
চাকরি বার বার না পাওয়ার পেছনে বাস্তব ও আধ্যাত্মিক কারণ
চাকরি বারবার হাতছাড়া হলে আগে সিভি-ইন্টারভিউয়ের ঘাটতি যাচাই জরুরি, তারপর প্রয়োজনে আধ্যাত্মিক কারণও বিবেচনায় আনা যায়।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
চাকরি না পাওয়ার পেছনে সবসময় জ্বিন-জাদু বা আধ্যাত্মিক বাধা থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণ থাকে সিভিতে, ইন্টারভিউর প্রস্তুতিতে অথবা যে বাজারে আবেদন করা হচ্ছে তার বাস্তবতায়। এই সত্যিটা আগে মেনে নেওয়া দরকার, তা না হলে আসল সমস্যা এড়িয়ে শুধু দোয়া-তাবিজ খুঁজতে খুঁজতে সময় নষ্ট হয়।
প্রথমে বাস্তব কারণগুলো যাচাই করা দরকার
- সিভি পুরোনো ধাঁচের, চাকরির বিজ্ঞাপনে চাওয়া দক্ষতার সাথে মিল নেই
- ইন্টারভিউতে নিজের কথা গুছিয়ে উপস্থাপন করতে না পারা
- যে সেক্টরে আবেদন করা হচ্ছে সেখানে পদের তুলনায় প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি
- প্রত্যাশিত বেতনের সাথে বাজারদরের বড় ফারাক
- পরিচিত মহলে নিজের যোগ্যতা জানানোর ঘাটতি — শুধু অনলাইনে আবেদন করে বসে থাকা
- একই ধরনের কয়েকটা প্রতিষ্ঠানেই বারবার চেষ্টা করা, বিকল্প খাত বা পদ বিবেচনা না করা
কখন প্রশ্নটা আধ্যাত্মিক দিকেও যায়
এই কারণগুলো যাচাই করে ঠিক করার পরও যদি একই প্যাটার্ন বারবার দেখা যায় — যেমন প্রতিটা ধাপে ভালোভাবে এগিয়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তে অস্পষ্ট কারণে বাদ পড়া, নিয়োগ প্রায় নিশ্চিত হয়ে হঠাৎ পদটাই বাতিল হয়ে যাওয়া, বা পরিবারে আগে থেকেই এমন ব্যাখ্যাতীত বাধার ইতিহাস থাকা — তখন অনেকে প্রশ্ন করেন এর পেছনে হাসাদ (হিংসা), নজর বা অন্য কোনো আধ্যাত্মিক প্রভাব আছে কিনা। ইসলামে হাসাদ ও বদনজরের প্রভাবকে অস্বীকার করা হয়নি, তবে প্রতিটা ব্যর্থতাকেই এর সাথে জড়িয়ে ফেলাও ঠিক না। বাস্তব কারণ যাচাই করে সংশোধনের পরও যদি সন্দেহ থেকে যায়, তখনই বিষয়টা আলাদাভাবে যাচাই করে দেখার সুযোগ থাকে।
তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া না
এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, উটটা বেঁধে রেখে আল্লাহর ওপর ভরসা করব, নাকি ছেড়ে দিয়ে ভরসা করব? জবাবে তিনি বললেন, উটটা বেঁধে রাখো, তারপর ভরসা করো (তিরমিযী, হাদিস ২৫১৭)। এই হাদিসটাই বলে দেয় তাওয়াক্কুলের প্রকৃত অর্থ — নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করে তারপর ফলাফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া, চেষ্টা না করে বসে থাকা নয়। চাকরির ক্ষেত্রে এর মানে দাঁড়ায়, সিভি ঠিক করা, ইন্টারভিউর প্রস্তুতি নেওয়া, নতুন দক্ষতা শেখা, এমনকি প্রয়োজনে ভিন্ন খাতে চেষ্টা করা — এসবই তাওয়াক্কুলের অংশ, দোয়ার বিকল্প না বরং তার সাথী।
প্রস্তুতির পাশাপাশি যে দোয়া ও আমল রাখা যায়
সূরা আশ-শারহ-এ আল্লাহ তাআলা পরপর দুইবার বলেছেন, নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে (আয়াত ৫-৬)। একই কথা দুইবার আসাটা অনেক তাফসিরকারক ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, একটা কষ্ট কখনো একাধিক স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে। বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হতাশার সময় এই আয়াতটা মনে রাখা যায়। এছাড়া নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বা কোনো সিদ্ধান্তে দ্বিধা থাকলে ইস্তিখারার নামাজ পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিয়মিত ইস্তিগফার করা, এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা রাখা — এই অভ্যাসগুলো মনের অস্থিরতা কমিয়ে ধৈর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
যেসব ক্ষেত্রে বাড়তি পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে
বাস্তব প্রস্তুতি ঠিক থাকার পরও যদি বছরের পর বছর একই রকম ব্যাখ্যাতীত বাধা চলতে থাকে, বিশেষ করে পরিবারে আরও কারো ক্ষেত্রেও একই প্যাটার্ন দেখা যায়, তাহলে রুকইয়াহ পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। আলশিফা ডট বিডি-তে ওয়েবসাইট থেকে সময় নিয়ে বাংলা কিউআর কোডে ফি জমা দেওয়া যায় — সাধারণ অ্যাপয়েন্টমেন্টে ৪৯৯ টাকা, রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকা। ফি জমার পর হুজুরের ইমো নম্বর দেওয়া হয়, সেখানে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে।
উটটা বেঁধে রাখো, তারপর ভরসা করো — নবীজির এই একটা কথায় চাকরির খোঁজে থাকা মানুষের জন্য পুরো পথনির্দেশনা লুকানো আছে। সিভি ঠিক করা, প্রস্তুতি নেওয়া, বারবার চেষ্টা করা — এটাও ইবাদতেরই অংশ।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- রুকইয়াহ সেশনে কান্না, কাঁপুনি বা ঘুম পাওয়া - স্বাভাবিক নাকি বিপদের লক্ষণ
- নিজে নিজে রুকইয়াহ করবেন কীভাবে - ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতি
- রুকইয়াহতে কোন সূরা-আয়াত সবচেয়ে বেশি পড়া হয় এবং কেন
- ভালো ও খারাপ স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ইসলামের দৃষ্টিতে কীভাবে বুঝবেন
- দলগত রুকইয়াহ নাকি একক — কোনটা বেশি কার্যকর
- রুকইয়াহর সময় কান্না বা হাসি আসে কেন
https://alshifa.bd/blog/job-search-barriers-spiritual-causes