তসবিহ দিয়ে জিকির করার ফযিলত ও সঠিক নিয়ম

তসবিহ দিয়ে জিকির করার ফযিলত ও সঠিক নিয়ম

জিকিরের গুরুত্ব, তসবিহ ব্যবহার কেন আবশ্যক নয় বরং আঙুলে গোনাই মূল সুন্নাহ, নামাজ-পরবর্তী তসবিহর সঠিক সংখ্যা এবং প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে বিস্তারিত।

লিখেছেন হযরত মাওলানা আল আমিন · প্রকাশ · হালনাগাদ

কুমিল্লার এক গ্রামের বাড়িতে আসরের নামাজের পর আমেনা খাতুন জায়নামাজে বসে থাকেন প্রায় বিশ মিনিট, ডান হাতে একটা কাঠের তসবিহ, বুড়ো আঙুল প্রতিটা দানা ঠেলে ঠেলে সামনে নিয়ে যায়। নাতি একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, "দাদি, তুমি তো মুখে মুখেই গুনতে পারো, তসবিহ কেন লাগে?" আমেনা খাতুন হেসে বলেছিলেন, "চোখ বন্ধ থাকে, মন অন্য জায়গায় চলে যায় রে বাবা, তসবিহর দানা হাতে থাকলে হিসাব হারায় না।" এই ছোট্ট উত্তরটাতেই আসলে তসবিহর গোটা যুক্তিটা লুকিয়ে আছে — এটা কোনো জাদুর বস্তু নয়, নিছক একটা গণনার সহায়ক যন্ত্র, যা মুসলিম সমাজে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতে হাতে ঘুরছে।

জিকির কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

কুরআনে আল্লাহর স্মরণের নির্দেশ বারবার এসেছে, আর সূরা আল-আহযাবে তো সরাসরি "অধিক পরিমাণে" স্মরণ করতে বলা হয়েছে — এমন একটা শব্দচয়ন যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে এভাবে জোর দিয়ে বলা হয়নি।

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুয্কুরুল্লাহা যিকরান কাসীরা — অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। (সূত্র: সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪১)

জিকির মানে শুধু মুখে শব্দ উচ্চারণ নয় — এটা মনকে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনার একটা চর্চা। দিনের বেশিরভাগ সময় মানুষের মন থাকে কাজ, চিন্তা, দুশ্চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত; জিকির সেই ব্যস্ত মনটাকে ছোট ছোট বিরতিতে থামিয়ে আল্লাহর স্মরণে ফিরিয়ে আনে। এই কারণেই সূরা আর-রা'দে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রকৃত প্রশান্তি খুঁজে পায় — আধুনিক মনোবিজ্ঞানও এখন স্বীকার করে যে পুনরাবৃত্তিমূলক, মনোযোগসহ করা কোনো আধ্যাত্মিক চর্চা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক, আর মুসলিমদের কাছে এই সত্যটা চৌদ্দশ বছর ধরেই জানা।

তসবিহ ব্যবহার কি আবশ্যক

এই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, বিশেষত যারা নতুন করে দ্বীন শিখছেন তাদের মধ্যে। উত্তরটা স্পষ্ট — তসবিহ কোনোভাবেই আবশ্যক নয়, বরং মূল সুন্নাহ হলো আঙুলে গুণে জিকির করা। ইয়ুসাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের প্রতি সরাসরি এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ওয়াক্বুদনা বিল আনামিলি ফাইন্নাহুন্না মাসঊলাতুন মুসতানত্বাকাত — অর্থ: তোমরা আঙুলে গুণে জিকির কর, কারণ আঙুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তাদের কথা বলানো হবে। (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৫০১)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আঙুলে গণনা করাটাই বরং মূল ও প্রাচীনতম পদ্ধতি, তসবিহ পরবর্তীতে সাহাবী ও তাবেঈনদের যুগে সংখ্যা মনে রাখার সুবিধার জন্য প্রচলিত হয়েছে। ইতিহাসে পাওয়া যায়, কিছু সাহাবী ও তাবেঈন খেজুরের বীজ বা নুড়ি পাথর গুণে জিকির করতেন, যেখান থেকেই ধীরে ধীরে সুতায় গাঁথা দানার তসবিহতে রূপান্তর ঘটে। তাই তসবিহ ব্যবহার একটা অনুমোদিত, বহুল প্রচলিত ও উপকারী অভ্যাস — এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে এটা ছাড়া জিকির করা যাবে না এমন কোনো ধারণাও ভুল।

