প্রতিদিনের সুরক্ষার জন্য সকাল-সন্ধ্যার দোয়া সমগ্র

প্রতিদিনের সুরক্ষার জন্য সকাল-সন্ধ্যার দোয়া সমগ্র

সকাল-সন্ধ্যার আযকারের হাদিসভিত্তিক গুরুত্ব, আয়াতুল কুরসির প্রহরীর ঘটনা, প্রতিদিন পড়ার সংক্ষিপ্ত তালিকা এবং কখন শুধু আযকার যথেষ্ট নয় তার বাস্তব নির্দেশনা।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

উত্তরার রওনক আপার ছেলে হঠাৎ করে রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠত, কোনো কারণ ছাড়াই ভয় পেত অন্ধকার ঘরে ঢুকতে। ডাক্তার দেখিয়েছেন, রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন, সবকিছু স্বাভাবিক। শেষে এলাকার একজন পরিচিত আলেমের কাছে গিয়েছিলেন রুকইয়াহর কথা জিজ্ঞেস করতে। আলেম সাহেব প্রথমেই রুকইয়াহতে না গিয়ে একটা সহজ প্রশ্ন করলেন — "আপনার ছেলেকে কি সকাল-সন্ধ্যার দোয়াগুলো শিখিয়েছেন? আপনি নিজে পড়েন?" রওনক আপা কিছুটা লজ্জিত হয়ে স্বীকার করলেন, নামাজ পড়েন ঠিকই, কিন্তু আয়াতুল কুরসি বা মু'আউবিযাতাইনের মতো নির্দিষ্ট আযকার নিয়মিত পড়া হয় না। আলেম সাহেব বললেন, অনেক সময় মানুষ জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে মৌলিক সুরক্ষার আমলটাই ভুলে বসে থাকে। এরপর থেকে রওনক আপা পুরো পরিবার নিয়ে সকাল-সন্ধ্যার আযকার নিয়মিত পড়া শুরু করেছেন।

কেন সকাল-সন্ধ্যার দোয়া একটা সুরক্ষা-বলয়

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন এবং সাহাবীদেরও এই অভ্যাস শিখিয়েছেন। একটা নির্দিষ্ট দোয়া নিয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামাই ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম — অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সাথে পৃথিবী বা আকাশের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৮৮)

হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে এই দোয়া পড়বে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। এই প্রতিশ্রুতিটা এতটাই স্পষ্ট যে একে অবহেলা করাটাই বরং অস্বাভাবিক মনে হওয়া উচিত।

আয়াতুল কুরসির প্রহরী

আয়াতুল কুরসি নিয়ে সহীহ বুখারীতে একটা চমৎকার ঘটনা বর্ণিত আছে। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রমজানের যাকাতের খাদ্যশস্য পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। একজন চোর বারবার এসে শস্য চুরি করার চেষ্টা করত, একরাতে আবু হুরায়রা তাকে ধরে ফেললেন। চোর ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়ে বলল, সে গরিব ও অভাবী। আবু হুরায়রা তাকে ছেড়ে দিলেন, কিন্তু পরের রাতে আবার একই ঘটনা ঘটল, তৃতীয় রাতে আবু হুরায়রা তাকে শক্ত করে ধরে বললেন এবার রাসূলুল্লাহর কাছে নিয়ে যাবেন। তখন চোর — যে আসলে ছিল একজন শয়তান — তাকে বলল, ঘুমাতে যাওয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পড়লে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রহরী নিযুক্ত থাকবে, শয়তান কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। পরদিন আবু হুরায়রা এই ঘটনা রাসূলুল্লাহকে জানালে তিনি বলেছিলেন, "সে তোমাকে সত্য কথাই বলেছে, যদিও সে একজন মিথ্যাবাদী।" এই ঘটনাটাই আয়াতুল কুরসিকে ঘুমানোর আগে ও সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার একটা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর দৈনিক তালিকা

প্রতিদিন পড়ার জন্য একটা বাস্তবসম্মত, সংক্ষিপ্ত তালিকা এখানে দেওয়া হলো, যা দশ মিনিটের বেশি সময় নেয় না।

  • আয়াতুল কুরসি — সকালে ও সন্ধ্যায় একবার করে। সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত, আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত।
  • তিন কুল — সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক্ব ও আন-নাস, প্রতিটি তিনবার করে সকাল-সন্ধ্যায়। ফালাক্ব ও নাস বিশেষভাবে বদনজর, জাদু ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষার জন্য নাযিল হয়েছিল বলে বর্ণিত।
  • সার্বভৌমত্বের ঘোষণা — সকালে "আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ" এবং সন্ধ্যায় "আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহ" পড়া, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত।
  • সুরক্ষার দোয়া তিনবার — "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু" সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার করে।
  • সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার — একবার উভয় সময়ে, ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ হিসেবে বর্ণিত।
  • আউযু বিকালিমাতিল্লাহ — "আউযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা-খলাক্ব" তিনবার, বিশেষত সন্ধ্যায়, সকল সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য।
আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহ — অর্থ: আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং সমস্ত রাজত্ব আল্লাহর জন্য উপনীত হলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। (সূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৭২৩)

