
শাশুড়ির সাথে দ্বন্দ্ব — ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাধান
শাশুড়ির সাথে মতের অমিল কখন স্বাভাবিক, আর কখন তা নিয়ন্ত্রণের রূপ নেয় — সীমারেখা চেনার এবং সম্মানের সাথে সংসার টিকিয়ে রাখার ইসলামি পথ।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
বিয়ের চার মাসের মাথায় রোকসানা প্রথমবার বুঝলেন, রান্নাঘরে ঢোকা মানেই একটা পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া। সেদিন তিনি নিজের মতো করে মুরগির মাংসে জিরাবাটা দিয়েছিলেন, শাশুড়ি রান্নাঘরে ঢুকেই নাক কুঁচকে বললেন, "আমাদের বাড়িতে এভাবে রান্না হয় না, তোমার মা তোমাকে এসব শেখায়নি?" রাতে খাবার টেবিলে স্বামী পাশে বসে থেকেও কিছু বললেন না, মাথা নিচু করে ভাত খেয়ে গেলেন। সেই রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে রোকসানা বুঝলেন, এই লড়াইটা শুধু জিরাবাটা নিয়ে না — এটা আসলে নিজের ঘরে নিজের একটা জায়গা করে নেওয়ার লড়াই, যেখানে প্রতিটা ছোট সিদ্ধান্তেও যেন অনুমতি লাগে।
এই দৃশ্য বাংলাদেশের অসংখ্য নতুন সংসারে অচেনা কিছু না। রান্নার নিয়ম, সন্তান লালন-পালনের ধরন, টাকাপয়সা খরচের হিসাব, এমনকি শোবার ঘরের পর্দার রং পর্যন্ত — প্রতিটা ছোট সিদ্ধান্তে যখন তৃতীয় একজনের অনুমোদন লাগে, তখন সেই সংসারে বধূর জন্য নিজের বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। অথচ ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে যেভাবে সাজিয়েছে, সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটা নির্দিষ্ট স্বকীয়তা ও মর্যাদা থাকার কথা।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সংসারে বিরোধ দেখা দিলে কী করতে হবে তার একটা সুস্পষ্ট পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন।
ওয়া ইন খিফতুম শিক্বাক্বা বাইনিহিমা ফাবআছু হাকামান মিন আহলিহি ওয়া হাকামান মিন আহলিহা, ইন ইউরিদা ইসলাহান ইউওয়াফফিক্বিল্লাহু বাইনাহুমা — অর্থ: যদি তোমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে পুরুষের পরিবার থেকে একজন এবং নারীর পরিবার থেকে একজন সালিশকারী নিযুক্ত করো; তারা সংশোধন চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মিল করিয়ে দেবেন। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৫)
এই আয়াত থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি বোঝা যায় — পরিবারের হস্তক্ষেপ ইসলামে নিষিদ্ধ না, বরং স্বীকৃত, কিন্তু সেই হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে হবে ন্যায্য সমাধান, কোনো এক পক্ষকে দমিয়ে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না। শাশুড়ি বা অন্য আত্মীয়স্বজনকে সংসার থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার কথা কুরআন বলে না, কিন্তু তাদের ভূমিকা সালিশকারীর মতো হওয়া উচিত, শাসকের মতো না।
স্বাভাবিক মতের অমিল আর নিয়ন্ত্রণের মাঝে যে সীমারেখা
দুই প্রজন্মের অভ্যাস, রুচি আর জীবনযাপনের ধরন আলাদা হবে, এটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা না। শাশুড়ি হয়তো লবণ কম দিতে বলেন, বধূ হয়তো নিজের মতো মসলা ব্যবহার করতে চান। এই ধরনের মতের অমিল প্রতিটা যৌথ পরিবারেই থাকে, আর এটাকে সমস্যা হিসেবে দেখারও কিছু নেই। কিন্তু যখন প্রতিটা সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ আসে, স্বামীর সামনে বধূকে ছোট করার চেষ্টা হয়, তার বাবার বাড়িকে নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, বা তাকে তার নিজের সংসারেই অতিথির মতো অনুভব করানো হয়, তখন সেটা আর মতের অমিল থাকে না, নিয়ন্ত্রণের একটা কাঠামোয় রূপ নেয়। এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝাটা জরুরি, কারণ প্রথমটার সমাধান ধৈর্য আর মানিয়ে নেওয়া, দ্বিতীয়টার সমাধান স্পষ্ট সীমারেখা টানা।
