
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া ও আমল
স্ত্রীর প্রতি যত্ন আর মনোযোগ কমে যাওয়া প্রতিটি সংসারেই একসময় দেখা দেয় — রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ ও নির্দিষ্ট দোয়ার মাধ্যমে কীভাবে সেই ভালোবাসা আবার জাগিয়ে তোলা যায়।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
সারাদিন রান্নাঘরে খেটে সুরাইয়া বানিয়েছেন স্বামীর সবচেয়ে পছন্দের ইলিশ ভাপা, অথচ রাতে রফিক সাহেব খেতে বসে একবারও লক্ষ করলেন না যে আজ প্লেটে বিশেষ কিছু আছে। মোবাইলে অফিসের গ্রুপ চ্যাটে চোখ, খাওয়া শেষ করে উঠে গেলেন, "ভালো হয়েছে" বলাটুকুও মনে এলো না। সুরাইয়া কিছু বললেন না, শুধু থালাগুলো গোছাতে গোছাতে ভাবলেন, আগে তো এমন ছিল না মানুষটা।
এই দৃশ্য বাংলাদেশের অসংখ্য ঘরে প্রতিদিন ঘটে — স্বামীরা নিজেদের অজান্তেই স্ত্রীর প্রতি যত্ন আর মনোযোগ কমিয়ে ফেলেন, অথচ ভালোবাসা যে কমে গেছে তা বলাও যায় না, শুধু অনুপস্থিত হয়ে যায় ছোট ছোট মুহূর্তগুলো। ইসলামে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন বজায় রাখা কোনো ঐচ্ছিক ভালো গুণ না, বরং এটা স্বামীর দায়িত্বের একটা কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ যেভাবে নিজের মানদণ্ড ঠিক করে দিয়েছেন
দাম্পত্য জীবনে একজন পুরুষের মূল্যায়নের মাপকাঠি কী হবে, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
খাইরুকুম খাইরুকুম লিআহলিহি, ওয়া আনা খাইরুকুম লিআহলি — অর্থ: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (সুনানে তিরমিযি)
এই হাদিসে একটা জিনিস লক্ষ করার মতো — নবীজি একজন পুরুষের কর্মদক্ষতা বা সামাজিক মর্যাদা দিয়ে না, বরং ঘরের মানুষদের সাথে তার আচরণ দিয়ে তার চরিত্রের মান নির্ধারণ করেছেন। মসজিদে ইমামতি করা, দাড়ি রাখা বা প্রকাশ্যে ধার্মিকতা দেখানো যত ভালোই হোক, ঘরে স্ত্রীর সাথে রুক্ষ আচরণ করলে সেই দ্বীনদারি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
কেন স্ত্রীর প্রতি মনোযোগ কমে যায়
স্ত্রীর পরিশ্রম চোখে না পড়া
ঘরের কাজ, সন্তান লালন-পালন, রান্না — এসব এত নিয়মিত ঘটে যে স্বামী একসময় এগুলোকে স্বাভাবিক ধরে নেন, আলাদা করে লক্ষ করেন না। যা প্রতিদিন ঘটে, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাসও হারিয়ে যায়, অথচ স্ত্রী ঠিক এই স্বীকৃতিটুকুই খোঁজেন।
বাইরের ক্লান্তি ঘরে বয়ে আনা
অফিসের চাপ, ট্রাফিক জ্যাম, আর্থিক চিন্তা নিয়ে বাড়ি ফিরে অনেক স্বামী নিজেকে একটা খোলসের মধ্যে গুটিয়ে নেন। কথা বলার শক্তি থাকে না, অথচ এই সময়টাতেই স্ত্রী সারাদিনের একাকীত্ব ভাগ করে নিতে চান।
মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
একসাথে বসে থাকার সময়টুকুও এখন মোবাইল স্ক্রিনে ভাগ হয়ে যায়। শারীরিকভাবে পাশে থাকা আর মনোযোগ দিয়ে পাশে থাকা— এই দুটো এক জিনিস না, অথচ অনেক স্বামী এই পার্থক্যটা বোঝেন না।
তুলনা ও অতৃপ্তি
কিছু ক্ষেত্রে বন্ধু-সহকর্মীদের সংসার দেখে, বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের "নিখুঁত" জীবন দেখে নিজের স্ত্রীর প্রতি অহেতুক অতৃপ্তি তৈরি হয়, অথচ প্রদর্শিত জীবন আর বাস্তব জীবনের মধ্যে ফারাক অনেক।
মা ও স্ত্রীর মাঝখানে চাপে পড়া
অনেক স্বামী নিজের মা ও স্ত্রীর মধ্যে টানাপোড়েনে পড়ে দুজনকেই খুশি রাখার চেষ্টায় কাউকেই ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। এই দ্বিধায় স্ত্রীর প্রতি মনোযোগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ স্ত্রীর সাথে সম্পর্কটাই তুলনামূলক নতুন, আর নিজের মায়ের অভিমান সামলানোর তাগিদটা স্বাভাবিকভাবেই বেশি প্রবল মনে হয়।