নামাজ পরবর্তী নির্দিষ্ট জিকির ও সংখ্যা

প্রতি ফরজ নামাজের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় জিকির করার একটা সুন্দর সুন্নাহ আছে, যার প্রতিদান নিয়ে সহীহ মুসলিমে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।

মান সাব্বাহাল্লাহা ফী দুবুরি কুল্লি সালাতিন সালাসান ওয়া সালাসীন, ওয়া হামিদাল্লাহা সালাসান ওয়া সালাসীন, ওয়া কাব্বারাল্লাহা সালাসান ওয়া সালাসীন — অর্থ: যে ব্যক্তি প্রতি নামাজের পর তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ ও চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পড়বে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (সূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৭)

মোট নিরানব্বই বার হওয়ার পর অনেকে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর" একবার পড়ে সংখ্যাটা একশতে পূর্ণ করেন, যা হাদিসে "একশ বার হলে সমুদ্রের ফেনার সমান গুনাহ থাকলেও মাফ হয়ে যায়" মর্মে আরেকটি বর্ণনায় এসেছে। এই পুরো তসবিহটা শেষ করতে দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি সময় লাগে না, অথচ প্রতিদিন পাঁচবার এই অভ্যাস ধরে রাখলে সেটা জীবনের একটা স্থায়ী অংশে পরিণত হয়ে যায়।

সকাল-সন্ধ্যার বাড়তি জিকির

নির্দিষ্ট নামাজ-পরবর্তী তসবিহ ছাড়াও সকাল-সন্ধ্যায় একশ বার ইস্তিগফার এবং একশ বার কালিমা তাইয়্যিবাহ পড়ার অভ্যাসও হাদিসে বহুলভাবে সুপারিশকৃত। এছাড়া "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" — যা একাই সমুদ্রের ফেনার সমান গুনাহ মাফের অসিলা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে সহীহ বুখারীতে — দিনের যেকোনো সময় বসে, হাঁটতে হাঁটতে বা রিকশা-বাসে যাতায়াতের সময়েও পড়া যায়। তসবিহ হাতে না থাকলেও এই জিকির চালিয়ে যাওয়া যায় শুধু আঙুলে গুণে, ঠিক যেভাবে ইয়ুসাইরাহর হাদিসে নির্দেশিত হয়েছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিকির যা তসবিহতে যোগ করা যায়

নামাজ-পরবর্তী তসবিহ ছাড়াও এমন কিছু ছোট্ট বাক্য আছে যেগুলোর ফযিলত হাদিসে অস্বাভাবিক রকম উঁচু মাপে বর্ণিত হয়েছে, অথচ উচ্চারণ করা কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার মাত্র।

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ — অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই। (সূত্র: সহীহ বুখারী, হাদিস ৪২০৫)

এই বাক্যটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জান্নাতের একটা ধনভাণ্ডার বলে অভিহিত করেছিলেন আবু মুসা আশ'আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা এক হাদিসে। এটা এমন একটা জিকির যা দুশ্চিন্তা বা অসহায়ত্বের মুহূর্তে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক — যখন নিজের চেষ্টা আর যথেষ্ট মনে হয় না, তখন এই বাক্যটা স্মরণ করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের শক্তির উৎস একমাত্র আল্লাহ। এছাড়া "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজীম" নামের আরেকটা জোড়া বাক্য নিয়ে হাদিসে বলা হয়েছে এটা জিহ্বায় হালকা অথচ মিজানের পাল্লায় ভারী এবং আল্লাহর কাছে প্রিয়। প্রতিদিনের তসবিহর তালিকায় এই বাক্যগুলো যোগ করে নিলে জিকিরের বৈচিত্র্য বাড়ে এবং একঘেয়েমি এড়ানো যায়।

