — নামাজের আগেই। ফেসবুক খোলার আগে একটা কাজ নিয়ম করে সারে, সেটা হলো রাশিফল অ্যাপ চেক করা। "মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য আজ অর্থনৈতিক উন্নতির দিন, তবে সম্পর্কে সতর্ক থাকুন" — এই এক লাইন পড়েই দিনটা কেমন যাবে তার একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায় মনে। চাকরির ইন্টারভিউয়ের আগের রাতেও সে রাশিফল দেখেছিল, দেখেছিল বিয়ের প্রস্তাব আসার আগেও। মিরপুরের এই তরুণী একা নন — বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পত্রিকার শেষ পাতায়, প্রতিটি লাইফস্টাইল পোর্টালে রাশিফল কলাম থাকে, ফেসবুকে হাজার হাজার পেজ প্রতিদিন বারো রাশির ভাগ্য লিখে পোস্ট করে, আর গ্রামের মেলায় এখনো হাত দেখিয়ে বা টিয়াপাখি দিয়ে চিরকুট তুলিয়ে ভাগ্য জানার চল আছে। বিষয়টা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে এর পেছনের ইসলামী অবস্থান নিয়ে খুব কম মানুষই আসলে ভাবে।

রাশিফল আসলে কিসের দাবি করে

রাশিফল বা জ্যোতিষশাস্ত্র মূলত একটা নির্দিষ্ট দাবির ওপর দাঁড়িয়ে আছে — জন্মের সময় আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান একজন মানুষের চরিত্র, স্বভাব এবং ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করে বা নির্দেশ করে। এই বিশ্বাস নতুন কিছু নয় — প্রাচীন ব্যাবিলন, গ্রিস থেকে শুরু করে আরবের জাহেলি যুগেও কাহিন ও আর্রাফ নামে পরিচিত গণক-জ্যোতিষীরা এই কাজ করত। মানুষ তাদের কাছে ছুটে যেত হারানো উট খুঁজতে, বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতে, যুদ্ধে যাওয়ার আগে শুভ-অশুভ জানতে। ইসলাম এই প্রথার মুখোমুখি সরাসরি দাঁড়িয়েছিল, কারণ এর মূলে আছে একটা সুনির্দিষ্ট দাবি — ভবিষ্যৎ বা গায়েবের জ্ঞান মানুষের নাগালে পাওয়া সম্ভব, নক্ষত্রের হিসাব কষে। আজকের রাশিফল অ্যাপ বা পত্রিকার কলাম সেই একই দাবিরই আধুনিক সংস্করণ, শুধু মোড়কটা বদলেছে।

কেন এটি ইসলামে হারাম বিবেচিত হয়

গায়েবের জ্ঞান — অর্থাৎ ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার সুনির্দিষ্ট জ্ঞান — কুরআনের বহু জায়গায় একচ্ছত্রভাবে আল্লাহর এখতিয়ারে রাখা হয়েছে। সূরা লুকমানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছে, বৃষ্টি তিনিই নামান, গর্ভে কী আছে তিনিই জানেন, এবং কোনো মানুষ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে বা কোথায় তার মৃত্যু হবে। এই আয়াতের আলোকেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জ্যোতির্বিদ্যা শেখা বা চর্চা করাকে সরাসরি নিষেধ করেছেন।

মান ইকতাবাসা ইলমান মিনান নুজুমি, ইকতাবাসা শু'বাতান মিনাস সিহরি, যাদা মা যাদ — অর্থ: যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু অংশ শিখল, সে জাদুবিদ্যার একটি শাখা শিখল; সে যতই শিখবে ততই তা বৃদ্ধি পাবে। (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৯০৫)

এই হাদিসে "জাদুর অংশ" বলাটা গুরুত্বপূর্ণ। জাদু বা সিহর মানে শুধু তাবিজ-কবজ বা বান মারা নয় — এর মূল কাজই হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা, এমন কিছু বিশ্বাস করানো যা বাস্তবে নেই। রাশিফল ঠিক এই কাজটাই করে — একটা মিথ্যা নিশ্চয়তা বা মিথ্যা শঙ্কা তৈরি করে দেয় এমন একটা বিষয়ে, যা আসলে আল্লাহ ছাড়া কারো জানার কথা নয়।