আর্থিক চাপ ও ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা
সংসারের খরচ বাড়তে থাকা, বাসা ভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ — এসব নিয়ে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা অনেক স্বামীকে ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে রাখে। এই আর্থিক চাপ স্ত্রীর সাথে শেয়ার না করে একা একা বয়ে বেড়ানোর অভ্যাসও দূরত্ব তৈরি করে, কারণ স্ত্রী তখন বুঝতেই পারেন না তার স্বামী কেন হঠাৎ এত চুপচাপ বা খিটখিটে হয়ে গেছেন।
ছোট ছোট মুহূর্ত যেভাবে সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে
দাম্পত্য সম্পর্ক বড় বড় উপহার বা ব্যয়বহুল আয়োজনে টিকে থাকে না, টিকে থাকে প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে। সকালে বের হওয়ার আগে দুই মিনিট বসে চা খাওয়া, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দিনের একটা ভালো মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া, স্ত্রী অসুস্থ হলে নিজে থেকে ওষুধ এনে দেওয়া — এই ছোট ছোট কাজগুলোই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। অনেক স্বামী মনে করেন বড় কোনো উপলক্ষ ছাড়া ভালোবাসা প্রকাশের দরকার নেই, অথচ স্ত্রীর কাছে ঠিক এই সাধারণ দিনগুলোতেই মনোযোগের প্রমাণটা সবচেয়ে বেশি অর্থবহ।
রাগ বা মনোমালিন্যের পরও কে আগে কথা বলবে, এই দ্বন্দ্বে অনেক দিন কেটে যায় দুজনের অহংয়ের লড়াইয়ে। অথচ সম্পর্কে যিনি আগে হাত বাড়ান, তিনি হারেন না, বরং সম্পর্কটাকে সময় নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচান। রাসূলুল্লাহ নিজে কখনো কোনো অভিমানের কারণে তিন দিনের বেশি কারো সাথে কথা বন্ধ রাখাকে অপছন্দ করেছেন, আর দাম্পত্য সম্পর্কে এই শিক্ষা প্রয়োগ করলে ছোট ছোট রাগ বড় দূরত্বে পরিণত হওয়ার আগেই থেমে যায়।
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া ও ব্যবহারিক আমল
বিয়ের রাতে স্বামীকে স্ত্রীর কপালে হাত রেখে যে দোয়া পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা শুধু বাসর রাতের জন্য সীমাবদ্ধ না — নিয়মিত এই দোয়া মনে করে পড়া যায়, বিশেষ করে যখন মনে হয় সম্পর্কে আন্তরিকতা কমে যাচ্ছে। কুরআনে আল্লাহ স্বামীদের নির্দেশ দিয়েছেন —
ওয়া আশিরুহুন্না বিলমা'রুফ — অর্থ: আর তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৯)
"মা'রুফ" শব্দটার অর্থ শুধু "ভালো" না, বরং যা সমাজে স্বীকৃত, শালীন ও প্রত্যাশিত ভালো ব্যবহার হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ স্বামীর আচরণ এমন হওয়া উচিত যা দেখে যে কেউ বলবে, হ্যাঁ এটাই একজন স্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান।
- প্রতিদিন অন্তত একবার সরাসরি চোখে চোখ রেখে তার পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান, ছোট হলেও
- রাসূলুল্লাহ নিজে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন, নিজের জামা নিজে সেলাই করতেন (সহীহ বুখারী) — এই সুন্নাহ অনুসরণ করে ঘরের কোনো একটা কাজ নিজে করার অভ্যাস করুন
- বাইরে থেকে ফিরে অন্তত দশ মিনিট মোবাইল সরিয়ে রেখে সরাসরি কথা বলুন
- প্রকাশ্যে বা পরিবারের সামনে স্ত্রীর কোনো ভুল নিয়ে বিদ্রূপ করা এড়িয়ে চলুন, এতে সম্মানবোধে আঘাত লাগে