কেন এই দ্বন্দ্ব এত গভীর হয়ে ওঠে
ছেলের ওপর অধিকার হারানোর ভয়
অনেক শাশুড়ির আচরণের পেছনে গভীরভাবে কাজ করে একটা ভয় — ছেলে বিয়ের পর তার প্রতি আগের মতো মনোযোগ দেবে না, নতুন বউয়ের কাছে তার গুরুত্ব কমে যাবে। এই নিরাপত্তাহীনতা থেকেই অনেক সময় জন্ম নেয় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা — বধূর প্রতিটা কাজে খুঁত ধরা, ছেলেকে বধূর বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া, বা তুলনা টেনে বধূকে ছোট করা। এই ভয়টা বোঝা গেলে বধূর জন্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কিছুটা সহজ হয়, কারণ তখন আক্রমণটা ব্যক্তিগত আক্রোশ মনে না হয়ে একটা নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ মনে হয়।
তুলনা ও প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি
আত্মীয়স্বজনের আড্ডায় "আমাদের বাড়ির বউ" নিয়ে গর্ব করা বা "ওই বাড়ির বউ কত ভালো রাঁধে" এই ধরনের তুলনা সমাজে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে এর ক্ষতিকর দিকটা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। প্রতিদিন এমন তুলনার মুখোমুখি হতে হতে একজন নারীর আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে, আর ঘরের ভেতরে একটা প্রতিযোগিতামূলক, অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়।
আর্থিক নির্ভরতা ও ক্ষমতার হিসাব
যেসব সংসারে স্বামীর আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল, সেখানে অর্থনৈতিক ক্ষমতার একটা হিসাব সবসময় কাজ করে। শাশুড়ি হয়তো মনে করেন সংসারের চাবি তার হাতেই থাকা উচিত, কারণ ঘরটা তার ছেলের উপার্জনে চলে। এই মানসিকতা থেকে বধূর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকেও সীমিত করে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যদিও ইসলামি বিধান অনুযায়ী স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ ও সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা তার একান্ত অধিকার, এমনকি স্বামীর সম্পত্তির ওপরও তার নির্দিষ্ট অধিকার নির্ধারিত আছে।
বাবার বাড়ি যাওয়া-আসার ওপর অলিখিত নিয়ন্ত্রণ
অনেক সংসারে বধূর বাবার বাড়ি যাওয়ার বিষয়টা একটা অলিখিত হিসাবনিকাশের মধ্যে পড়ে যায়, কত ঘন ঘন যাচ্ছে, কতদিন থাকছে, কী নিয়ে যাচ্ছে, কী নিয়ে ফিরছে। প্রতিবার যাওয়ার আগে অনুমতি চাইতে হয়, আর অনুমতি পাওয়ার পরেও কথার ভেতর দিয়ে বোঝানো হয় যে এটা একটা সুবিধা, অধিকার না। অথচ ইসলামে স্ত্রীর নিজের বাবা-মা, ভাইবোনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা তার একান্ত অধিকার এবং একইসাথে দায়িত্বও, রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করার নির্দেশ কুরআনে বারবার এসেছে। এই অধিকারকে সংসারের অনুগ্রহ বানিয়ে ফেলাটা একটা সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের রূপ, যা বাইরে থেকে বোঝা কঠিন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একজন নারীকে ক্রমশ একা করে ফেলে, নিজের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
স্বামীর ভূমিকা — এখানেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়
এই সমস্যার সমাধান বা স্থায়িত্ব, দুটোই আসলে অনেকাংশে নির্ভর করে স্বামীর ভূমিকার ওপর। মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই পক্ষকেই খুশি রাখার চেষ্টায় অনেক পুরুষ কোনো পক্ষ না নিয়ে চুপ থাকেন। এতে তিনি হয়তো মনে করেন তিনি নিরপেক্ষ থাকছেন, কিন্তু বাস্তবে স্ত্রীর কাছে এই নীরবতার অর্থ দাঁড়ায়, তাকে একাই এই লড়াই লড়তে হচ্ছে, স্বামীর সমর্থন ছাড়াই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পারিবারিক আচরণ সম্পর্কে বলেছেন।