তসবিহ কেনার সময় যা বিবেচনা করবেন

বাজারে বিভিন্ন উপাদানের তসবিহ পাওয়া যায় — কাঠের তসবিহ হালকা ও সাশ্রয়ী, নিয়মিত ব্যবহারের জন্য টেকসই। পাথরের তসবিহ (যেমন কাঠ-কয়লা থেকে তৈরি জেট স্টোন বা অ্যাম্বার) কিছুটা ভারী ও দামি হলেও দীর্ঘস্থায়ী। প্লাস্টিক বা রেজিনের তসবিহ সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও হালকা, ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক। দানার সংখ্যা নিয়েও কিছু ভিন্নতা আছে — সবচেয়ে প্রচলিত হলো ৯৯ দানার তসবিহ, যা দিয়ে এক টানে পুরো তসবিহ শেষ করা যায়; আবার ৩৩ দানার ছোট তসবিহও জনপ্রিয়, যা তিনবার ঘুরিয়ে ৯৯ পূর্ণ করা হয় এবং পকেটে বহনের জন্য বেশি সুবিধাজনক। দানার মাঝে সুতা কতটা মজবুত সেটাও একটা বিবেচ্য বিষয় — নিয়মিত ব্যবহারে সস্তা সুতা দ্রুত ছিঁড়ে যায়। যারা হাতে তসবিহ রাখা অস্বস্তিকর মনে করেন, তাদের জন্য ছোট ডিজিটাল ক্লিকার কাউন্টারও একটা ভালো বিকল্প, যা এক ক্লিকেই সংখ্যা গুনে রাখে।

তসবিহ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

তসবিহকে ঘিরে কিছু ভুল বিশ্বাস সমাজে ছড়িয়ে আছে, যেগুলো থেকে সতর্ক থাকা দরকার।

  • তসবিহকে সুরক্ষা-বস্তু মনে করা — কেউ কেউ তসবিহ গলায় ঝুলিয়ে রাখেন বা ঘরের দরজায় টাঙিয়ে রাখেন এই বিশ্বাসে যে এটা বদনজর বা জিন থেকে রক্ষা করবে। তসবিহর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই — এটা শুধু একটা গণনার উপকরণ, কাঠ, পাথর বা প্লাস্টিকের তৈরি একটা বস্তু মাত্র।
  • নির্দিষ্ট পাথর বা রঙে বিশেষ শক্তি আছে ভাবা — বাজারে "সৌভাগ্য আনে" বলে বিক্রি হওয়া পাথরের তসবিহ আসলে একটা বাণিজ্যিক প্রচারণা, এর সাথে ইসলামী কোনো ভিত্তি নেই।
  • সংখ্যার প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা — তসবিহর গণনায় দুই-একটা কম-বেশি হয়ে গেলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পুরোটা আবার শুরু করার প্রবণতা অনেকের মধ্যে দেখা যায়। এটা ওয়াসওয়াসার একটা রূপ — নিয়ত ঠিক থাকলে সামান্য গণনা ভুল কোনো সমস্যা নয়।

রাতে ঘুমানোর আগে তসবিহে ফাতিমা

ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) একবার তাঁর বাবা রাসূলুল্লাহর কাছে ঘরের কাজের কষ্ট লাঘবের জন্য একজন সাহায্যকারী চেয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁকে সাহায্যকারীর বদলে এমন একটা জিনিস শিখিয়েছিলেন যা তাঁর মতে সাহায্যকারীর চেয়েও উত্তম — ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ ও চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার পড়া, যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে এবং আজও "তসবিহে ফাতিমা" নামে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ধার্মিক পরিবারেই এই নামটা পরিচিত, দাদি-নানিরা নাতি-নাতনিদের ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই তসবিহ শিখিয়ে থাকেন। দিনের ক্লান্তির পর বিছানায় শুয়ে এই সংক্ষিপ্ত জিকিরটা করলে মন শান্ত হয়ে আসে, আর এটাই সেই একই তেত্রিশ-তেত্রিশ-চৌত্রিশ সংখ্যা, শুধু সময় ও উপলক্ষ ভিন্ন — নামাজের পরিবর্তে ঘুমানোর আগে।