- মাঝেমধ্যে ছোট উপহার, এমনকি একটা ফুল বা প্রিয় খাবার — এসব সম্পর্কে তাজা ভাব রাখে
যেসব ভুল ধারণা সমস্যা বাড়ায়
অনেক স্বামী মনে করেন সংসার চালানো, বাজার করা বা টাকা দেওয়াই ভালোবাসার যথেষ্ট প্রমাণ, অথচ স্ত্রীর জন্য মানসিক নৈকট্য এবং আর্থিক দায়িত্ব দুটো ভিন্ন জিনিস, একটা অন্যটার বিকল্প না। আরেকটা সাধারণ ভুল হলো, স্ত্রীর অনুভূতিকে "অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা" বলে খারিজ করে দেওয়া, অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই অভিযোগের পেছনে বাস্তব একটা প্রয়োজন লুকিয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার মনে করেন সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসা এমনিতেই কমে যাওয়া স্বাভাবিক, তাই সচেতন প্রচেষ্টার দরকার নেই — এই ধারণাটাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে, কারণ সম্পর্ক বাগানের মতো, যত্ন না নিলে শুকিয়ে যায়। কিছু স্বামী আবার বন্ধুদের সামনে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে হালকা রসিকতা বা সমালোচনা করেন, নিছক মজার ছলে, অথচ এই ধরনের মন্তব্য স্ত্রীর মনে দীর্ঘস্থায়ী অপমানবোধ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি তা বারবার ঘটে।
আরেকটা প্রায়ই দেখা ভুল হলো, সমস্যা হলে স্ত্রীকে নিজের মায়ের সাথে তুলনা করা বা "আমার মা তো এভাবে করতেন না" জাতীয় কথা বলা। এই তুলনা কোনো সমাধান দেয় না, বরং স্ত্রীকে আরও একা ও অসম্মানিত বোধ করায়। প্রতিটা নারীর নিজস্ব ধরন আছে সংসার সামলানোর, সেটাকে সম্মান করাই প্রজ্ঞার পরিচয়।
স্ত্রীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় সাহাবিরা যখন নবীজির নির্দেশ পালনে ইতস্তত করছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ নিজের স্ত্রী উম্মে সালামা (রা.)-এর পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছিলেন। এই ঘটনা থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় — একজন স্ত্রীর মতামত, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও, মূল্যবান হতে পারে। অনেক স্বামী সংসারের বড় সিদ্ধান্ত — বাড়ি কেনা, চাকরি বদল, সন্তানের স্কুল নির্বাচন — এসব একাই নিয়ে ফেলেন, স্ত্রীকে শুধু জানিয়ে দেন। এই অভ্যাস স্ত্রীর মনে ধীরে ধীরে একটা অনুভূতি তৈরি করে যে তার মতামতের কোনো মূল্য নেই সংসারে, আর এই অনুভূতিই দীর্ঘমেয়াদে ভালোবাসার অনুভূতিতে ভাটা টানে।
স্ত্রীর সীমাবদ্ধতা ও ক্লান্তি মেনে নেওয়া
অনেক স্বামী ধরে নেন স্ত্রীর কাজের কোনো সীমা নেই — অফিস থেকে ফিরে এসেও তিনি সমান উদ্যমে রান্না করবেন, সন্তান সামলাবেন, মেহমানদারি করবেন। এই প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত না। শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি একজন মানুষের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা, নারী হোক বা পুরুষ। স্ত্রী যখন ক্লান্তি প্রকাশ করেন, তখন তা অলসতা বা অনীহা হিসেবে না দেখে বাস্তব প্রয়োজন হিসেবে দেখাটাই ন্যায্য। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পরের সময়টায়, বা শারীরিক অসুস্থতার সময়ে বাড়তি সহানুভূতি ও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, আর এই সময়ে স্বামীর সহযোগিতা স্ত্রীর মনে গভীরভাবে গেঁথে থাকে সারাজীবন।
কথা বলার ধরন বদলে দিতে পারে অনেক কিছু