"আমি তো বিশ্বাস করি না, শুধু মজার জন্য পড়ি"

এই যুক্তিটা প্রায় সবার মুখেই শোনা যায়। সমস্যা হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশ্বাস করা না-করার শর্ত না দিয়েই শুধু গণকের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করাকেই একটা গুরুতর বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মান আতা আররাফান ফাসাআলাহু আন শাইয়িন লাম তুকবাল লাহু সালাতুন আরবাঈনা লাইলাতান — অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হয় না। (সূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৩০)

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এখানে "বিশ্বাস করলে" শব্দটা নেই — শুধু "জিজ্ঞাসা করলে" বলা হয়েছে। কারণটা মনস্তাত্ত্বিকভাবেই স্পষ্ট। যে মানুষ প্রতিদিন সকালে নিজের রাশির ভবিষ্যদ্বাণী পড়ে, প্রথম কয়েক মাস হয়তো সে সত্যিই "শুধু মজার জন্য" পড়ে। কিন্তু একদিন রাশিফলে লেখা থাকবে "আজ কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না" আর সেদিনই তার হাতে থাকবে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ। সে দ্বিধায় পড়ে যাবে। এভাবেই ধীরে ধীরে অজান্তে একটা নির্ভরতা তৈরি হয়ে যায়, যেটা শুরুতে বিনোদন ছিল সেটাই একসময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটা লুকানো মানদণ্ডে পরিণত হয়। এই ধীর পরিবর্তনটা টের পাওয়া যায় না বলেই হাদিসে "বিশ্বাস" নয়, "জিজ্ঞাসা করা"-কেই নিষেধের মূল বিষয় বানানো হয়েছে — আগে থেকেই দরজাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জন্মরাশি দিয়ে চরিত্র বিচার কেন সমস্যাজনক

"তুমি তো কর্কট রাশির মানুষ, তাই এত আবেগপ্রবণ" বা "সিংহ রাশির মানুষরা এমনিতেই জেদি হয়" — এই ধরনের কথাবার্তা বাংলাদেশের পারিবারিক আড্ডায়, এমনকি বিয়ের ঘটকালিতেও শোনা যায়। দুই পরিবারের রাশি মিলছে কিনা, এটা এখনো কোথাও কোথাও বিয়ে ঠিক করার একটা নীরব মানদণ্ড। এই বিশ্বাসের সমস্যাটা গভীর — এটা মানুষের চরিত্র, স্বভাব ও নিয়তিকে গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে একটা কার্যকারণ সম্পর্কে বেঁধে ফেলে, যেখানে ইসলামের শিক্ষা হলো প্রতিটি মানুষের চরিত্র ও তাকদীর সরাসরি আল্লাহর জ্ঞান ও পরিকল্পনার অংশ, কোনো গ্রহ বা নক্ষত্র তার মধ্যস্থতাকারী নয়। কেউ রাগী হলে সেটা তার লালন-পালন, পরিবেশ, প্রবৃত্তির সাথে লড়াই বা না-লড়াইয়ের ফল — জন্মের সময় আকাশে কোন তারা ছিল তার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

একই বিধানের আওতায় আর যা যা পড়ে

রাশিফলের মতো একই বিধান প্রযোজ্য হয় আরও কিছু জনপ্রিয় চর্চায়, যেগুলো বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন মোড়কে প্রচলিত।

  • সংখ্যাতত্ত্ব বা নিউমারোলজি — জন্মতারিখ বা নামের অক্ষরের সংখ্যা হিসাব করে "লাকি নাম্বার" বা নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া। অনেকে সন্তানের নামের বানানে একটা অক্ষর যোগ বা বাদ দিয়ে "সৌভাগ্য" আনার চেষ্টা করেন — এটাও একই গায়েবের জ্ঞান দাবি করার শামিল।
  • হস্তরেখা বিচার — হাতের রেখা দেখে ভবিষ্যৎ, বিয়ে বা আয়ু বলে দেওয়া। গ্রামীণ মেলা ও কিছু শহুরে "জ্যোতিষী অফিসেও" এটা এখনো একটা ব্যবসা হিসেবে টিকে আছে।
  • টিয়াপাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা — বাংলাদেশ ও ভারতের গ্রামীণ মেলায় প্রচলিত একটা দৃশ্য, যেখানে পাখি ঠোঁট দিয়ে একটা চিরকুট তুলে দেয় আর সেটাই হয়ে যায় কারো ভবিষ্যদ্বাণী।
  • ট্যারো কার্ড বা তাসের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বলা — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইদানীং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই চর্চা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, প্রায়ই "শুধু আনন্দের জন্য" ট্যাগ লাগিয়ে।