খাইরুকুম খাইরুকুম লি-আহলিহি, ওয়া আনা খাইরুকুম লি-আহলি — অর্থ: তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস ৩৮৯৫)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট, একজন পুরুষের মর্যাদা তার মায়ের প্রতি বাধ্যগত থাকায় প্রমাণিত হয় না, বরং স্ত্রীর প্রতি ন্যায্য আচরণেও প্রমাণিত হয়। মাকে সম্মান করা আর স্ত্রীর ওপর অন্যায় হতে দেখেও চুপ থাকা, এই দুটো এক জিনিস না। একজন স্বামী যখন স্ত্রীর পক্ষে ন্যায্যভাবে কথা বলেন, এতে মায়ের প্রতি অসম্মান হয় না, বরং সংসারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। মাকে সরাসরি আলাদাভাবে, শ্রদ্ধার সাথে বুঝিয়ে বলা যে তার এই আচরণ সংসারে অশান্তি তৈরি করছে, এটাই প্রকৃত ভারসাম্য, নীরব থেকে দুই পক্ষকেই ক্ষুব্ধ রাখা না।
মুখের কথায় সংযম ও বাস্তবসম্মত করণীয়
উত্তেজনার মুহূর্তে যা বলে ফেলা হয়, তার রেশ অনেকদিন থেকে যায়। শাশুড়ির কোনো কথায় কষ্ট পেলেও তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব না দিয়ে একটু সময় নেওয়াটা অনেক সময় সম্পর্ক বাঁচিয়ে দেয়। এর মানে এই না যে অন্যায় নীরবে সহ্য করে যেতে হবে, বরং রাগের মাথায় নয়, ঠান্ডা মাথায় নিজের কথাটা বলার চেষ্টা করা।
ব্যবহারিকভাবে এটা করা যেতে পারে এভাবে — সরাসরি অভিযোগের ভাষায় না গিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, যেমন "আম্মা যখন এভাবে বলেন, আমার খারাপ লাগে, আপনি একটু বুঝিয়ে বলবেন?" এই ধরনের বাক্য অভিযোগের চেয়ে অনুরোধের মতো শোনায়, আর স্বামীর জন্যও তা গ্রহণ করা সহজ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রতিটা মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না নিয়ে, কোনটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা নিছক বিরক্তিকর অভ্যাস, তা আলাদা করে চেনার অনুশীলন করাও সাহায্য করে। প্রতিটা কথায় প্রতিক্রিয়া দেখালে শক্তি ফুরিয়ে যায়, তাই লড়াইটা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
- স্বামীর সাথে সরাসরি কথা বলুন, শাশুড়ির নামে অভিযোগের ভাষায় না বলে নিজের অনুভূতি ও প্রয়োজনের ভাষায় বলুন
- প্রতিটা ছোট ঘটনা নিয়ে তর্কে না জড়িয়ে বড়, বারবার ঘটতে থাকা প্যাটার্নগুলোতে মনোযোগ দিন
- সম্ভব হলে নিজস্ব কিছু জায়গা বা সময়ের ব্যবস্থা রাখুন — নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে কিছুটা সময় কাটানো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা না, বরং সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়
- প্রয়োজনে পরিবারের সম্মানিত কোনো মুরুব্বি বা স্থানীয় আলেমকে মধ্যস্থতায় আনুন, একপাক্ষিক বিচার চাওয়ার জন্য না, বরং কুরআনের নির্দেশিত সালিশি পদ্ধতি অনুসরণ করে
- নিজের সন্তানের সামনে শাশুড়ির নামে ক্ষোভ প্রকাশ না করা, যাতে সন্তান পারিবারিক সম্মানের শিক্ষা পায়
এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার জন্য নিয়মিত দোয়া করা যায়, একইসাথে নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখার সাহসও রাখতে হয়। ইসলাম কখনো নারীকে সীমাহীন অপমান নীরবে মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেয় না, বরং সম্মানের সাথে, প্রজ্ঞার সাথে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে।
নিজের মানসিক সুস্থতার প্রতি যত্নশীল হওয়া
