
প্রবাসীদের জন্য সুরক্ষার দোয়া ও আমল
প্রবাসে একা থাকা মানুষের জন্য সফরের দোয়া, দৈনন্দিন সুরক্ষার আমল এবং একাকীত্ব ও প্রতারণা মোকাবেলার বাস্তব পথনির্দেশ।
লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ
রাত তখন দুইটা, দুবাইয়ের একটা লেবার ক্যাম্পের রুমে আটজন মানুষ গাদাগাদি করে ঘুমাচ্ছে, কিন্তু রফিক ভাইয়ের চোখে ঘুম নেই। দেশে ছেড়ে আসা স্ত্রী-সন্তানের মুখ বারবার চোখে ভাসছে, ফোনের নেটওয়ার্ক নেই, মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে। এমন রাত বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রবাসী পরিবারের সাথে জড়িত কারো না কারো জীবনে এসেছে। বিদেশে একা থাকা মানুষগুলো শুধু শারীরিক পরিশ্রমের চাপেই থাকেন না, তাদের সাথে থাকে একটা চাপা মানসিক লড়াই — পরিচিত মুখ, পরিবারের সাহচর্য আর নিজের ভাষার মানুষ ছাড়া একটা অচেনা জগতে টিকে থাকার লড়াই।
কেন প্রবাসীদের জন্য আধ্যাত্মিক সুরক্ষা আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ
দেশে থাকলে একটা মানুষ পরিবারের দোয়া, মসজিদের পরিচিত পরিবেশ, বন্ধু-স্বজনের সাহচর্য পায় — এই সবকিছুই একটা অদৃশ্য সুরক্ষাবলয় তৈরি করে। প্রবাসে এই বলয়টা হঠাৎ করে ভেঙে যায়। নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি, কঠোর কাজের সময়সূচি আর একাকীত্ব মিলিয়ে অনেকে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই কখনো প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়, কখনো মানুষ নিজে থেকেই ভুল পথে সান্ত্বনা খুঁজতে শুরু করেন। তাই প্রবাসী জীবনে দোয়া-আমলের চর্চা শুধু ধর্মীয় কর্তব্য নয়, এটা একটা বাস্তব মানসিক আশ্রয়ও।
দেশ ছাড়ার আগে যে দোয়া মুখস্থ রাখা জরুরি
বিমানবন্দরে পরিবার ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তটা সবচেয়ে ভারী। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে যখন কাউকে সফরে পাঠাতেন, তখন তাকে একটা নির্দিষ্ট দোয়া দিয়ে বিদায় জানাতেন।
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ
উচ্চারণ: আসতাওদি'উল্লাহা দ্বীনাকা, ওয়া আমানাতাকা, ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।
অর্থ: আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার কর্মের সমাপ্তি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।
সূত্র: সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ৩৪৪৩
প্রবাসগামী প্রতিটি মানুষের উচিত পরিবারের কাছ থেকে এই দোয়া শুনে যাওয়া, আর নিজের মোবাইলে লিখে রাখা যাতে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়েও একবার মনে করে নিতে পারেন। এটা শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা নয় — এই দোয়ার মধ্যে একটা মানসিক প্রস্তুতিও লুকিয়ে আছে, যাতে নিজের দ্বীন, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া যায়।
বাহনে ওঠার সময়ের দোয়া
বিমানে, বাসে বা গাড়িতে ওঠার সময় কুরআনে শেখানো একটা দোয়া আছে, যা মন শান্ত করার জন্য কার্যকর।
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَـٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাযি সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবুন।
অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা যিনি এই বাহনকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অথচ আমরা নিজেরা একে বশে আনতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই ফিরে যাব।
সূত্র: সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত ১৩-১৪
নতুন দেশে দৈনন্দিন সুরক্ষার আমল
নতুন পরিবেশে পা রাখার প্রথম দিন থেকেই একটা রুটিন তৈরি করে ফেলা উচিত। সকালে ফজরের পর এবং সন্ধ্যায় মাগরিবের আগে-পরে আয়াতুল কুরসি ও মু'আউবিযাতাইন (সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস) তিনবার করে পড়া — এই আমলগুলো একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় সুরক্ষাকবচ হিসেবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। কর্মস্থলে যত ব্যস্ততাই থাকুক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়টুকু বের করার চেষ্টা করা উচিত — এই নামাজই দিনের মধ্যে বারবার মনকে দেশের সাথে, দ্বীনের সাথে সংযুক্ত রাখে।
একাকীত্ব ও মানসিক চাপ মোকাবেলার দোয়া
প্রবাসজীবনের সবচেয়ে ভারী বোঝা প্রায়ই টাকা-পয়সার চাপ নয়, বরং একাকীত্ব। এই অনুভূতি মোকাবেলায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে একটা দোয়া নিয়মিত পড়তেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আ'উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবন, ওয়া দালা'ইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রাধান্য থেকে আশ্রয় চাই।