স্ত্রীর কোনো ভুলের সমালোচনা করার সময় ভাষার ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। "তুমি সবসময় এমন করো" বা "তোমার দ্বারা কিছুই হয় না" জাতীয় সাধারণীকরণ করা মন্তব্য গভীর ক্ষত তৈরি করে, যেখানে নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে শান্তভাবে কথা বলা অনেক বেশি কার্যকর। যেমন, "আজকে যে ব্যাপারটা হলো, এভাবে না করে অন্যভাবে করলে ভালো হতো" — এই ধরনের নির্দিষ্ট, অনুযোগহীন বাক্য স্ত্রীকে রক্ষণাত্মক না করে বরং কথাটা শুনতে সাহায্য করে। বিয়ের অনেক বছর পরও অনেক দম্পতি এই সাধারণ কথা বলার কৌশলটা রপ্ত করেন না, অথচ এটাই দৈনন্দিন সংঘাতের একটা বড় অংশ কমিয়ে দিতে পারে।
ভালোবাসা হঠাৎ হারিয়ে গেলে
স্বাভাবিক একঘেয়েমির বাইরেও কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আগে গভীর ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও তা হঠাৎ, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শীতল হয়ে গেছে, সাথে থাকে অস্বাভাবিক আচরণ, ঘুমের ব্যাঘাত বা অহেতুক বিরক্তি। এমন পরিস্থিতিতে জাদু বা বদনজরের প্রভাব যাচাই করার জন্য রুকইয়াহর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে, তবে এটাকে প্রথম অনুমান বানানো ঠিক না — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর পেছনে মানুষের সাধারণ মানসিক ক্লান্তি বা যোগাযোগের ঘাটতিই কাজ করে।
সম্পর্কের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে, আর নিজেদের চেষ্টায় কোনো পরিবর্তন না এলে একজন পারিবারিক কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া বিবেচনা করুন। বিশেষ করে যদি দেখা যায় স্বামী নিজে থেকে কোনো পরিবর্তনে আগ্রহী না, বা প্রতিটা আলোচনা তর্কে গিয়ে ঠেকে, তাহলে তৃতীয় কোনো প্রশিক্ষিত মানুষের উপস্থিতি কথোপকথনকে অনেক বেশি ফলপ্রসূ করতে পারে। আলশিফায় এই বিষয়ে বসার জন্য নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪৯৯ টাকায়, আর জরুরি প্রয়োজনে রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইট থেকে বুক করা যায়, বাংলা কিউআর কোডে পেমেন্ট নিশ্চিত করলে যোগাযোগের নম্বর পাঠানো হয়।
মনে রাখা দরকার, প্রকৃত নিরাময় ও সমাধান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে — কোনো বশীকরণ, তাবিজ বা তদবির শাস্ত্রের আমল দিয়ে জোর করে ভালোবাসা তৈরি করা যায় না, আর ইসলামে তার অনুমতিও নেই। যা করা যায়, তা হলো নিজের আচরণ বদলানো, দোয়া করা, আর ধৈর্য ধরে সময় দেওয়া — ফলাফলের কোনো নিশ্চয়তা নেই, কিন্তু আন্তরিক চেষ্টা কখনো বৃথা যায় না আল্লাহর কাছে। সুরাইয়ার মতো অসংখ্য স্ত্রী শুধু এইটুকুই চান — তাদের পরিশ্রম কেউ একজন লক্ষ করুক, স্বীকৃতি দিক, আর মাঝেমধ্যে থামুক শুধু তাদের সাথে থাকার জন্য।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- স্বামীর রাগের মাথায় তালাক শব্দ বলে ফেলা: করণীয় ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
- প্রবাসফেরত স্বামীর সংসারে মানিয়ে নিতে না পারা ও স্ত্রীর স্বাধীনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
- সন্তানেরা বড় হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি ও দূরত্ব
- স্বামীর মাদকাসক্তি বা জুয়ার নেশায় সংসার ধ্বংসের মুখে: স্ত্রীর করণীয়
- তালাকের পর সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ইসলামি নির্দেশনা
- বারবার গর্ভপাতের কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ও মানসিক যন্ত্রণা