এই প্রতিটি পদ্ধতির মোড়ক আলাদা হলেও ভেতরের দাবিটা একই — মানুষের সীমিত জ্ঞানের বাইরের কিছু, বিশেষত ভবিষ্যৎ, জানার একটা কৌশল আছে যা আল্লাহর ওপর নির্ভর না করেও পাওয়া যায়। এই কারণেই আলেমরা এই সবগুলোকেই একই মূলনীতির অধীনে রাখেন।

তাহলে অনিশ্চয়তার সময় করণীয় কী

প্রশ্নটা স্বাভাবিক — চাকরির ইন্টারভিউয়ের ফলাফল কী হবে, বিয়ের প্রস্তাবটা গ্রহণ করা ঠিক হবে কিনা, ব্যবসাটা লাভজনক হবে কিনা — এসব প্রশ্নের উত্তর তো মানুষ জানতেই চায়। ইসলাম এই আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করে না, বরং এর জন্য একটা সরাসরি ও সুন্দর পথ দেখিয়ে দিয়েছে — ইস্তিখারার নামাজ। দুই রাকাত নফল নামাজের পর নির্দিষ্ট দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সরাসরি কল্যাণ চাওয়া হয়, এবং এরপর যে পথে সহজতা আসে সেটাকেই কল্যাণের ইঙ্গিত ধরে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হয়। এখানে কোনো নক্ষত্র নয়, কোনো সংখ্যা নয় — সরাসরি সেই সত্তার কাছে চাওয়া, যিনি প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যৎ জানেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মানুষের সাথে পরামর্শ (শুরা) করা, নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করা এবং সিদ্ধান্তের পর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া — এই তিনটার সমন্বয়েই ইসলামী সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।

তাকদীরে বিশ্বাস — উদ্বেগের প্রকৃত সমাধান

ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের একটি হলো তাকদীরে বিশ্বাস — ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটে সবকিছুই আল্লাহর পূর্ব-জ্ঞান ও পরিকল্পনার অংশ। এই বিশ্বাস আসলে মানুষকে ভবিষ্যৎ-উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই দেওয়া হয়েছে। যখন কেউ সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে যে তার রিজিক, তার আয়ু, তার সঙ্গী আগে থেকেই নির্ধারিত এবং তার ওপর নির্ভর করছে শুধু চেষ্টা আর দোয়া করা, তখন রাশিফল খুঁজে বেড়ানোর তাড়নাটা এমনিতেই কমে আসে। রাশিফল যেটা দিতে চায় — একটা মিথ্যা নিশ্চয়তা — তাকদীরে বিশ্বাস সেটা দেয় প্রকৃত ও স্থায়ীভাবে, শুধু ভিন্ন উৎস থেকে।

যখন বিষয়টা নিছক কুসংস্কারের বাইরে চলে যায়

কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও গভীর হতে পারে। যদি কেউ রাশিফল বা ভাগ্য গণনার প্রতি এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে যে তা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে না, অথবা কোনো পরিবার নিয়মিত কোনো "জ্যোতিষী" বা "কবিরাজে"র কাছে গিয়ে তাবিজ, পানি পড়া বা বিশেষ আমল নিয়ে এসেছে যার সাথে সংখ্যাতত্ত্ব বা রাশি মিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জড়িত ছিল — তখন এটা শুধু কুসংস্কার নয়, বরং শিরকের দরজা খুলে দেওয়ার শামিল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হলো আন্তরিক তওবা করা, ঘরে থাকা এ ধরনের বই-চিরকুট-তাবিজ সরিয়ে ফেলা এবং একজন দ্বীনদার, জ্ঞানসম্পন্ন আলেম বা রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞের সাথে বসে বিষয়টা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা। কারো মধ্যে যদি এরপরও অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তা, ভয় বা ঘুমে ব্যাঘাতের মতো উপসর্গ থেকে যায়, সেটা রুকইয়াহর মাধ্যমে খতিয়ে দেখার একটা বৈধ কারণ হতে পারে।