সূত্র: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৮৯৩
রাতের নির্জনতায় যখন মন ভারী হয়ে আসে, তখন এই দোয়াটা কয়েকবার পড়া, সাথে সূরা ইয়াসিন বা যেকোনো পরিচিত সূরা তেলাওয়াত করা মনের ওজন অনেকটাই হালকা করে দেয়। এটা কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী সমাধান নয়, বরং একটা ধীর, স্থায়ী প্রশান্তির উৎস।
প্রবাসে প্রতারণার নতুন নতুন ফাঁদ
পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা মানুষদের টার্গেট করে একধরনের প্রতারক চক্র সবসময় সক্রিয় থাকে। এদের একটা কমন কৌশল হলো ফোন করে বলা, "আপনার পরিবারের ওপর জাদু করা হয়েছে, আমাকে টাকা পাঠান নাহলে বড় বিপদ হবে।" আরেকটা কৌশল হলো প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে দামি তাবিজ বিক্রি করা, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে এটা পরলে ভিসার মেয়াদ বাড়বে বা মালিকের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকবে। এই ধরনের কোনো দাবি শুনলেই সতর্ক হওয়া উচিত — না কোনো তাবিজ ভিসা টিকিয়ে রাখতে পারে, না কোনো ফোনকল দিয়ে দূর থেকে পরিবারের ওপর জাদুর নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের আগে দেশে থাকা পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলে নিশ্চিত হওয়া, এবং টাকা পাঠানোর আগে একাধিকবার যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
পরিবারের ভূমিকা যা অনেকে অবহেলা করেন
দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও একটা দায়িত্ব থাকে। শুধু টাকা পাঠানোর তাগাদা না দিয়ে নিয়মিত প্রবাসী প্রিয়জনের খোঁজ নেওয়া, তার মানসিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করা, এবং তার জন্য নিয়মিত দোয়া করা — এই তিনটে জিনিস প্রবাসী মানুষটার মানসিক শক্তির অনেক বড় উৎস হয়ে ওঠে। সন্তান বা স্বামীর জন্য বাবা-মা বা স্ত্রীর করা দোয়া সাধারণ দোয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় বলে হাদিসে উল্লেখ আছে, বিশেষ করে যখন তা অনুপস্থিতিতে করা হয়।
ধর্মীয় পরিবেশ খুঁজে নেওয়ার গুরুত্ব
নতুন শহরে পা রাখার পর কাছাকাছি একটা মসজিদ খুঁজে বের করা এবং সেখানে নিয়মিত যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। জুমার নামাজে গিয়ে পরিচিত মুখ খুঁজে পাওয়া, বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ রাখা — এসব শুধু সামাজিক সংযোগ নয়, একটা আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা বলয়ও তৈরি করে। যারা পুরোপুরি একা থাকেন, তাদের জন্য অনলাইনে দ্বীনি আলোচনা শোনা, কুরআন তেলাওয়াতের অডিও চালিয়ে রাখা কাজের ফাঁকে একটা বড় সহায়ক অভ্যাস হতে পারে।
যেসব সময় বাড়তি সতর্কতা দরকার
বেতন না পাওয়া, মালিকের সাথে সমস্যা বা ভিসা জটিলতার মতো কঠিন সময়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্বল থাকে, আর ঠিক এই সময়টাতেই প্রতারকরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। এমন কঠিন সময়ে কারো কাছ থেকে "বিশেষ আমল করলে সব ঠিক হয়ে যাবে" এই ধরনের প্রতিশ্রুতি এলে যাচাই না করে বিশ্বাস না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দূতাবাস, বৈধ শ্রমিক সংগঠন বা পরিবারের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়াই বাস্তবসম্মত পথ।
হালাল রুজি বজায় রাখার লড়াই
প্রবাসে অনেক সময় এমন কাজের পরিবেশে পড়তে হয় যেখানে সততা বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে — মালিক মিথ্যা বলতে বলছেন, বাড়তি ঘুষ ছাড়া কাজ আটকে যাচ্ছে, বা সহকর্মীরা অসৎ পথে বাড়তি আয়ের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকাটা একটা বড় পরীক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন হালাল রুজি অর্জনের চেষ্টা করা নিজেই একটা ইবাদত। যত কষ্টই হোক, হালাল পথে থাকা রুজিতে যে বরকত আসে তা অসৎ পথের বাড়তি আয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি — এই বিশ্বাসটা মনে দৃঢ় রাখা প্রবাসী জীবনের একটা বড় আধ্যাত্মিক সুরক্ষা।
রমজান ও ঈদ প্রবাসে একা কাটানো
পরিবার ছাড়া প্রথম রমজান বা প্রথম ঈদ কাটানো প্রবাসী জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটা। ইফতারের সময় মায়ের হাতের বানানো খাবারের কথা মনে পড়া, ঈদের সকালে বাবার সাথে নামাজে যাওয়ার স্মৃতি চোখে ভেসে ওঠা — এই আবেগ স্বাভাবিক এবং লুকানোর কিছু নেই। এই সময়টাতে একই দেশের বাংলাদেশি ভাইদের সাথে একসাথে ইফতার-সেহরি করা, মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ পড়া মানসিক সমর্থনের একটা বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। ভিডিও কলে হলেও পরিবারের সাথে ইফতারের মুহূর্তটা ভাগ করে নেওয়া দূরত্বের কষ্টটা কিছুটা হালকা করে।