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার — ক্ষমা প্রার্থনার রাজা

এই দোয়াকে "সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার" বা ইস্তিগফারের সর্দার বলা হয়, কারণ এতে বান্দা আল্লাহর প্রভুত্ব স্বীকার, নিজের সৃষ্টি হওয়ার কথা, নিজের প্রতিশ্রুতি ও অক্ষমতার কথা, এবং গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা — সবকিছু একসাথে করা হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের বেলা এটা পড়ে আর সন্ধ্যা হওয়ার আগে মারা যায়, সে জান্নাতি হবে; আর যে রাতে পড়ে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সেও জান্নাতি হবে (সহীহ বুখারী)। এই একটা দোয়ার পেছনে এত বড় প্রতিশ্রুতি থাকার পরও অনেকে এটা মুখস্থ করার কষ্টটুকু নেন না, যা সত্যিই দুঃখজনক। মাত্র কয়েকটা বাক্যের এই দোয়াটা একবার মুখস্থ হয়ে গেলে সারাজীবনের জন্য একটা সম্পদ হয়ে থাকে, বিশেষত জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে যখন আর কিছু মনে করার মতো মানসিক অবস্থা থাকে না।

প্রচলিত ভুল ও এড়ানো উচিত যা কিছু

আযকার নিয়ে কিছু ভুল ধারণা ও অভ্যাস প্রায়ই দেখা যায়। একটা সাধারণ ভুল হলো আয়াতুল কুরসি বা সুরক্ষার আয়াত কাগজে লিখে তাবিজের মতো গলায় বা হাতে বেঁধে রাখা, এই বিশ্বাসে যে লেখা কাগজটাই সুরক্ষা দেবে। অধিকাংশ আলেমের মতে এই ধরনের অভ্যাস থেকে বিরত থাকাই উত্তম, কারণ এতে ধীরে ধীরে বস্তুটার প্রতি একটা নির্ভরতা তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রকৃত সুরক্ষা আসে নিজে মুখে পড়া ও অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন থেকে, কোনো লেখা কাগজ বহন করা থেকে নয়। আরেকটা ভুল ধারণা হলো, আযকার নিয়মিত পড়লে জীবনে আর কোনো কষ্ট বা বিপদ আসবে না — এটাও সঠিক নয়। তাকদীরে নির্ধারিত পরীক্ষা, অসুস্থতা বা দুঃখ জীবনে আসবেই, আযকার এখান থেকে সুনির্দিষ্টভাবে শয়তানের প্ররোচনা, জাদু ও অনিষ্টকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়, জীবনের সব ধরনের কষ্ট থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা নয়।

শিশুদের জন্য সহজ সংস্করণ

ছোট শিশুদের জন্য পুরো তালিকা একবারে শেখানো কঠিন, তাই ধাপে ধাপে এগোনো ভালো। প্রথমে শুধু তিন কুল শেখান, ভালোভাবে আয়ত্ত হলে তারপর আয়াতুল কুরসি যোগ করুন, এভাবে ধীরে ধীরে পুরো তালিকা। ছোট বাচ্চাদের জন্য এটা একটা গল্পের মতো করে শেখানো যায় — আয়াতুল কুরসির সেই প্রহরীর ঘটনাটা বাচ্চাদের খুব পছন্দ হয়, আর এভাবে গল্প দিয়ে শেখানো আয়াতগুলো তাদের মনে অনেক বেশি স্থায়ী দাগ কাটে নিছক মুখস্থ করানোর চেয়ে, আর বড় হয়ে গেলেও সেই গল্পের সাথে জড়ানো স্মৃতিটা আয়াতগুলোকে ভুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

কখন পড়বেন

ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়টা সকালের আযকারের জন্য সবচেয়ে উত্তম, আর আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টা সন্ধ্যার আযকারের জন্য। কর্মব্যস্ত জীবনে এই নির্দিষ্ট সময়ে বসে সবকিছু পড়া সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে — অফিসে যাওয়ার তাড়া, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যস্ততা। এমন পরিস্থিতিতে দিনের যেকোনো সময় পড়ে নেওয়াই যথেষ্ট, রিকশা বা বাসে যাতায়াতের সময়, অফিসে পৌঁছে কয়েক মিনিটের বিরতিতে। মূল বিষয়টা হলো নিয়মিততা, নির্দিষ্ট সময়ের কঠোরতা নয়। যারা প্রথমবার শুরু করছেন, তাদের জন্য ফোনে একটা রিমাইন্ডার সেট করে রাখা বা বিছানার পাশে ছোট্ট একটা কার্ডে তালিকা লিখে রাখা প্রথম কয়েক সপ্তাহে সহায়ক হতে পারে, যতক্ষণ না অভ্যাসটা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে।