এটি কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দিকনির্দেশনা, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ, বা তদবির শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমল নয়; চূড়ান্ত সুস্থতা ও সিদ্ধান্ত আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। রাশিফল যে নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেয়, ইস্তিখারা আর তাকদীরে বিশ্বাস তার চেয়ে অনেক বেশি প্রশান্তি দিতে পারে — পার্থক্যটা শুধু এই যে একটা মিথ্যা ভরসা, আরেকটা প্রকৃত।

একটা বড় শিল্প কীভাবে দুশ্চিন্তা থেকে টাকা বানায়

রাশিফল আর ভাগ্য গণনা এখন আর শুধু পত্রিকার একটা কলাম নয় — এটা একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবসা। প্রিমিয়াম অ্যাপ সাবস্ক্রিপশন, "ব্যক্তিগত জ্যোতিষী পরামর্শ" নামে পেইড সেশন, ফেসবুক পেজে ইনবক্সে টাকার বিনিময়ে "সম্পূর্ণ কুষ্ঠি বিচার" — এই পুরো বাজারটা দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ভবিষ্যৎ-উদ্বেগের ওপর। যে মানুষ চাকরি নিয়ে চিন্তিত, বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্থির, সে-ই এই বাজারের প্রধান ক্রেতা। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ আছে — এই ব্যবসাগুলো যত বেশি নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী দিতে পারত, তত বেশি মানুষ একবার টাকা দিয়েই চিরতরে সন্তুষ্ট হয়ে যেত, আর ফিরে আসত না। বাস্তবে ঘটে উল্টোটা — মানুষ বারবার ফিরে আসে, কারণ ভবিষ্যদ্বাণী কখনো সত্যিকারের নির্দিষ্ট উত্তর দেয় না, বরং এমন অস্পষ্ট বাক্যে গড়া থাকে যা যেকোনো দিকেই মানিয়ে নেওয়া যায়। এই বৈশিষ্ট্যটা প্রমাণ করে যে এখানে আসলে গায়েবের প্রকৃত জ্ঞান নেই, আছে শুধু মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটা সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক কৌশল।

ইস্তিখারা শুরু করার ব্যবহারিক ধাপ

যারা রাশিফলের অভ্যাস ছেড়ে ইস্তিখারার দিকে যেতে চান, তাদের জন্য শুরুটা সহজ। অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন, যেকোনো সূরা দিয়ে। সালাম ফেরানোর পর ইস্তিখারার নির্দিষ্ট দোয়া পড়ুন, নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টা মনে মনে রেখে। এরপর যে পথে সহজতা তৈরি হয় — সুযোগ আসে, বাধা কেটে যায়, মন প্রশান্ত হয় — সেই দিকেই এগিয়ে যান, আর যেদিকে একের পর এক বাধা আসতে থাকে সেটা থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ। এখানে কোনো স্বপ্ন দেখা বা বিশেষ অনুভূতি অপেক্ষা করার দরকার নেই, যেমনটা অনেকে ভুল করে ভেবে বসেন। বাস্তব জীবনের পরিস্থিতিই এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত।

সাদিয়ার গল্পের বাকি অংশ

সাদিয়া কয়েক মাস আগে রাশিফল অ্যাপটা ডিলিট করে দিয়েছে। প্রথম দুই সপ্তাহ সকালে ফোন হাতে নিয়ে অভ্যাসবশত সেই অ্যাপ খুঁজেছে, না পেয়ে কিছুটা অস্বস্তি লেগেছে। এখন তার বদলে সে ফজরের পর কিছুক্ষণ বসে ইস্তিগফার আর ছোট্ট একটা দোয়া পড়ে — ভালো কাজে সহজতা আর মন্দ থেকে সুরক্ষা চেয়ে। বড় কোনো সিদ্ধান্তের আগে এখন সে ইস্তিখারা পড়ে, বাবা-মায়ের সাথে বসে কথা বলে। ফলাফল প্রতিবার তার মনমতো হয়নি, কিন্তু একটা জিনিস বদলেছে — আগে যেটা ছিল একটা অ্যাপের ওপর নির্ভরতা, এখন সেটা হয়ে গেছে সরাসরি আল্লাহর ওপর ভরসা।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/horoscope-islamic-ruling


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