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই টানাপোড়েনে অনেক নারী নিজের মানসিক অবস্থার কথা ভুলেই যান, কারণ সংসারের বাকি সবকিছু সামলাতে গিয়ে নিজের কথা ভাবার সময়ই পান না। ঘুম কমে যাওয়া, খাওয়ায় অনীহা, ছোট ছোট বিষয়ে অতিরিক্ত কান্না পাওয়া বা সারাক্ষণ একটা চাপা উদ্বেগ অনুভব করা — এগুলো উপেক্ষা করার মতো লক্ষণ না। নিজের একটা বিশ্বস্ত বৃত্ত তৈরি করা জরুরি, হতে পারে সেটা মা-বোন, ঘনিষ্ঠ কোনো বান্ধবী বা একজন কাউন্সেলর, যাদের সাথে নিয়মিত মন খুলে কথা বলা যায়। নিজেকে সবসময় ধৈর্যের প্রতীক বানিয়ে রাখার চেষ্টায় নিজের কষ্টটাকেই অস্বীকার করে ফেলা কোনো সমাধান না।
কখন পেশাদার সাহায্য প্রয়োজন
এই দ্বন্দ্ব যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং মানসিকভাবে ভীষণ ক্লান্ত করে ফেলে, তাহলে সেটা নিয়ে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়া লজ্জার কিছু না। একজন ম্যারিজ কাউন্সেলর বা পারিবারিক থেরাপিস্ট অনেক সময় এমন একটা নিরপেক্ষ জায়গা তৈরি করে দিতে পারেন, যেখানে দুই পক্ষই নিজেদের কথা বলার সুযোগ পান। অনেক সময় পরিবারে বারবার একই প্যাটার্নের অশান্তি, অহেতুক সন্দেহ, অস্বাভাবিক তিক্ততা বা ঘরের অশান্তির পাশাপাশি অস্বাভাবিক শারীরিক-মানসিক উপসর্গ দেখা দিলে রুকইয়াহর মাধ্যমে সেই দিকটাও যাচাই করে দেখা যায়। আলশিফায় নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪৯৯ টাকায়, আর রাত ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ টাকায় ওয়েবসাইট থেকে বুক করার সুযোগ আছে। বুকিং সম্পন্ন করে বাংলা কিউআর কোডে পেমেন্ট দিলে হুজুরের যোগাযোগ নম্বর পাঠানো হয়।
নিশ্চয়তা নেই, তবু চেষ্টা মূল্যবান
এটা স্বীকার করা জরুরি যে প্রতিটা শাশুড়ি-বধূর সম্পর্ক সহজ হয়ে ওঠে না, এবং কিছু ক্ষেত্রে বছরের পর বছর চেষ্টার পরও সম্পর্কের তিক্ততা পুরোপুরি কাটে না। এখানে যা বলা হয়েছে তা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ মাত্র, পেশাদার কাউন্সেলিং বা প্রয়োজনে আইনি পরামর্শের বিকল্প না। নিরাময় বা সমাধান একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, কোনো বশীকরণ, পাল্টা জাদু, তাবিজ বা তদবির-শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমলের মাধ্যমে শাশুড়ির মন পরিবর্তনের দাবি এখানে করা হচ্ছে না, বরং শুধুমাত্র কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়াহ ও ইসলামি পরামর্শের কথাই বলা হচ্ছে।
নিজের ঘরে নিজেকে অতিথি মনে হওয়া থেকে বড় ক্লান্তি কমই আছে। কিন্তু সেই অনুভূতিটা প্রথমে নিজে স্বীকার করা, তারপর সম্মানের সাথে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করা, এখান থেকেই প্রকৃত সমাধানের যাত্রা শুরু হয়। রাগ বা প্রতিশোধ না, বরং প্রজ্ঞা আর ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই দীর্ঘমেয়াদে একটা সংসারকে শান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- স্বামীর রাগের মাথায় তালাক শব্দ বলে ফেলা: করণীয় ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
- প্রবাসফেরত স্বামীর সংসারে মানিয়ে নিতে না পারা ও স্ত্রীর স্বাধীনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
- সন্তানেরা বড় হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি ও দূরত্ব
- স্বামীর মাদকাসক্তি বা জুয়ার নেশায় সংসার ধ্বংসের মুখে: স্ত্রীর করণীয়
- তালাকের পর সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব ও ইসলামি নির্দেশনা
- বারবার গর্ভপাতের কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ও মানসিক যন্ত্রণা
https://alshifa.bd/blog/mother-in-law-conflict-islamic-approach