ঘরের সুরক্ষায় বাড়তি একটা অভ্যাস

ব্যক্তিগত আযকারের পাশাপাশি পুরো ঘরের সুরক্ষার জন্যও একটা গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আছে, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ঘরে সূরা আল-বাক্বারাহ তেলাওয়াত করা হয়, সেই ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায় (সহীহ মুসলিম, হাদিস ৭৮০)। এই একটা হাদিসই ব্যাখ্যা করে কেন অনেক পরিবারে সপ্তাহে অন্তত একবার ঘরে বসে সূরা বাকারার কিছু অংশ তেলাওয়াত করার রীতি আছে, বিশেষত পুরো সূরা একসাথে না পড়া গেলেও শেষের দুই আয়াত ("আমানার রাসূলু...") প্রতি রাতে পড়ার অভ্যাসটা অনেক বেশি প্রচলিত ও ব্যবহারিক। ব্যক্তিগত সুরক্ষার আযকারের পাশাপাশি এই ঘর-কেন্দ্রিক অভ্যাসটাও একই সুরক্ষা-বলয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও অভ্যাস গড়ে তোলা

প্রথম কয়েকদিন তালিকা দেখে দেখে পড়তে হতে পারে, ফোনে সেভ করে রাখা একটা নোট বা ছোট্ট বই সাথে রাখাটা এক্ষেত্রে সহায়ক। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আযকার এমনিতেই মুখস্থ হয়ে যায়, বিশেষত নিয়মিত পড়তে থাকলে। রওনক আপা তার ছেলেকেও এই তালিকা শিখিয়েছেন ছোট ছোট অংশে ভাগ করে — প্রথমে শুধু তিন কুল, তারপর আয়াতুল কুরসি, এভাবে ধীরে ধীরে। কয়েক মাসের মধ্যে ছেলেটা নিজে থেকেই ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া শুরু করেছে, আর রাতের সেই অহেতুক আতঙ্কের প্রকোপও অনেকটা কমে এসেছে।

কখন শুধু আযকার যথেষ্ট নয়

এখানে সততার সাথে বলে রাখা দরকার — সকাল-সন্ধ্যার আযকার নিয়মিত পড়া সত্ত্বেও যদি কারো মধ্যে অস্বাভাবিক ভয়, ঘুমে ব্যাঘাত, শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটা শুধু নিয়মিত আযকারের অভাব নয়, বরং আরও গভীর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যেমন জিন-প্রভাব, জাদুর প্রভাব বা কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে একজন অভিজ্ঞ, দ্বীনদার রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞের কাছে পূর্ণাঙ্গ রুকইয়াহ সেশনের জন্য যাওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সকাল-সন্ধ্যার আযকার প্রতিরোধমূলক সুরক্ষা হিসেবে অসাধারণ, কিন্তু ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া গুরুতর সমস্যার জন্য কখনো কখনো আরও নিবিড়, লক্ষ্যভিত্তিক রুকইয়াহর প্রয়োজন হতে পারে। একটা সহজ তুলনা দিয়ে বোঝা যায় — নিয়মিত আযকার অনেকটা প্রতিদিনের হাত ধোয়ার মতো, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক, কিন্তু ইতিমধ্যে সংক্রমণ হয়ে গেলে শুধু হাত ধোয়া দিয়ে সেটা সারানো যায় না, তখন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দরকার হয়। একইভাবে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র উপসর্গের ক্ষেত্রে শুধু প্রতিরোধমূলক আযকারের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

এটি কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দিকনির্দেশনা, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ, বা তদবির শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমল নয়; সকাল-সন্ধ্যার এই আযকার কোনো যান্ত্রিক মন্ত্র নয়, বরং আল্লাহর কাছে সরাসরি সুরক্ষা চাওয়ার একটা মাধ্যম, আর চূড়ান্ত সুরক্ষা ও সুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। অর্থ বুঝে, মনোযোগ দিয়ে পড়া আর না বুঝে দ্রুত মুখস্থ আওড়ানো — এই দুইয়ের মধ্যে ফলাফলের পার্থক্য অনেক, তাই সময় নিয়ে অর্থগুলো জেনে নেওয়াটাও এই অভ্যাসের একটা জরুরি অংশ।

রওনক আপার পরিবর্তিত সকাল

রওনক আপা এখন প্রতিদিন ফজরের পর কিছুক্ষণ বসে পুরো তালিকাটা পড়েন, ছেলেও পাশে বসে নিজের অংশটুকু আওড়ায়। রাতের সেই আতঙ্কগুলো পুরোপুরি না কমলেও অনেকটা কমেছে, আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হলো রওনক আপার নিজের মানসিক প্রশান্তি — প্রতিদিন সকালে এই কয়েক মিনিটের অভ্যাসটা তাকে একটা নিশ্চয়তা দেয় যে তিনি তার সন্তানের সুরক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে। আলেম সাহেবের সেই ছোট্ট প্রশ্নটা এখন তার কাছে একটা বড় শিক্ষা মনে হয় — কখনো কখনো সমাধান দূরে কোথাও খোঁজার আগে নিজের ঘরের সবচেয়ে মৌলিক অভ্যাসগুলোতে ফিরে তাকানোটাই সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/morning-evening-adhkar


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