অসুস্থ হলে প্রবাসে করণীয়
পরিবার পাশে না থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়াটা একটা কঠিন অভিজ্ঞতা। এমন সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের ওপর রুকইয়াহ পড়া যায় — ডান হাত ব্যথার জায়গায় রেখে তিনবার "বিসমিল্লাহ" এবং সাতবার "আউযু বিইয্যাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু" পড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শেখানো একটা পদ্ধতি, যার অর্থ — আমি যা অনুভব করছি এবং যা নিয়ে সতর্ক আছি তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর ক্ষমতা ও শক্তির মাধ্যমে আশ্রয় চাইছি। এই ছোট্ট আমলটা শরীরে ও মনে একসাথে প্রশান্তি এনে দেয়।
দেশে ফেরার পরের অভিযোজনও একটা চ্যালেঞ্জ
বছরের পর বছর প্রবাসে কাটানোর পর দেশে ফিরে আসাটাও কম কঠিন নয়। অনেকে প্রত্যাশা করেন ফিরে গেলেই সব আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে, অথচ বাস্তবে পরিবার, সমাজ ও নিজের ভেতরেই অনেক পরিবর্তন ঘটে যায় এই সময়ের মধ্যে। এই অভিযোজনের সময়টাতেও ধৈর্য ও দোয়ার প্রয়োজন হয় — নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া, পরিবারের সাথে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা একটা ধীর প্রক্রিয়া, যা রাতারাতি ঘটে না। এই সময়ে নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি ধৈর্যশীল থাকা এবং তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।
প্রথম কয়েক মাস সবচেয়ে কঠিন কেন
প্রবাসজীবনের প্রথম তিন থেকে ছয় মাস সাধারণত সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে বিবেচিত হয় — নতুন পরিবেশ, ভাষাগত জটিলতা এবং হোমসিকনেসের তীব্রতা এই সময়টাতে সবচেয়ে বেশি থাকে। যারা নতুন প্রবাসে গেছেন, তাদের জানা দরকার এই কঠিন সময়টা স্থায়ী নয় — সময়ের সাথে সাথে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়ে আসে। এই সময়টাতে বিশেষভাবে নিয়মিত নামাজ ও দোয়ার অভ্যাস ধরে রাখা মানসিক স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে।
গৃহকর্মী ও নার্স হিসেবে কর্মরত নারীদের জন্য বিশেষ কথা
মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী হিসেবে বা বিভিন্ন দেশে নার্স হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি নারীদের পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে আরও জটিল — তারা প্রায়ই মালিকের বাড়িতে একা থাকেন, ফোন ব্যবহারের স্বাধীনতা সীমিত থাকে, নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগও কম। এই পরিস্থিতিতে যেটুকু সময় নিজের জন্য পাওয়া যায়, তার মধ্যেই নামাজ ও দোয়ার অভ্যাস ধরে রাখাটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কাজের ফাঁকে মনে মনে দোয়া পড়া, সুযোগ পেলেই সংক্ষিপ্ত হলেও নামাজ আদায় করা, এবং কোনো বিপদ বা হয়রানির শিকার হলে দূতাবাস বা পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া — এই তিনটে জিনিস এই কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন নারীর মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। মনে রাখা জরুরি, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার দরজা কখনো বন্ধ হয় না — এমনকি এক মুহূর্তের নীরব দোয়াও তার কাছে পৌঁছে যায়।
এটি কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দিকনির্দেশনা, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ, বা তদবির শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমল নয়। প্রবাসে থাকা অবস্থায় কেউ যদি মানসিকভাবে দীর্ঘদিন অস্থির বোধ করেন, ঘুমের সমস্যা বা অস্বাভাবিক ভয়ের অনুভূতি নিয়ে ভোগেন, তাহলে দূরে থেকেও ফোন বা অনলাইনে প্রাথমিক পরামর্শের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। দেশের বাইরে থাকা মানে দ্বীনের সাহায্য থেকে দূরে থাকা নয় — শুধু পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন হয়।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স
আরও পড়ুন
- রুকইয়াহ সেশনে কান্না, কাঁপুনি বা ঘুম পাওয়া - স্বাভাবিক নাকি বিপদের লক্ষণ
- নিজে নিজে রুকইয়াহ করবেন কীভাবে - ধাপে ধাপে সঠিক পদ্ধতি
- রুকইয়াহতে কোন সূরা-আয়াত সবচেয়ে বেশি পড়া হয় এবং কেন
- ভালো ও খারাপ স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য ইসলামের দৃষ্টিতে কীভাবে বুঝবেন
- দলগত রুকইয়াহ নাকি একক — কোনটা বেশি কার্যকর
- রুকইয়াহর সময় কান্না বা হাসি আসে কেন