প্রাত্যহিক জীবনে জিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা

ব্যস্ত জীবনে জিকিরের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটা এমন একটা ইবাদত যা হাত ও মুখ ব্যস্ত রেখেও করা যায়। রান্নাঘরে কাজ করতে করতে, বাসে বা রিকশায় যাতায়াতের সময়, লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় — এই ফাঁকা মুহূর্তগুলোই জিকিরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বর্তমানে স্মার্টফোনে ডিজিটাল তসবিহ কাউন্টার অ্যাপও পাওয়া যায়, যা প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এখানে একটা সতর্কতা মনে রাখা জরুরি — গণনার মাধ্যমটা যাই হোক না কেন, আসল বিষয় হলো মনোযোগ ও অন্তরের উপস্থিতি। শুধু সংখ্যা পূর্ণ করার তাড়ায় যান্ত্রিকভাবে শব্দ আওড়ানো আর প্রতিটা শব্দের অর্থ অনুভব করে জিকির করা — এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক।

পরিবারে জিকিরের সংস্কৃতি

সন্তানদের ছোটবেলা থেকে তসবিহ ব্যবহার শেখানো একটা সুন্দর অভ্যাস তৈরি করে দিতে পারে। আমেনা খাতুনের মতো অনেক দাদি-নানিই বাড়িতে ছোটদের হাতে তসবিহ ধরিয়ে দেন, সংখ্যা গোনার খেলার ছলে সুবহানাল্লাহ শেখান। এভাবে জিকির শুধু বড়দের একটা কর্তব্য না থেকে পুরো পরিবারের একটা ভাগাভাগি করা অভ্যাসে পরিণত হয়।

মানসিক অস্থিরতার সময় জিকিরের ভূমিকা এবং তার সীমাবদ্ধতা

উদ্বেগ, অনিদ্রা বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগা মানুষদের জন্য নিয়মিত জিকির একটা প্রশান্তিদায়ক অভ্যাস হতে পারে, বিশেষত সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত নির্দিষ্ট দোয়া-জিকিরগুলো। তবে এখানে একটা স্পষ্ট সীমারেখা টানা দরকার — জিকির মানসিক প্রশান্তি আনতে সহায়ক হলেও এটা কোনো চিকিৎসা প্রতিস্থাপনকারী নয়। কারো যদি দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ, অবসাদ বা অস্বাভাবিক আচরণগত পরিবর্তন থাকে, জিকিরের পাশাপাশি একজন যোগ্য চিকিৎসক বা প্রয়োজনে অভিজ্ঞ রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষত যদি মনে হয় সমস্যাটার পেছনে জাদু বা জিনের প্রভাব থাকতে পারে।

এটি কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দিকনির্দেশনা, কোনো পাল্টা জাদু, তাবিজ, বা তদবির শাস্ত্রের বই থেকে নেওয়া কোনো আমল নয়; তসবিহ নিজে থেকে কোনো সুরক্ষা দেয় না, বরং জিকিরের মাধ্যমে অন্তরে যে প্রশান্তি ও আল্লাহমুখী মনোযোগ তৈরি হয়, প্রকৃত কল্যাণ সেখান থেকেই আসে, আর চূড়ান্ত ফলাফল আল্লাহর হাতে।

আমেনা খাতুনের তসবিহ

আমেনা খাতুনের সেই কাঠের তসবিহটা এখন প্রায় ক্ষয়ে যাওয়া, দানাগুলো মসৃণ হয়ে গেছে বছরের পর বছর হাতের স্পর্শে। নাতি এখন বড় হয়ে নিজেই একটা তসবিহ রাখে পকেটে, দাদির কাছ থেকে শেখা অভ্যাসটা নিজের জীবনে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন আসরের পর কয়েক মিনিটের এই ছোট্ট অভ্যাসটা তার কাছে এখন আর নিছক দাদির অনুকরণ নয় — এটা তার নিজের একটা প্রশান্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। রাতে ঘুমানোর আগে সে এখন নিজেও তসবিহে ফাতিমা পড়ে, দাদির শেখানো সেই একই তেত্রিশ-তেত্রিশ-চৌত্রিশ সংখ্যা আওড়ে, আর মাঝে মাঝে ভাবে কত সহজ একটা অভ্যাস অথচ কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে জীবনের প্রতিটা দিনের সাথে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন · রুকইয়াহ শারইয়্যাহ সার্টিফিকেট কোর্স

আরও পড়ুন

https://alshifa.bd/blog/tasbih-dhikr-benefits


নিরাময় একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। শারীরিক বা মানসিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শও নিন।

© আল-শিফা · alshifa.bd · ফেসবুক পেজ